Kaushiki Chakraborty: ‘রক্ত ঝরছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না…’! অরিজিতের পর দিল্লি-কাণ্ডে মুখ খুললেন কৌশিকী
সোমবার দিল্লিতে সদ্য আঠেরোর গণ্ডি পেরনো, বা আঠেরো হয়নি এমন পড়ুয়াদের গায়েও পড়ে লাঠির বাড়ি। বলিউড থেকে বহু তারকা এগিয়ে এসে বিজেপি সরকার, দিল্লি পুলিশের নিন্দা করেছেন। মুখ খুলেছেন টলিউডের একাংশও। এবার প্রতিবাদের স্বর হলেন কৌশিকী চক্রবর্তী।
আপাতত সারা দেশ দিল্লি পুলিশের সমালোচনায় মুখর। সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির সাংসদ অভিযানে সামিল হয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। যার মধ্যে বেশিরভাগই পড়ুয়া! আর বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি চালায় দিল্লি পুলিশ। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্য়াস, জল কামান। সদ্য আঠেরোর গণ্ডি পেরনো, বা আঠেরো হয়নি এমন পড়ুয়াদের গায়েও পড়ে লাঠির বাড়ি। বলিউড থেকে বহু তারকা এগিয়ে এসে বিজেপি সরকার, দিল্লি পুলিশের নিন্দা করেছেন। মুখ খুলেছেন টলিউডের একাংশও। এবার প্রতিবাদের স্বর হলেন কৌশিকী চক্রবর্তী।

নেটপাড়ার বড় একাংশের অভিযোগ, তারকারা কাজ হারানোর ভয়ে চুপ! যদিও সেই কথাকে ভুল প্রমাণ করেছেন কিছু তারকা ইতিমধ্যেই। অরিজিৎ সিং, যাকে এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়ক হিসেবে ধরা হয় তিনি পোস্টে তুলোধনা করেছেন নেতা-মন্ত্রী ও পুলিশকে। অরিজিৎ টুইট করেছেন, ‘আপনারা তো এবার ছাত্রদের মারধর করছেন। হ্যালো দিল্লি পুলিশ, আপনাদের লজ্জা করছে না? হ্যালো নেতা মন্ত্রী! কী চলছে ভাই? নিজেদেরকে ভগবান ভেবে নিয়েছেন নাকি? সব কিছু মনে থাকবে। হর হর মহাদেব। আর মনে রাখবেন, দ্য অনলি কনস্ট্যান্ট ইজ চেঞ্জ (পরিবর্তনই চিরন্তন সত্য)’।
কৌশিকি বুধবার সকালে ইনস্টাগ্রামে লিখলেন, ‘এটা আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে, আমাদের দেশে ভবিষ্যত নিয়ে! তাদের ব্যবহার করা বা তাঁদের কথা না শোনা, কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। 'তাদের কথা শোনা হোক'। ক্ষমতার অপব্যবহার দিয়ে তাঁদের চুপ করিয়ে রাখা যাবে না। ওদের রক্ত ঝরছে। আর এটা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।’ সঙ্গে হ্যাশট্যাগে #SpeakUp দিয়েছেন।
নিজের এই বার্তা পিকচার কার্ডের মাধ্যমে শেয়ার করে কৌশিকী লেখেন, ‘যখন যুবসমাজ রক্তাক্ত হয়, তখন রক্তাক্ত হয় পুরো দেশ। এটাকে কখনও স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। এটা রাজনীতির বিষয় নয়, এটা মানবতার প্রশ্ন।’
তবে কৌশিকীর এই পোস্টে নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই মন্তব্য বিভাগে লিখেছেন, ‘কৌশিকীজি আপনি শুধু মুদ্রার এক দিকটাই দেখছেন। শুধু ছাত্রছাত্রীরাই রক্তাক্ত হচ্ছে না, তাদের এমন এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যা নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদেরই উসকানিতে তৈরি হয়েছে। সরকারের উচিত ছিল প্রথম দিন থেকেই এমন ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং পরিস্থিতিকে এতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে না দেওয়া।’
আবার আরেকজন লেখেন, ‘অন্তত কেউ একজন সাহস করে মুখ খুলেছেন। যুবসমাজের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’ আরেকটি কমেন্টে লেখা হয়, ‘প্রতিটি শিশুর কথা শোনা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের মর্যাদা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও মানবতাই সবসময় জয়ী হবে। আমাদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ—এটি রাজনীতির বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবনের প্রশ্ন।’
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


