Tina Bhowminck in BJP MP's House: সব্যসাচী পর্বে সোনা-কাণ্ডের পর এবার বিজেপি সাংসদের বাড়িতে টিনা, জোর গুঞ্জন

নদিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহাকে রবিবার রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের বাড়িতে দেখা যায়। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা রাজনৈতিক আলোচনা। 

Published on: Jul 27, 2026, 11:01:05 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে নদিয়ার রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে একটি ছবি। নদিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহাকে রবিবার রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের বাড়িতে দেখা যায়। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা রাজনৈতিক আলোচনা। অনেকের প্রশ্ন, এটি কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি এর পিছনে রয়েছে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত? যদিও টিনা ভৌমিক সাহা এবং জগন্নাথ সরকার—দু'জনেই এই সাক্ষাৎকে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ বলেই দাবি করেছেন। তবুও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন থামছে না।

নদিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহাকে রবিবার রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের বাড়িতে দেখা যায়।
নদিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহাকে রবিবার রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের বাড়িতে দেখা যায়।

সম্প্রতি টিনা ভৌমিক সাহা অন্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। তাঁর বাড়িতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চর্চা হয়। সল্টলেকে ধৃত তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকে সঙ্গে নিয়েই ইডি তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এরপর থেকেই সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে টিনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ছড়ায়। যদিও সেই সময় টিনা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সংবাদমাধ্যমকেই দায়ী করেছিলেন।

এমন পরিস্থিতিতে তাঁর বিজেপি সাংসদের বাড়িতে যাওয়া নতুন করে রাজনৈতিক কৌতূহল বাড়িয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার অবস্থান নিয়ে যখন নানা জল্পনা চলছে, তখন এই সাক্ষাৎকে ঘিরে নানা ব্যাখ্যা উঠে আসছে।

তবে টিনা ভৌমিক সাহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সাক্ষাতের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, একজন জনপ্রতিনিধির বাড়িতে যে কেউ যেতে পারেন এবং এটিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার কোনও কারণ নেই। তিনি বলেন, “আমরা একই জেলার প্রশাসনিক পরিকাঠামোর মধ্যে কাজ করি। একজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই গিয়েছিলাম।” আসন্ন জেলা পরিষদের ভোটাভুটি বা কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে এই সাক্ষাতের কোনও যোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর করা ‘দাদা, থ্যাঙ্ক ইউ’ পোস্ট নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রসঙ্গে টিনার বক্তব্য, কাকে তিনি ‘দাদা’ বলবেন বা কাকে ধন্যবাদ জানাবেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সময় এলেই সব কিছু জানা যাবে।

অন্যদিকে, রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারও এই সাক্ষাৎকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর বাড়ির দরজা সব রাজনৈতিক দলের মানুষের জন্যই খোলা। টিনা ভৌমিক সাহা কোনও গোপনে আসেননি, দিনের আলোতেই প্রকাশ্যেই তাঁর বাড়িতে এসেছেন। তাই এই ঘটনাকে ঘিরে অযথা বিতর্ক তৈরি করার কোনও কারণ নেই।

টিনার বাড়ি থেকে সোনা উদ্ধারের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে জগন্নাথ সরকার বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। যদি প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকে, তবে আইন অনুযায়ী সোনা ফেরত পাওয়া যাবে। আর হিসাব মেলাতে না পারলে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যদিও দুই পক্ষই এই সাক্ষাৎকে নিছক সৌজন্য বলেই ব্যাখ্যা করছেন, তবুও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন সাক্ষাৎকে সম্পূর্ণ নিরীহ বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন। বিশেষ করে জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ সমীকরণ এবং নদিয়ার রাজনীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক আগামী দিনে নতুন কোনও রাজনৈতিক বার্তা বহন করে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। সময়ই বলবে, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ শুধুই আনুষ্ঠানিকতা ছিল, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে বড় কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More