TMC MP Rajiv Kumar Update: জল্পনায় ইতি! ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে হাজির রাজীব কুমার, মমতার পাশেই থাকার বার্তা

তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-সাংসদ যখন দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যোগ দিচ্ছেন, তখন রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। দীর্ঘদিন তাঁকে দলের কোনও কর্মসূচিতে দেখা না যাওয়ায় সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছিল।

Published on: Jul 21, 2026, 13:59:43 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-সাংসদ যখন দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যোগ দিচ্ছেন, তখন রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। দীর্ঘদিন তাঁকে দলের কোনও কর্মসূচিতে দেখা না যাওয়ায় সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চে উপস্থিত হয়ে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটালেন তিনি।

রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল সাম্প্রতিক সময়ে
রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল সাম্প্রতিক সময়ে

এদিন বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে হাজির হন রাজীব কুমার। মঞ্চে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়। লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র-সহ একাধিক নেতা-নেত্রীর উপস্থিতির মধ্যেই মহুয়ার ঠিক পিছনের সারিতে বসে ছিলেন রাজীব কুমার। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উপস্থিতির মধ্য দিয়েই তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন।

রাজীব কুমারের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) এবং তার আগে কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৯ সালে সারদা মামলার তদন্তে সিবিআই তাঁর বাড়িতে পৌঁছলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছিলেন। সেই ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতেও ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছিল।

পরে অবসর গ্রহণের পর তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠায়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তৃণমূলের টিকিটে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ হন। একই সময়ে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকও তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় মনোনীত হয়েছিলেন।

তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কোয়েল মল্লিক সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের খবর সামনে আসতেই বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা তৈরি হয়। এর আগেও তৃণমূলের একাধিক রাজ্যসভার সাংসদ— সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক— দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে আবার রাজ্যসভায় গিয়েছেন। ফলে রাজীব কুমারও একই পথে হাঁটবেন কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল।

শুধু রাজ্যসভা নয়, তৃণমূলের একাধিক লোকসভার সাংসদও সম্প্রতি দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজীব কুমারের দীর্ঘ নীরবতা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি সেই সমস্ত জল্পনায় কার্যত ইতি টেনে দিল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের কঠিন সময়ে প্রকাশ্যে দলের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাজীব কুমার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখছেন। তাঁর এই উপস্থিতি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, তৃণমূলে ভাঙনের আবহে রাজীব কুমারের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে উপস্থিতি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে যোগদান নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্ত জল্পনার কার্যত অবসান ঘটাল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More