Nationalist Citizens Party of India: ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই- ২০২৬ সালের ১৪ জুন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার আগে পশ্চিমবঙ্গের ঠিক কয়েকজন এই রাজনৈতিক দলের নাম জানতেন, তা সম্ভবত হাতে গুনে বলে দেওয়া যাবে। আর সেই দলের সঙ্গে মিশে গেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদরা। আইনি প্যাঁচ এড়িয়ে যাতে সাংসদপদ টিকিয়ে রাখা যায়, সেজন্য ত্রিপুরার ওই অনামী ও স্বীকৃতিহীন দলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন। যে দল নির্বাচনে লড়াই করলেও রাজ্য দল বা জাতীয় দলের স্বীকৃতি পায়নি। ফলে নির্দিষ্ট কোনও প্রতীকও নেই। ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনের তরফে 'রেজিস্টার্ড আন রেকগনাইজড পলিটিক্যাল পার্টি'-র স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সাঁকরাইলে অফিস দেখিয়ে নোটিশ জারি

তাৎপর্যপূর্ণভাবে তৃণমূল সাংসদরা সেই ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’-র সঙ্গে যে মিশে যাচ্ছেন, সেই খবর আসার পরে একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়া ওই দলের নোটিশ প্রকাশ্যে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বছরচারেক আগে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া ওই নোটিশে দাবি করা হয়েছিল যে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া'। সভাপতি হিসেবে নাম ছিল শ্বেলী কুণ্ডুুর। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম ছিল সৈকত দাসের। হাওড়ার সাঁকরাইলে অফিস আছে বলে দাবি করা হয়েছিল।
ফেসবুকে মোটে ৭৪ জন ফলোয়ার
আবার ওই ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (Nationalist Citizens Party of India) নামে ফেসবুকে যে পেজ আছে, তাতে মাত্র ৭৪ জন ফলোয়ার আছেন (আজ রাত ৮ টা ১০ মিনিট পর্যন্ত)। ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শেষবার ওই ফেসবুক পেজ থেকে কোনও পোস্ট করা হয়েছিল। তার আগের একটি পোস্টে আবার বলা হয়েছিল যে ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করছে এনসিপিআই। সেজন্য বরাদ্দ করা হয়েছে প্রতীক। আর প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছিল পেনের নিব ও আলোর সাতটি রশ্মি।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করব, দাবি কাকলির
{{/usCountry}}প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করব, দাবি কাকলির
{{/usCountry}}সেই দলে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ঘোষণা করে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের অন্যতম হোতা কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, 'সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত আমরা ২০ জন সাংসদ স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে আলাদাভাবে বসার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি জমা দিয়েছি। আমাদের হাতে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সাংসদ আছেন। আমরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টির সঙ্গে মিশে যাচ্ছি। আগামিদিনে আমরা দেশের জন্য কাজ করব এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এনডিএয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করব।'
কেন NCPI-তে যোগ দিচ্ছেন বিদ্রোহী সাংসদরা?
রাজনৈতিক মহলের মতে, আইনি প্যাঁচে না পড়তে এমন পদক্ষেপ করেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। কারণ একই দলের দুটি ব্লক থাকতে পারে না। আবার আসল তৃণমূল নিয়ে আইনি লড়াই হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে নয়া দলেই যোগ দিলেন বিদ্রোহী সাংসদরা। যাঁরা সংখ্যার জোরে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় পড়বেন না বলে দাবি করা হয়েছে।