‘মনে হত নিজেকেই চড় মারি…’! একসময়ের হিট মেশিন, তাও কেন নিজের উপর অসন্তোষ অক্ষয়ের
বলিউডে ৩৫ বছরের দীর্ঘ কেরিয়ার পেরিয়ে অক্ষয় কুমার জানালেন, একসময় তিনি শুধু অ্যাকশন হিরোর ইমেজে আটকে গিয়েছিলেন। সেই ছক ভাঙতেই তিনি কমেডি, রোম্যান্স ও সামাজিক বার্তাধর্মী ছবিতে অভিনয় শুরু করেন। অভিনেতার কথায়, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্যামেরার সামনে কাজ করে যেতে চান তিনি।
বলিউডে কেরিয়ারের শুরুতে মূলত অ্যাকশন ছবিতেই অভিনয় করেছিলেন অক্ষয় কুমার। সেই সময় তাঁকে ‘অ্যাকশন হিরো’ হিসেবেই চেনা হত। তবে পরে তিনি নিজেকে একঘেয়ে ইমেজের মধ্যে আটকে না রেখে কমেডি, রোম্যান্স, দেশাত্মবোধক এবং সামাজিক বার্তাধর্মী নানা ধরনের ছবিতে অভিনয় করে ভার্সেটাইল অভিনেতা হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরি করেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অক্ষয় জানিয়েছেন, কীভাবে তিনি একজন অভিনেতা হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন।

‘মৃত্যুর ৫ মিনিট আগেও শুটিং করতে চাই’
পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অক্ষয় বলেন, হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে প্রথম দশক পার করার পর তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, তিনি কেবল অ্যাকশন তারকার ইমেজের মধ্যেই আটকে পড়েছেন। সেই ছক ভাঙার জন্যই তিনি ভিন্ন ধরনের ছবিতে কাজ শুরু করেন। কমেডি, ড্রামা, রোম্যান্স থেকে শুরু করে হরর-কমেডি—সব ধরনের চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।
অভিনেতার কথায়, ‘৩৫ বছর সত্যিই অনেক দীর্ঘ সময়। খুব কম শিল্পীই এত দীর্ঘ কেরিয়ার উপভোগ করার সুযোগ পান। আমি আশা করি ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করতে পারব। আমার একটাই প্রার্থনা, মৃত্যুর পাঁচ মিনিট আগেও যেন শুটিং করতে পারি। ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথম যখন এসেছিলাম, তখন শুধুই অর্থ উপার্জনের জন্য কাজ করতাম।’
নিজের কাজ দেখে নিজেকেই ‘চড় মারতে’ ইচ্ছে করত
অক্ষয় আরও বলেন, ‘এক দশক পর যখন নিজের পুরনো ছবিগুলো দেখতাম, তখন নিজেকেই চড় মারতে ইচ্ছে করত। আমি শুধু অ্যাকশন চরিত্রই করেছি, আর কারও বিশ্বাস ছিল না যে আমি অন্য কিছু করতে পারব। তখনই মনে হল নিজেকে বদলাতে হবে, নতুন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে হবে।’
এরপর তিনি ‘হেরা ফেরি’, ‘ধড়কন’, ‘মুঝসে শাদি করোগি’, ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’ এবং ‘প্যাডম্যান’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেন। তাঁর মতে, এই ছবিগুলিই তাঁকে একজন বহুমুখী অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-এ দেখা যাবে অক্ষয়কে
খুব শীঘ্রই অক্ষয় কুমারকে দেখা যাবে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ ছবিতে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন আহমেদ খান এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন নীরজ ভোরা। প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালা।
এই মাল্টি-স্টারার ছবিতে অক্ষয়ের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন রবিনা ট্যান্ডন, সুনীল শেট্টি, জ্যাকি শ্রফ, দিশা পাটানি, আরশাদ ওয়ারসি, পরেশ রাওয়াল, জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ, রাজপাল যাদব, জনি লিভার, শ্রেয়স তলপাড়ে, আফতাব শিবদাসানি, কৃষ্ণা অভিষেক, কিকু শারদা, দালের মেহেন্দি, ফারিদা জলাল এবং উর্বশী রাওতেলা। ছবিটি ২৬ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
মুক্তির অপেক্ষায় আরও দুটি ছবি
‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-এর পাশাপাশি অক্ষয়ের ঝুলিতে রয়েছে ‘হেইওয়ান’ এবং ‘গোলমাল ৫’। ‘হেইওয়ান’ ছবিতে তাঁর সঙ্গে মুখ্য ভূমিকায় থাকবেন সইফ আলি খান। ছবিটি পরিচালনা করছেন প্রিয়দর্শন। বহু বছর পর এই ছবির মাধ্যমে আবার একসঙ্গে কাজ করছেন অক্ষয় ও সইফ।
অন্যদিকে ‘গোলমাল ৫’-এ পুরনো দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন অক্ষয় কুমারও। ছবিতে থাকবেন অজয় দেবগন, তুষার কাপুর, আরশাদ ওয়ারসি, শ্রেয়স তলপড়ে এবং শরমন জোশি। জানা গিয়েছে, এই ছবিতে অক্ষয়কে খলনায়কের ভূমিকায় দেখা যাবে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


