West Bengal: রাষ্ট্রপতি শাসন জারি নয়? 'প্রাক্তন' মমতা, এখন কার হাতে বাংলা
West Bengal: সাধারণ রীতি হল নির্বাচনের পর বিদায়ী শাসকদলের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগ পত্র পেশ করেন। রাজ্যপাল তাঁকেই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত কার্যনির্বাহী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যেতে অনুরোধ করেন।
West Bengal: আগামী শনিবার, ২৫শে বৈশাখ। একদিকে যেমন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী পালন করবে বঙ্গবাসী, তেমনই কলকাতার রাজনীতিতে সূচিত হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। ওই দিনই ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর ঠিক আগে পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রীতি মেনে পদত্যাগ না করায় পশ্চিমবঙ্গে এক নজিরবিহীন এবং অভাবনীয় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে কোন প্রশাসনিক প্রধান নেই। বর্তমানে সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে রাজ্যপাল আছেন। কিন্তু প্রশাসনিক প্রধানের পদ শূন্য থাকার এমন নজির বাংলায় নেই বলে সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করলেও বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর পনেরো বছরের শাসনের অবসান হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করে লোকভবন। রাজ্যপাল আর.এন. রবির দফতরের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৭ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার অর্থ হল সরকারও আর নেই। ইস্তফা না-দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মন্ত্রিসভা এখন ‘প্রাক্তন।’ তবে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বরখাস্ত করেননি রাজ্যপাল। আবার তাঁকে নতুন সরকারের শপথ পর্যন্ত ‘তদারকি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেননি। তবে রাজ্যপাল রবি'র বিধানসভা অকার্যকর ঘোষণা করা মাত্র রাজ্য সরকারের মেয়াদের অবসান হয়।
সাধারণ রীতি হল নির্বাচনের পর বিদায়ী শাসকদলের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগ পত্র পেশ করেন। রাজ্যপাল তাঁকেই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত কার্যনির্বাহী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যেতে অনুরোধ করেন। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দল পুনরায় ক্ষমতাসীন হলেও এই রীতিই প্রচলিত ভারতে। যে কারণে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে বিজেপি বিপুল জয় হাসিল করলেও তিনি রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগ পত্র পেশ করেছেন। রাজ্যপাল তাঁকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন। হয়তো হিমন্তই ফের অসমের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। উত্তর পূর্ব রাজ্যে শপথ অনুষ্ঠান হবে ১১ মে'র পর। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেহেতু পদত্যাগ করেননি ফলে রাজ্যপালের পক্ষে তাঁকে কার্যনির্বাহী মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে অনুরোধ করার সুযোগ ছিল না।
ভারতের সাংবিধানিক রীতি হল কেন্দ্র এবং রাজ্যে যথাক্রমে রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালেরা হলেন সাংবিধানিক প্রধান। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীরা হলেন প্রশাসনিক প্রধান। সাংবিধানিক প্রধান তথা রাজ্যপালকে কখনও প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করতে হলে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে সেজন্য নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হয়। এই ব্যবস্থাকে বলা হয় রাষ্ট্রপতি শাসন। রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে তখন রাজ্যপাল প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে বিধানসভাকে অকার্যকর ঘোষণা এবং মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়াদের অবসান হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি শাসন জারির কোন বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন ধরে নেওয়া যায় এই বিচিত্র এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল নিজেই প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। ঘোষণা মত শনিবার সকাল দশটায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের শপথ গ্রহণ হবে। সেই সময় পর্যন্ত রাজ্যে কোন প্রশাসনিক প্রধান থাকছেন না। ধরে নেওয়া হচ্ছে রাজ্যপাল আর.এন. রবি সেই দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অনেকেই বলছেন এ জন্য রাষ্ট্রপতি ভবনের একটি লিখিত বিজ্ঞপ্তি জারি প্রয়োজন ছিল। রাষ্ট্রপতি ভবন এবং লোকভবন থেকে তেমন বিজ্ঞপ্তি জারির কোনও খবর নেই।
E-Paper

