Saayoni Ghosh: ভবানীপুর ‘মিনি ইন্ডিয়া’, চণ্ডীপাঠের পরই সায়নী বললেন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, BJP-কে খোঁচা মমতার সাংসদের

তৃণমূলের তারকা সাংসদ এবং দলের যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষ বরাবরই তাঁর স্পষ্টবক্তা মেজাজের জন্য পরিচিত। সম্প্রতি তাঁর একটি ভাষণের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন তিনি। 

Published on: Apr 27, 2026, 07:30:38 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

নির্বাচনী ময়দান হোক বা জনসভা— সায়নী ঘোষের উপস্থিতি মানেই বাড়তি উত্তেজনা। সম্প্রতি মমতার কেন্দ্র ভবানীপুরের এক জনসভায় সায়নীকে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আঙ্গিকে। ভাষণের মাঝেই তিনি বিভিন্ন ধর্মের পবিত্র প্রার্থনাগুলো পাঠ করেন, যা উপস্থিত জনতাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। আর এই ভিডিওটি ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা।

ভবানীপুর ‘মিনি ইন্ডিয়া’,দুর্গাবন্দনার সাথেই সায়নী বললেন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (PTI)
ভবানীপুর ‘মিনি ইন্ডিয়া’,দুর্গাবন্দনার সাথেই সায়নী বললেন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (PTI)

সায়নীর মাস্ট্রারস্ট্রোক:

বাংলা ও হিন্দির মিশ্রণে জনতাকে সম্বোধন করে সায়নী উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্য়ে বলেন, 'এখানে (ভবানীপুরে) এক বাড়ি থেকে আপনি শুনতে পাবেন, 'ইয়া দেবী সর্বভূতেশু শক্তি রূপেন সংস্থিতা, নমস্তাস্যই নমস্তাস্যই নমো নমঃ...'।' এটি হিন্দু ধর্মীয় রচনা ‘দুর্গা সপ্তশতী’র জনপ্রিয় সংস্কৃত মন্ত্র বা চণ্ডীপাঠ। দুর্গাপূজা এবং নবরাত্রির সময় বাংলায় সাধারণত সংস্কৃত শ্লোকগুলি ব্যবহৃত হয়। এই মন্ত্র ছাড়া অসম্পূর্ণ হিন্দু বাঙালির জীবন। এরপরই সায়নী বলেন, 'অন্য গলি থেকে আপনি শুনতে পাবেন, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই), মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ, বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম'।

বিজেপিকে কড়া আক্রমণ:

ভিডিওটিতে সায়নীকে বলতে শোনা যায়, ‘বিজেপি দেশটাকে ধর্মের নামে ভাগ করতে চায়। ওরা বিভাজনের রাজনীতি করে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়।’ এই বিভেদের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সায়নী বোঝাতে চেয়েছেন যে, ভারতের মূল শক্তি হলো তার বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। তাই বিজেপির বিভেদের রাজনীতি রুখতে বাংলায় মোদী-শাহদের রুখতে হবে। সেটা সম্ভব একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পক্ষেই, দাবি তৃণমূল সাংসদের।

প্রার্থনার সুরে সম্প্রীতির বার্তা:

সায়নী তাঁর ভাষণের একপর্যায়ে হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও খ্রিস্টান— সব ধর্মের মূল প্রার্থনাগুলো উচ্চারণ করেন। তাঁর কথায়, ধর্মের নাম করে মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ করা আসলে ঈশ্বর বা আল্লাহকে অপমান করা। সায়নীর এই সংবেদনশীল এবং কৌশলী পদক্ষেপকে অনেকেই প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। নেটিজেনদের একাংশের মতে, বর্তমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে এ ধরনের সম্প্রীতির বার্তা অত্যন্ত জরুরি।

ভাইরাল ভিডিওর প্রভাব:

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিওটি শেয়ার হতেই ভিউ আর শেয়ারের বন্যা বয়ে গিয়েছে। তৃণমূল সমর্থকরা একে সায়নীর ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখলেও, বিরোধী শিবিরের অনেকে একে ‘ভোটের গিমিক’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তবে বিতর্কের ঊর্ধ্বে সায়নী আবারও প্রমাণ করলেন যে, তিনি কেবল রুপোলি পর্দার নায়িকা নন, বরং মাঠের রাজনীতির একজন পোড়খাওয়া খেলোয়াড়। সায়নী ঘোষ এখন নিজের পোশাক থেকে স্ট্রাইল সবেতেই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কেে অনুকরণ করেন। প্রকাশ্যে সে কথা স্বীকারও করে নেন সায়নী। মমতার কেন্দ্র তাঁর হয়ে ভোটপ্রচারে তৃণমূলের এই যোগ্য সৈনিক যে ঝড় তুললেন তা বলাই বাহুল্য।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More