BJP Candidate Attack Arrest: BJP প্রার্থীকে মারধর! শিলিগুড়ির হোটেলে গা ঢাকা দিয়েও শেষ রক্ষা হল না, ধৃত ২ মূল অভিযুক্ত

BJP Candidate Attack Arrest: নির্বাচনের পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিল মূল দুই অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে খবর, গত তিনদিন ধরে তাঁরা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের মাটিগাড়া থানা এলাকার মেডিক্যাল মোড়ের একটি হোটেলে আত্মগোপন করে ছিল।

Published on: Apr 30, 2026, 22:24:12 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

BJP Candidate Attack Arrest: প্রথম দফার ভোটে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে শিলিগুড়ির একটি হোটেলে গা ঢাকা দিয়েও শেষরক্ষা হলো না। মঙ্গলবারই শিলিগুড়ির মেডিক্যাল ফাঁড়ি এলাকা থেকে দুই অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেফতার করে দক্ষিণ দিনাজপুর ও শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ দল। সাতদিনের হেফাজতের আবেদন জানিয়ে ধৃতদের বুধবার গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক দু'জনকেই চারদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন৷

বিজেপি প্রার্থীকে মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার দুই মূল অভিযুক্ত (HT_PRINT)
বিজেপি প্রার্থীকে মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার দুই মূল অভিযুক্ত (HT_PRINT)

ঠিক কী ঘটেছিল?

বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২৩ এপ্রিল৷ সেদিন বানীহারী বুথ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন কুমারগঞ্জ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার। অভিযোগ, সেখানে তাঁর উপর চড়াও হয় তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীরা৷ ওই ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার জেরে জেলা-সহ পুরো রাজ্যে শোরগোল পড়ে যায়। ঘটনার পর শুভেন্দু সরকার স্থানীয় কুমারগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে আগেই আটজনকে গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিল মূল অভিযুক্ত ওয়ালেস রেজা ওরফে বুলেট (৩০) ও ওয়াসিম রেজা (৩২)। তাঁরা দু’জনেই বানীহারী গ্রামেরই বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

যৌথ অভিযানে সাফল্য

নির্বাচনের পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিল মূল দুই অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে খবর, গত তিনদিন ধরে তাঁরা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের মাটিগাড়া থানা এলাকার মেডিক্যাল মোড়ের একটি হোটেলে আত্মগোপন করে ছিল। কিন্তু এত কিছু করেও পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়া তাদের সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর থানার পুলিশ শিলিগুড়িতে পৌঁছায়। স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় হোটেলে হানা দিয়ে বুলেট ও ওয়াসিমকে পাকড়াও করা হয়। বুধবার সকালে তাদের গঙ্গারামপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। বেলা ১২টা নাগাদ সাতদিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে তাদের গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকার বলেন, 'প্রথম দফার ভোট হয়েছিল ২৩ এপ্রিল। সেদিন ২৪ নম্বর বুথে ভোট চলাকালীন কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে দুষ্কৃতীরা মারধর করে। সেদিনই আমরা একটি মামলা শুরু করি। ওই ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে ছ'জন, পরবর্তীতে আরও দু'জনকে গ্রেফতার করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল শিলিগুড়ি থেকে মূল অভিযুক্ত দু'জনকে ট্রানজিট রিমান্ডে গঙ্গারামপুর নিয়ে আসা হয়। তাদের গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের সাতদিন পুলিশ রিমান্ডের জন্য আবেদন জানানো হলে বিচারক চারদিনের হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন৷ এই ঘটনায় পুলিশি তদন্ত জারি রয়েছে৷' প্রথম দফার ভোট গ্রহণ পর্ব এবার বেশ শান্তিতেই অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের তৎপরতায় উত্তরবঙ্গের কোথাও তেমন কোনও গোলমাল হয়নি৷ তার মধ্যে কুমারগঞ্জের এই ঘটনা ছিল একেবারেই বিপরীত স্রোতমুখী৷ এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কঠোর পদক্ষেপ নেয় কমিশন৷ দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া হয়৷ তারপরেই সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ৷ দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের আগের দিনই সাফল্য মেলে পুলিশের৷

ভোটের হিংসা রুখতে এবং অপরাধীদের ধরতে পুলিশের এই তৎপরতা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।