'বিবেচনাধীনতেই আস্থা! পেশায় পরিচারিকা কলিতা BJP-র টিকিট পেতেই প্রশ্ন তুলল তৃণমূল
গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপুকুর পাড়ের বাসিন্দা কলিতা মাজি পেশায় পরিচারিকা। বাড়িতে রয়েছেন স্বামী ও এক ছেলে।
রবিবার রাজ্যের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তারপরই সোমবার প্রথম দফার ১৪৪ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। সেই তালিকায় পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী হিসেবে নাম রয়েছে কলিতা মাজির। পেশায় পরিচারিকা কলিতাকে ২০২১-এও প্রার্থী করেছিল বিজেপি। কিন্তু পরাজিত হন তিনি। এবারও তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছে গেরুয়া শিবির। তপশিলি সংরক্ষিত এই আসনে কলিতাকে প্রার্থী করে রীতিমতো চমক দিয়েছিল বিজেপি। তবে এবার তাঁর নাম ঘিরে দানা বেঁধেছে বিতর্ক।

পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। আর এই আউশগ্রাম বিধানসভা তপশিলি জাতি সংরক্ষিত আসন। বিগত নির্বাচনে কলিতা মাজিকে প্রার্থী করে কার্যত চমক দিয়েছিল বিজেপি। তবে এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অভেদানন্দ থাণ্ডার জয়ী হয়েছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৩৯২টি ভোট। বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি দ্বিতীয় হয়ে পেয়েছিলেন ৮৮ হাজার ৫৭৭টি ভোট। গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপুকুর পাড়ের বাসিন্দা কলিতা মাজি পেশায় পরিচারিকা। বাড়িতে রয়েছেন স্বামী ও এক ছেলে। ছেলে পার্থ এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। গুসকরা পুরসভার ১৯৫ নম্বর বুথের ভোটার কলিতা মাজি। কিন্তু এসআইআরের পর আংশিক চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় ওই বুথে ৩৯৭ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে কলিতা মাজির নাম। তবে তাঁর নামের উপর লেখা ‘আণ্ডার অ্যাডজুডিকেশন।’ আর প্রার্থী হিসেবে সেই বিবেচনাধীন ভোটারের উপরেই আস্থা রেখেছে বিজেপির। কিন্তু আদৌ ভোটের লড়াইয়ে শামিল হতে পারবেন কলিতা? কীভাবে অমীমাংসিত তালিকায় থাকা একজনকে প্রার্থী করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
যদিও এই নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কলিতা মাজি। তিনি জানান, 'আমার উপযুক্ত নথিপত্র আছে। সবকিছু দাখিল করেছি। এরপর কমিশন যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে। তবে আমার বিশ্বাস যোগ্য ভোটার হিসাবে আমার যথাযথ নথিপত্র রয়েছে। দল আমাকে প্রার্থী করেছে। আমি আত্মবিশ্বাসী এবার আমরাই জিতব।' তিনি আরও বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে তিনি লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে শুনানির জন্য ডাক পান। সেই মতো তিনি শুনানিতে হাজিরাও দিয়েছিলেন। কলিতা মাজির দাবি, তাঁরা সাত বোন। বাকি ছয় বোনের নাম উঠেছে, শুধু তাঁর নাম বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে, কলিতার নাম ঘোষণার পরই বিজেপি ও কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, 'আমরা প্রথম থেকেই যে অভিযোগ করছিলাম, এখন তা কার্যত প্রমাণিত হল। বিজেপি প্রার্থী বিবেচনাধীন অথচ তাঁর নাম বিজেপির প্রার্থী তালিকায়। অর্থাৎ বিজেপির সঙ্গে যে কমিশনের আঁতাত আছে এটা বোঝা গেল।' তবে এই বিষয়ে বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, 'গোটা বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। কিন্তু এতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ যে ভুল ও মিথ্যা তা প্রমাণিত হল। কমিশন জাত বা ধর্ম দেখে নয়, তাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছে।'
E-Paper

