WB Excise Scam Report: ২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের আবগারি নীতিতে বদল এনে শুরু হয়েছিল তোলাবাজি, দাবি রিপোর্টে
২০১৭ সালে রাজ্যের মদ বিতরণ নীতিতে পরিবর্তন এনে এমন একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হত। অভিযোগ, এই অর্থের একটি বড় অংশ তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছত।
দিল্লির আবগারি নীতি বিতর্কের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের মদ ব্যবসা নিয়েও সামনে এল বিস্ফোরক অভিযোগ। আবগারি দফতরকে লেখা একটি গোপন রিপোর্টের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালে রাজ্যের মদ বিতরণ নীতিতে পরিবর্তন এনে এমন একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হত। অভিযোগ, এই অর্থের একটি বড় অংশ তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছত। গত ১৮ মে পশ্চিমবঙ্গের আবগারি কমিশনারকে লেখা আইএফবি অ্যাগ্রো লিমিটেডের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই সব অভিযোগ সামনে এসেছে।

দ্য স্টেটসম্যানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে West Bengal State Beverages Corporation Limited (WBSBCL) গঠন করে রাজ্যে বিদেশি মদ ও বিয়ারের পাইকারি বিতরণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হয়। এর আগে ৫৫টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি ‘ট্রেড’ সংস্থা প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করত। উৎপাদক সংস্থাগুলি নিজেদের পছন্দমতো ট্রেড পার্টনার বেছে নিতে পারত এবং খুচরো বিক্রেতাদের কাছেও একাধিক সরবরাহকারীর বিকল্প ছিল।
গোপন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, WBSBCL চালু হওয়ার পর সেই বহুমুখী ব্যবস্থা ভেঙে একটি একচেটিয়া ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি হয়। নতুন ব্যবস্থায় কিছু ডিস্ট্রিবিউটরকে যুক্ত করা হয়, যারা মদ প্রস্তুতকারী এবং বোতলজাতকারী সংস্থাগুলির কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করত বলে অভিযোগ। প্রতি ক্রেটে ৪ টাকা গুদাম ভাড়া এবং ৩ টাকা পরিবহণ খরচ বাবদ নেওয়া হত। অর্থাৎ, প্রতি ক্রেটে ৭ টাকা দিতে হত সংস্থাগুলিকে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে 'অন্যত্র' পৌঁছত।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আপত্তি জানানো সংস্থাগুলিকে বিভিন্নভাবে চাপের মুখে ফেলা হত। IFB Agro Industries Ltd-র একটি চিঠির উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সংস্থাটি আবগারি দফতরের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল যে তারা বেআইনি দাবির কাছে নতি স্বীকার না করায় প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হয়েছে। এমনকি তাদের কারখানা বন্ধ রাখার অভিযোগও সামনে এসেছে।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে নতুন নীতির ফলে রাজস্ব আদায়ের পুরনো এককালীন পদ্ধতি বাতিল করে দুই স্তরের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এর ফলে আবগারি রাজস্ব আদায়ে বিলম্ব এবং বিতরণ ব্যবস্থায় একাধিক সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আগে উৎপাদন বা বোতলজাতকরণের উৎসস্থলেই সম্পূর্ণ শুল্ক আদায় করা হত। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় দুই ধাপে শুল্ক আদায়ের ব্যবস্থা চালু করা হয়।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, কয়েকটি মদ প্রস্তুতকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই তাদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে আদায় করা অর্থ ফেরতের দাবি তুলতে একজোট হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সূত্রের দাবি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনেরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে বিজেপির অমিত মালব্য বলেন, তৃণমূল জমানায় রাজ্যে দুর্নীতির সংস্কৃতি যে কত গভীরে গিয়ে পৌঁছেছিল, এটা তারই প্রমাণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নীতির খসড়া প্রণয়নের সঙ্গে কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক যুক্ত ছিলেন এবং তাঁদের স্বাক্ষরেই WBSBCL গঠনের সুপারিশ অনুমোদিত হয়। এই ঘটনায় নাম উঠে এসেছে গৌতম ঘোষ (অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার), শান্তনু আচার্য্য, সঞ্চায়ন গঙ্গোপাধ্য়ায়, রাজর্ষি চক্রবর্তী এবং কুণাল বিশ্বাস।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


