WB Budget Challenges: ঋণের বোঝা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ, বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে নজর বাংলার

রাজ্যের ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৮ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। ফলে রাজ্যের আয়ের একটি বড় অংশ প্রতি বছর ঋণের সুদ মেটাতেই খরচ হয়ে যাচ্ছে। অর্থ দফতরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের মোট আয়ের প্রায় ৪২ শতাংশ বর্তমানে সুদ বাবদ ব্যয় হয়।

Published on: Jun 22, 2026, 10:30:15 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি যখন চরম চাপে, ঠিক তখনই সোমবার বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিপুল ঋণের বোঝা সামলে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুলে দেওয়া। সেই কারণেই এবারের বাজেটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল।

রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি যখন চরম চাপে, ঠিক তখনই সোমবার বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। (Debajyoti Chakraborty)
রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি যখন চরম চাপে, ঠিক তখনই সোমবার বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। (Debajyoti Chakraborty)

সরকারি সূত্রের দাবি, রাজ্যের ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৮ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। ফলে রাজ্যের আয়ের একটি বড় অংশ প্রতি বছর ঋণের সুদ মেটাতেই খরচ হয়ে যাচ্ছে। অর্থ দফতরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের মোট আয়ের প্রায় ৪২ শতাংশ বর্তমানে সুদ বাবদ ব্যয় হয়। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকার আয় বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর উপর বিশেষ জোর দিতে চলেছে।

সূত্রের খবর, এবারের বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্প ভর্তুকি এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক সুবিধা নতুন করে চালু বা সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে। শিল্পপতিদের আকৃষ্ট করতে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক, জমি সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে সামাজিক প্রকল্পগুলি চালু থাকলেও পুজো, মেলা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানোর ইঙ্গিত মিলেছে। সরকার মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

স্বপন দাশগুপ্ত দায়িত্ব নেওয়ার পর দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ অশোক লাহিড়ীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সহায়তা, জিএসটি বাবদ বকেয়া অর্থ এবং রাজ্যের আর্থিক পুনর্গঠন নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রেও একাধিক বড় ঘোষণা থাকতে পারে। আলিপুরদুয়ার, পশ্চিম বর্ধমান এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে নতুন মেডিক্যাল কলেজ গড়ার পরিকল্পনা বাজেটে স্থান পেতে পারে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে উন্নয়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, শিলিগুড়িতে এইমস, আইআইটি এবং আধুনিক ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দিকেও নজর রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বাজেট শুধু আগামী কয়েক মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং নতুন সরকারের উন্নয়ন দর্শনেরও প্রতিফলন হবে। ঋণের ভারে জর্জরিত রাজ্যকে কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড় করানো যায়, তার রূপরেখা মিলতে পারে এই বাজেটেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই বাংলার পাশাপাশি গোটা দেশের নজর এখন বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের দিকে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More