TMC Latest Update: তৃণমূলে কি কমছে অভিষেকের সাংগঠনিক প্রভাব? নতুন জেলা কমিটি গঠন ঘিরে জোর জল্পনা

অতীতে সংগঠনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ক্যামাক স্ট্রিটের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি নির্ধারণ—সব ক্ষেত্রেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরকে কেন্দ্র করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলত।

Published on: Jun 16, 2026, 14:39:18 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রাখা হলেও, সাংগঠনিক ক্ষেত্রে কি ধীরে ধীরে কমছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব? সাম্প্রতিক দলীয় সিদ্ধান্ত ঘিরে এমন প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলের একাংশে।

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। (HT_PRINT)
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। (HT_PRINT)

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে সংগঠনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ক্যামাক স্ট্রিটের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি নির্ধারণ—সব ক্ষেত্রেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরকে কেন্দ্র করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলত। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে আইপ্যাকের পরামর্শও সেখানে বিশেষ গুরুত্ব পেত।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই চিত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রাখা হয়েছে, তবুও তাঁর সঙ্গে আরও দুই নেতাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে সাংগঠনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ শুরু হয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সূত্রের দাবি, এবার জেলা সংগঠন গঠনের ক্ষেত্রে পুরনো নেতৃত্বের উপরই আস্থা রাখছে দল। কোনও সমীক্ষা বা সার্ভে রিপোর্টের ভিত্তিতে নয়, বরং ব্লক ও জেলা স্তরের নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা সভাপতিদের মতামতকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ জেলা সভাপতিদের হাতে অনেক বেশি ক্ষমতা ও দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে।

নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই মনে করা হয়। দমদম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হয়েছেন মদন মিত্র। নদিয়া উত্তর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন মহুয়া মৈত্র। উত্তর কলকাতার সভাপতি হয়েছেন কুণাল ঘোষ এবং দক্ষিণ কলকাতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী, হাওড়া সদর জেলার দায়িত্বে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, চুঁচুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অসিত মজুমদার এবং ব্যারাকপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন অমিত গুপ্তা। দার্জিলিং সমতল জেলার সভাপতি করা হয়েছে কুন্তল রায়কে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পুনর্গঠনের মাধ্যমে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ আরও সরাসরি নিজের হাতে রাখতে চাইছেন। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও দলের দ্বিতীয় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে রয়েছেন, তবুও জেলা সংগঠনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বণ্টনের এই নতুন মডেল ভবিষ্যতে তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকার উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More