Birbhum Election Result: বীরভূম-বর্ধমানে ছারখার তৃণমূল! কেষ্ট-কাজল দ্বন্দ্বেই কি ফুটল পদ্ম?

Birbhum Election Result: এবার কাজল শেখ নিজে হাসন কেন্দ্রের প্রার্থী হয়েছিলেন, পাশাপাশি তাঁর অনুগামী হিসাবে পরিচিত বিধান চন্দ্র মাঝি নানুর বিধানসভায় এবং নরেশ চন্দ্র বাউরী দুবরাজপুর বিধানসভায় তৃণমূলের টিকিট পান।

Published on: May 05, 2026 11:55 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Birbhum Election Result: ৪ মে, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যত ভরাডুবি হয়েছে। ২০০ পেরনোর স্বপ্ন দেখা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিকদের ৮১-তেই আটকে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। উত্তরবঙ্গের অনেক জেলায় খাতাই খুলতে পারেনি তারা। গত ১৫ বছর তৃণমূলের গড় ছিল বীরভূম। খাসতালুক ছিল অনুব্রত মণ্ডলের। কিন্তু পরিবর্তনের হাওয়ায় সেই বীরভূমেও এবার ফুটেছে পদ্মফুল। আর ঘাসফুল শিবিরের এই গড় হারানোর পর্যালোচনা করতে গিয়ে রাজনৈতিক শিবিরের একটা বড় অংশ মনে করছেন, বীরভূম জুড়ে কেষ্ট-কাজল দ্বন্দ্বের যে চোরাস্রোত বইছিল, তার ফলেই জেলার একাধিক আসন তৃণমূলকে খোয়াতে হয়েছে।

কেষ্ট-কাজল দ্বন্দ্বেই কী ফুটল পদ্ম? (সৌজন্যে টুইটার)
কেষ্ট-কাজল দ্বন্দ্বেই কী ফুটল পদ্ম? (সৌজন্যে টুইটার)

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১১ আসনের মধ্যে ৬টিতে বিজেপি এবং ৫টিতে তৃণমূল জয়ী হয়েছে। ঘটনা হল, বীরভূম জেলায় তৃণমূলের এক সময়ের বেতাজ বাদশা অনুব্রত মণ্ডলের জেলযাত্রার পর জেলার রাজনীতিতে নিজের প্রভাব অনেকটাই বাড়িয়ে নেন অনুব্রত বিরোধী বলে পরিচিত কাজল শেখ। জেলা পরিষদের সভাধিপতি হওয়া থেকে শুরু করে তৃণমূলের জেলা কোর কমিটির সদস্য হওয়া পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে দ্রুত কাজলের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। কিন্তু জেল থেকে ফের জেলায় ফেরার পর অনুব্রত ও কাজলের দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে। দু'জনেই একাধিকবার প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করেছেন, এমনকী বিভিন্ন সরকারি বা দলীয় অনুষ্ঠানে একমঞ্চে না থাকারও চেষ্টা করেছেন। আর এই ঘটনায় জেলায় দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।

তৃণমূলের মধ্যেই যেন আরও একটি দল তৈরি হয়ে যায়, যেখানে একপক্ষের সঙ্গে অন্যপক্ষের কার্যত মুখ দেখাদেখি বন্ধ। তৃণমূলের একাংশের দাবি, জেলার এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকাংশেই এই ফলের জন্য দায়ী। জেলার যে যে বিধানসভা কেন্দ্রে কাজল শেখ বা তাঁর অনুগামীদের টিকিট দেওয়া হয়, সেখানে কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে যান অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামীরা। অন্যদিকে, অনুব্রতের মনোমতো প্রার্থীদের জেতাতে সেভাবে গা লাগাননি কাজল অনুগামীরাও। ফলে যা হওয়ার তাইই হয়েছে। দলীয় কর্মীদের ১০০ শতাংশ অংশগ্রহণ না থাকায় বিজেপি অনেকটাই বেশি সুযোগ পেয়েছে।

তৃণমূলের দাবি, এবার কাজল শেখ নিজে হাসন কেন্দ্রের প্রার্থী হয়েছিলেন, পাশাপাশি তাঁর অনুগামী হিসাবে পরিচিত বিধান চন্দ্র মাঝি নানুর বিধানসভায় এবং নরেশ চন্দ্র বাউরী দুবরাজপুর বিধানসভায় তৃণমূলের টিকিট পান। এর মধ্যে হাসনে জয়ী হওয়া কাজলের কাছে সম্মানের লড়াই ছিল। অন্যদিকে নানুরের ভূমিপুত্র কাজল শেখের কাছে নানুরে তৃণমূল প্রার্থীকে জয়ী করারও চ্যালেঞ্জ ছিল। এই দুই ক্ষেত্রেই সফল হয়েছেন কাজল শেখ। যদিও দুবরাজপুর আসনে নিজের প্রার্থীকে জয়ী করতে পারেননি কাজল। অন্যদিকে, সাঁইথিয়া, সিউড়ি, ময়ূরেশ্বর ও বোলপুর আসনের প্রার্থীরা অনুব্রত মণ্ডলের আশীর্বাদধন্য হলেও একমাত্র বোলপুর ছাড়া আর একটি আসনেও জয়ী হতে পারেননি তাঁরা। দুই ক্ষেত্রেই যে পক্ষের প্রার্থী তার অপর পক্ষের নেতাদের অসহযোগিতা এই ফলাফলের জন্য বিশেষভাবে দায়ী বলে অভিযোগ উভয়পক্ষের তরফেই।