Kalyan on Koyel: কেন সুখেন্দু-সুস্মিতাদের সঙ্গে পদত্যাগ করেননি কোয়েল? বিজেপির অঙ্ক বোঝালেন তৃণমূলের কল্যাণ

কল্যাণ বলেন, 'এটি বিজেপির নতুন কৌশল। আগে তিনজন রাজ্যসভার সাংসদ একসঙ্গে ইস্তফা দিয়েছিলেন। কিন্তু কোয়েল মল্লিক তখন ইস্তফা দেননি। যদি চারজন একসঙ্গে পদত্যাগ করতেন, তাহলে চারটি আসনের নির্বাচন একসঙ্গেই হত এবং বিজেপি সেই নির্বাচনে সুবিধা করতে পারত না।'

Published on: Jul 16, 2026, 19:13:39 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিকের ইস্তফা এবং তাঁর বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা ঘিরে কেন্দ্রের শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, লোকসভা ও রাজ্যসভায় নিজেদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে বিরোধী দলের সাংসদদের ভাঙাচ্ছে বিজেপি। শুধু তাই নয়, কোয়েলের ইস্তফাও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলে দাবি করেছেন তিনি।

কল্যাণের অভিযোগ, লোকসভা ও রাজ্যসভায় নিজেদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে বিরোধী দলের সাংসদদের ভাঙাচ্ছে বিজেপি। (Hindustan Times)
কল্যাণের অভিযোগ, লোকসভা ও রাজ্যসভায় নিজেদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে বিরোধী দলের সাংসদদের ভাঙাচ্ছে বিজেপি। (Hindustan Times)

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'এটি বিজেপির নতুন কৌশল। লোকসভা এবং রাজ্যসভায় যে কোনও উপায়ে নিজেদের শক্তি বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য। আগে তিনজন রাজ্যসভার সাংসদ একসঙ্গে ইস্তফা দিয়েছিলেন। কিন্তু কোয়েল মল্লিক তখন ইস্তফা দেননি। যদি চারজন একসঙ্গে পদত্যাগ করতেন, তাহলে চারটি আসনের নির্বাচন একসঙ্গেই হত এবং বিজেপি সেই নির্বাচনে সুবিধা করতে পারত না।'

তাঁর দাবি, পরিকল্পনা করেই কোয়েলের ইস্তফা পরে করানো হয়েছে। কল্যাণের কথায়, 'আজকের নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই কোয়েল মল্লিককে ইস্তফা দিতে আনা হয়েছে, কারণ এখন একটি আসন শূন্য হয়েছে। এটা বিজেপির নিরাপদ রাজনৈতিক কৌশল। আমরা জানি, তিনি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং খুব শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দেবেন।' তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, 'কেউ যদি নিজের রাজনৈতিক দল বা আদর্শ ছেড়ে অন্য দলে যেতে চান, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই প্রবণতা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে শুভ নয়।'

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'এই রাজ্য শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক চেতনার জন্য সারা দেশে সম্মান পেয়েছে। লোকসভা ও রাজ্যসভায় বাংলার বহু বিশিষ্ট সংসদ সদস্য প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁরা দলীয় আদর্শ, বাংলার মানুষের স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার লড়াইকে গুরুত্ব দিতেন।' বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'গত দু'মাসে যেভাবে একের পর এক সাংসদ ও বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, তা বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক নোংরা ছবি তুলে ধরছে। এটা ঠিক না ভুল, সেই বিচার শেষ পর্যন্ত বাংলার মানুষই করবেন। তাঁরাই চূড়ান্ত রায় দেবেন।'

এদিন দলত্যাগী বিধায়কদেরও নিশানা করেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর দাবি, 'যে ৬০ জন বিধায়ক দল ছেড়ে গিয়েছেন, তাঁরা আসলে শুভেন্দু অধিকারীর ‘বি-টিম’। তাঁদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও মানুষ সব দেখছেন।' উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙনের ছবি সামনে এসেছে। একাধিক বিধায়ক, সাংসদ ও নেতার দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এর মধ্যেই কোয়েল মল্লিকের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা এবং বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।

যদিও কোয়েল মল্লিক এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগদানের কথা ঘোষণা করেননি। অন্যদিকে, বিজেপিও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ফলে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন কোয়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং রাজ্যসভার শূন্য আসনকে ঘিরে আগামী রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More