Ritabrata on CAG Report: আমফান থেকে সেবাশ্রয়, CAG রিপোর্টে দুর্নীতির অভিযোগে বিস্ফোরক ঋতব্রত, তোপ অভিষেককে
ঋতব্রতর অভিযোগ, ঘূর্ণিঝড় আমফানের ত্রাণ বণ্টন থেকে শুরু করে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প—সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক আর্থিক তছরুপ হয়েছে। এমনকি সেবাশ্রয় শিবিরকে ‘কালো টাকা সাদা করার প্রকল্প’ বলেও দাবি করেন তিনি।
বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। শনিবার বিধানসভায় পেশ হওয়া ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহালেখা পরীক্ষক (ক্যাগ)-এর রিপোর্টকে সামনে রেখে রবিবার কড়া আক্রমণ শানালেন ‘আসল’ তৃণমূলের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ঘূর্ণিঝড় আমফানের ত্রাণ বণ্টন থেকে শুরু করে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প—সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক আর্থিক তছরুপ হয়েছে। এমনকি সেবাশ্রয় শিবিরকে ‘কালো টাকা সাদা করার প্রকল্প’ বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ক্যাগ রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে আমফানের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কেন্দ্র যে অর্থ বরাদ্দ করেছিল, তার সম্পূর্ণ সুবিধা সাধারণ মানুষ পাননি। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ করলেও রাজ্যের তরফে মাত্র ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রের পাঠানো অর্থের এত বড় অংশ কোথায় গেল এবং কার নির্দেশে এই অর্থ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এই প্রসঙ্গে ঋতব্রত একাধিক তৃণমূল নেতার নামও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই আর্থিক অনিয়মের নেপথ্যে একটি সুপরিকল্পিত চক্র কাজ করেছে। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি মিতুন দে, জাহাঙ্গির পুষ্পা, দেবরাজ চক্রবর্তী এবং সুমিত রায়ের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে তাঁদের ভূমিকা ছিল। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি।
শুধু আমফান নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন ঋতব্রত। তাঁর দাবি, সেবাশ্রয় শিবিরে শুধু আর্থিক অনিয়মই হয়নি, চিকিৎসা পরিষেবার নামেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার সরঞ্জাম সরিয়ে এনে শিবিরে ব্যবহার করা হয়েছে এবং যাঁরা চিকিৎসা করছিলেন, তাঁদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছিল না। এর ফলে বহু সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ঋতব্রতের আরও অভিযোগ, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সেই অর্থ বিদেশের করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ বা ভানুয়াতুর মতো দেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে তিনি কোনও নথি বা তথ্য প্রকাশ করেননি।
এদিকে, শনিবার ক্যাগ রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই রিপোর্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকা হবে। সেই প্রসঙ্গ টেনে ঋতব্রত বলেন, এখনও পুরো রিপোর্ট পড়া শেষ হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে যা দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, বিশেষ অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলে আরও বহু তথ্য সামনে আসতে পারে।
ক্যাগ রিপোর্টকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। বিরোধী মহল যেমন এই রিপোর্টকে সরকারের বিরুদ্ধে বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, তেমনই শাসকপক্ষের তরফে বিশেষ অধিবেশনে এই রিপোর্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে আমফান ত্রাণ এবং সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে রাজনৈতিক তরজা আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


