TMC Dissolves All Organisational Posts: এক ধাক্কায় সব কমিটি বিলুপ্ত! সংগঠন পুনর্গঠনে বড় পদক্ষেপ TMCর, পদ হারালেন অভিষেক?

TMC Dissolves All Organisational Posts: বিধানসভার অন্দরে দলের বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নজিরবিহীন তৎপরতা এবং কোন্দল যখন চরম আকার ধারণ করেছে, ঠিক সেই আবহেই দলের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 

Published on: Jun 3, 2026, 16:20:22 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

TMC Dissolves All Organisational Posts: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের বড়সড় চাঞ্চল্য। একদিকে যখন বিধানসভা ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের নিয়ে সমান্তরাল বৈঠক চালাচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা, ঠিক তখনই নজিরবিহীন ‘মেজর সার্জারি’ করল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এক ঝটকায় পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্তরের দলীয় কমিটি এবং সমস্ত শাখা সংগঠন অবিলম্বে ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিদ্রোহীদের রাশ টানতে এবং দলের অন্দরে শৃঙ্খলা ফেরাতে কালীঘাটের এটি এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কৌশলগত পদক্ষেপ।

সংগঠন পুনর্গঠনে বড় পদক্ষেপ TMCর (@MamataOfficial)
সংগঠন পুনর্গঠনে বড় পদক্ষেপ TMCর (@MamataOfficial)

তৃণমূলের বিশেষ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট

বুধবার এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে তৃণমূলের তরফে এই বেনজির পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। জোড়াফুল শিবিরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, 'গভীরভাবে পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত কমিটি এবং এর সমস্ত শাখা সংগঠন অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া হল।' সেই সঙ্গে তৃণমূলের স্পষ্ট বার্তা, তৃণমূল কংগ্রেস এবার প্রতিটি স্তরে দলের গভীর আত্মবিশ্লেষণ, কাজের পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক মূল্যায়ন করবে। এই পর্যালোচনার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই মূল দল এবং সমস্ত শাখা সংগঠনগুলিকে নতুন করে সাজানো হবে। পরবর্তীতে যথাসময়ে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো এবং পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করা হবে। দলের তরফে আরও জানানো হয়েছে, 'ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়ার লক্ষ্যে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে দল দায়বদ্ধ।'

বিধানসভার অন্দরে দলের বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নজিরবিহীন তৎপরতা এবং কোন্দল যখন চরম আকার ধারণ করেছে, ঠিক সেই আবহেই দলের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিধানসভার অন্দরে যখন ভাঙনের জল্পনা তীব্র, তখন সংগঠনের সমস্ত কাঠামো ভেঙে দিয়ে দল কার্যত বিদ্রোহীদের পিছু হটতে বাধ্য করতে চাইছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বেড়েছে কারণ এর ঠিক আগে দলের অন্দরে বড় ধরনের বিদ্রোহের খবর সামনে আসে। সূত্রের খবর, মোট ৫৮ জন বিধায়কের সই সম্বলিত একটি চিঠি বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে জমা পড়েছে। ওই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপ-দলনেতা হিসেবে জাভেদ খান, শিউলি সাহা, সন্দীপন সাহা ও সাবিনা ইয়াসমিনের নাম এবং মুখ্য সচেতক হিসেবে আখরুজ্জামানের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ঘটনাকে অনেকেই তৃণমূলের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন দলীয় শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা, তেমনই অন্যদিকে এটি ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নির্ধারণের পথও তৈরি করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে নতুন কমিটি গঠন এবং বিদ্রোহী শিবিরের ভবিষ্যৎ অবস্থান স্পষ্ট হলে তৃণমূলের আগামী রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা আরও পরিষ্কার হবে। বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তৃণমূলের এই আত্মসমীক্ষা কী দলকে নতুন শক্তি দেবে, নাকি অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর করবে? তার উত্তর লুকিয়ে রয়েছে আগামী দিনের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মধ্যেই।