Shirin Paul:‘দেশদ্রোহী’, JU-র ছাত্রী শিরিন পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতেই কটাক্ষে বিদ্ধ, কড়া জবাব পর্দার অপর্ণার!
‘সেলিব্রিটি হইনি, শক্ত শিরদাঁড়ার মানুষ হওয়ার চেষ্টা করছি!’ যন্তর মন্তরের সমর্থনে প্রতিবাদী মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কটাক্ষে জেরবার! কড়া জবাব অভিনেত্রী শিরিন পালের।
দিল্লির যন্তর মন্তরের NEET দুর্নীতি ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের আঁচ এবার শহর কলকাতাতেও। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে এবং তাঁদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এক প্রতিবাদী মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই মিছিলে সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে কবি প্রলয় সরকারের লেখা কবিতার পংক্তি ও নিজের স্পষ্ট মতামত নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন টেলিপাড়ার নবাগতা নায়িকা শিরিন পাল (Shirin Paul)— যিনি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকের ‘অপর্ণা’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন।

তবে এই প্রতিবাদের বার্তা পোস্ট করতেই নেটিজেনদের একাংশের কটাক্ষ ও তোপের মুখে পড়তে হয় অভিনেত্রীকে। এমনকি তাঁকে ‘দেশদ্রোহী’ (Anti-National) তকমাও দেওয়া হয়।
‘অধিকারের দাবিতে একজোট হই’— শিরিনের প্রতিবাদী বার্তা
মিছিলের সমর্থনে নিজের পোস্টে শিরিন লিখেছিলেন, ‘রক্ত ঝরছে। ঘাম ঝরছে। জলকামান চলছে। লাঠি উঠছে। তবু গোলাপ এখনও ফুটছে। আমার সাথীরা যারা শুধু নিজের ন্যায্য অধিকারটুকু চাইছে... জয় তাদের! আজ যারা লাঠি চালাচ্ছে, কাল ইতিহাস তাদের নাম ভুলে যাবে। আজ যারা লাঠির সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াচ্ছে, ইতিহাস তাদেরই মনে রাখবে। অন্তত আমি বলতে পারব আমি কোন দলে ছিলাম। এ লড়াই অধিকারের, টিকে থাকার ও মর্যাদার। অধিকার ভিক্ষা নয়, ছিনিয়ে নিতে হয়।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর কটাক্ষ ও ‘দেশদ্রোহী’ তকমা
শিরিনের এই স্পষ্ট ও নির্ভীক রাজনৈতিক অবস্থানের পর এক নেটিজেন কমেন্ট বক্সে আক্রমণ করে লেখেন, ‘এই লিবারা*ন্ডু দেশদ্রোহীদের বয়কট করুন! একটা সিরিয়াল করেই বিশাল সেলিব্রিটি হয়ে গেছে’।
ট্রোলারের মুখে ঝামা ঘষে অভিনেত্রীর সপাট জবাব
কটাক্ষ দেখে এড়িয়ে না গিয়ে অত্যন্ত শান্ত কিন্তু ধারালো ভাষায় সেই নেটিজেনকে জবাব দেন ‘অপর্ণা’ খ্যাত শিরিন পাল। তিনি লেখেন, ‘না দাদা, সেলেব হ নি। তবে সিরিয়াল করার আগে থেকেই একটা শক্ত শিরদাঁড়ার মানুষ হওয়ার চেষ্টা করছি।’
শিরিনের এই সংক্ষিপ্ত ও মেরুদণ্ডী উত্তর মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ তাঁর এই আত্মমর্যাদাবোধ ও সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করছেন। এক পরিচিত শিরিনের মন্তব্য বাক্সে লেখেন- ‘আইটি সেলের লোকজন এসে তো কমেন্ট কপি-পেস্ট করে যাচ্ছে’। শিরিন জবাবে লেখেন, ‘হ্যাঁ, একজন তো অ্যান্টি-ন্যাশন্য়ালও বলে দিল’।
প্রতিবাদের নতুন মুখ
আর জি কর থেকে শুরু করে দিল্লির ছাত্র আন্দোলন— সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রশ্নে টলিপাড়ার তরুণ শিল্পীরা যেভাবে ট্রোলিং পরোয়া না করে রাস্তায় নামছেন ও নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন, শিরিন পালের এই জবাব তারই এক স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে রইল।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


