জমি-জটিলতায় মৃত্যুর ১ মাস পরে হাইকোর্টের নির্দেশে করব থেকে তোলা হল মহিলার দেহ

শনিবার সকালেই আদালতের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ ও প্রশাসন কবর খুঁড়ে দেহটি উত্তোলন করে। মৃতার পরিবারও সেখানে উপস্থিত ছিল। প্রশাসন পরে দেহটি অন্য এক জমিতে পুনরায় দাফন করে।

Published on: Nov 15, 2025, 17:45:46 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

শেষ শান্তিটুকুও মিলল না। ভোরের শীতল আলো ফুটতেই চকদা অঞ্চলে শুরু হল কবর খোঁড়ার কাজ। স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসন ও আদালতের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এক মহিলার দেহ তুলে এনে অন্য জায়গায় পুনরায় কবর দেওয়া হল। জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই বিরল ঘটনাতে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠত বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

জমি-জটিলতায় মৃত্যুর ১ মাস পরে হাইকোর্টের নির্দেশে করব থেকে তোলা হল মহিলার দেহ
জমি-জটিলতায় মৃত্যুর ১ মাস পরে হাইকোর্টের নির্দেশে করব থেকে তোলা হল মহিলার দেহ

আরও পড়ুন: বন্ধুর জন্মদিনে গিয়ে নিখোঁজ, ডাম্পিং গ্রাউন্ডে মিলল তরুণের রক্তাক্ত দেহ

বিতর্কের সূত্রপাত বহুদিনের। যে জমিতে মৃতদেহটি কবর দেওয়া হয়েছিল, সেই জমির মালিকানা একটি আশ্রম সংস্থার হাতে। কয়েক বছর আগে আশ্রম কর্তৃপক্ষ জমিটি কেনেন। অভিযোগ, এর আগে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বহু বছর ধরে সেখানেই কবর দিয়ে আসছিলেন। আশ্রম জমি কেনার পর কর্তৃপক্ষ ওই জায়গায় দাফন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি উদ্যোগে এই জায়গাকে কবরস্থান হিসেবে পুনর্নির্মাণের জন্য বরাদ্দও হয়েছিল।

তবু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এক মাস আগে ওই মহিলার দাফন করা হয় আশ্রমের জমিতেই। আশ্রম কর্তৃপক্ষ তখনই পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানান। তাঁদের কথায়, বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষে বাধ্য হয়ে আইনগত পথ বেছে নিতে হয়। নিম্ন আদালতের নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় আশ্রম কর্তৃপক্ষ যায় কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় অবিলম্বে দেহ সরিয়ে অন্যত্র দাফনের ব্যবস্থা করতে হবে।

শনিবার সকালেই আদালতের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ ও প্রশাসন কবর খুঁড়ে দেহটি উত্তোলন করে। মৃতার পরিবারও সেখানে উপস্থিত ছিল। প্রশাসন পরে দেহটি অন্য এক জমিতে পুনরায় দাফন করে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় ইমাম প্রশ্ন তুলেছেন, যদি জমিটি কবরস্থান না হয়, তাহলে কয়েক বছর আগে সরকার কেন এর উন্নয়নে টাকা বরাদ্দ করেছিল? তাঁর বক্তব্য, বহু বছর ধরেই এই জায়গায় দাফন হয়ে এসেছে এবং প্রয়োজন হলে তাঁরাও আদালতের দ্বারস্থ হবেন। অন্যদিকে আশ্রম কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ, পুলিশ-প্রশাসন সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এত দূর গড়াতে হত না। আগেই জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।