‘একদিন দেরি হলে হয়তো বাঁচতাম না!’ ১২ দিন ICU-তে আদৃত! ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা নায়কের

‘মিঠাই’ ধারাবাহিকের সময় পায়ে ব্লাড ক্লট হলেও অবহেলা করার কারণে সেটি ‘মিত্তির বাড়ি’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের সময় মারাত্মক আকার ধারণ করে। প্রথমবার সবটা জানালেন আদৃত। 

Published on: Jul 1, 2026, 09:31:00 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

টেলিভিশনের পর্দায় তিনি কখনো ‘মিঠাই’ ধারাবাহিকের ‘উচ্ছেবাবু’ (সিদ্ধার্থ), কখনো ‘মিত্তির বাড়ি’র নায়ক, আবার কখনো ‘কুমকুম’ ধারাবাহিকের ঈশান। তিনি বাংলা ছোটপর্দার হার্টথ্রব অভিনেতা আদৃত রায় (Adrit Roy)। এমনিতে নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে লাইমলাইট থেকে দূরে রাখতেই পছন্দ করেন অভিনেতা। কিন্তু সম্প্রতি ‘কুমকুম’ ধারাবাহিকের সেটে এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এমন এক ভয়ঙ্কর ও প্রাণঘাতী অধ্যায়ের কথা প্রথমবার ভাগ করে নিলেন, যা শুনে শিউরে উঠছেন ওঁর অনুরাগীরা।

‘একদিন দেরি হলে হয়তো বাঁচতাম না!’ ১২ দিন ICU-তে আদৃত! ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা নায়কের
‘একদিন দেরি হলে হয়তো বাঁচতাম না!’ ১২ দিন ICU-তে আদৃত! ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা নায়কের

টানা ১২ দিন আইসিইউ (ICU)-তে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থেকে কীভাবে ফিরে এসেছেন, সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা প্রথমবার খোলসা করলেন আদৃত।

‘মিঠাই’ চলাকালীন অবহেলা, ‘মিত্তির বাড়ি’তে মারাত্মক রূপ ধারণ

টেলিভিশনের পর্দায় একটি ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পর আদৃত কেন হঠাৎ কাজ থেকে বেশ কিছুদিন বিরতি নিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই আসল সত্য সামনে আনেন অভিনেতা। অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো স্বেচ্ছায় ছুটি নিয়েছেন, কিন্তু আসলে চলছিল অন্য় লড়াই।

আদৃত টলি টাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ‘মিঠাই’ ধারাবাহিক চলাকালীনই কাজের চরম চাপ ও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে শুটিং করার ফলে ওঁর পায়ে একটি ব্লাড ক্লট (Blood Clot) বা রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা ধরা পড়েছিল। প্রথমে সাধারণ চোট মনে করে বিষয়টিকে একেবারেই গুরুত্ব দেননি তিনি। কিন্তু আসল বিপর্যয় ঘটে যখন তিনি ‘মিত্তির বাড়ি’র শুটিং করছিলেন।

ঠিক কী ঘটেছিল?

অসুস্থতা চেপে রেখে শুটিং করার খেসারত দিতে হয়েছিল আদৃতকে। অভিনেতা জানান, পায়ে থাকা সেই ব্লাড ক্লটটি একসময় রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করে সরাসরি ওঁর ফুসফুসের ধমনীতে (Pulmonary Artery) গিয়ে আটকে যায়। এর ফলে ওঁর শ্বাস নিতে মারাত্মক কষ্ট শুরু হয় এবং অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।

তড়িঘড়ি চিকিৎসকের কাছে গেলে ডাক্তাররা ওঁর অবস্থা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান এবং তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দেন। চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন,‘আর মাত্র একটা দিন যদি হাসপাতালে আসতে দেরি হতো, তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি হাতের বাইরে চলে যেত এবং জীবন বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়ত।’

টানা ১২ দিন আইসিইউ-তে চিকিৎসা ও জীবনের বড় শিক্ষা

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে আদৃতকে টানা ১২ দিন আইসিইউতে (ICU) রাখা হয়েছিল। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে দীর্ঘ চিকিৎসার পর ওনাকে সাধারণ ওয়ার্ডে দেওয়া হয়। এই মরণাপন্ন পরিস্থিতির কারণেই ওনাকে বাধ্য হয়ে ক্যামেরার সামনে থেকে বেশ কিছুদিন সম্পূর্ণ বিরতি নিতে হয়েছিল।

এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ও জীবনযুদ্ধ থেকে এক মস্ত বড় শিক্ষা পেয়েছেন আদৃত। অভিনেতা বলেন, শুধু অন্ধের মতো কাজের পেছনে ছুটলেই হয় না, নিজের শরীরের দিকেও সমান নজর দেওয়া জরুরি। শরীর বারবার কোনো সতর্কবার্তা দিলে সেটিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। ব্যস্ততার মাঝে নিজেকে সুস্থ রাখাই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। বর্তমানে আদৃত সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং নতুন উদ্যমে ও নিয়মিতভাবে ‘কুমকুম’ মেগার শুটিং সামলাচ্ছেন।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More