Alia and Salman on Student Protest: ‘আমার হৃদয় কাঁদছে’, দিল্লিকাণ্ডে লিখলেন সলমন! ‘ওদের সাহস আমাকে…,’ সুর কড়া আলিয়ার
বলিউডের জনপ্রিয় মুখেরাও ধীরে ধীরে ছাত্র আন্দোলনের স্বর হয়ে উঠছেন। প্রথমে সলমন খান, তারপরে আলিয়া ভাটের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট যেন বিক্ষোভের পিছনে ঢাল হয়ে দাঁড়াল আজকের দিনে।
যত দিন যাচ্ছে ততই যেন জটিল আকার ধারণ করছে যন্তর মন্তরে চলা ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থান বিক্ষোভ। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের কেলেঙ্কারি, ২০জন পড়ুয়ার আত্মহত্যায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে ককরোচদের ডাকে রাস্তায় নেমেছে পড়ুয়ারাই। আর বর্তমানে এই বিক্ষোভ শুধু দিল্লিতে আটকে নেই, দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। এবার বলিউডের জনপ্রিয় মুখেরাও প্রতিবাদের স্বর হয়ে উঠেছেন। প্রথমে সলমন খান, তারপরে আলিয়া ভাটের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট যেন বিক্ষোভের পিছনে ঢাল হয়ে দাঁড়াল আজকের দিনে।

শিক্ষার্থীদের জন্য আমার হৃদয় কাঁদছে: সলমন খান
সলমন খান লিখেছেন, ‘এটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি যে সহিংস হয়ে উঠল, তা দেখে সত্যিই খুব খারাপ লাগছে। যেসব শিক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবার এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল। প্রশ্নপত্র ফাঁস অত্যন্ত গুরুতর একটি সমস্যা। তবে ভালো লাগছে দেখে যে, দেশের ছাত্রছাত্রীরা একটি উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে একজোট হয়েছে এবং তাঁদের এই লড়াইয়ে অভিভাবকেরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
তিনি আরও লেখেন, ‘ওদের এই অবস্থানকে আমি আন্তরিকভাবে সম্মান জানাই। ওদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ইচ্ছাই একদিন আরও শিক্ষিত ও উন্নত ভারত গড়ে তুলবে। এই আন্দোলন, এই প্রতিবাদ—এভাবেই হওয়া উচিত। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবেই নিজেদের দাবি জানিয়েছে। ওদের সাহস, দৃঢ়তা এবং শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রজন্মই একদিন ভারতের মুখ উজ্জ্বল করবে।’
এরপর তিনি লেখেন, ‘এই বিষয়টি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এটিকে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয়। এই আন্দোলনের সমস্ত কৃতিত্ব দেশের ছাত্রছাত্রীদেরই প্রাপ্য। আমি নিশ্চিত, সরকারও তাঁদের পাশে দাঁড়াবে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলবে। এতে সবারই মঙ্গল হবে। আমি ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা করছি এবং প্রার্থনা করছি। ঈশ্বর তোমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন, যারা সত্যিই শিক্ষিত হতে চাও।’
সবশেষে তিনি লেখেন, ‘শিক্ষাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড এবং সম্মানের বিষয় হয়ে উঠুক। প্রতি বছর যেন শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়ে। এমন একদিন আসুক, যখন বিদেশ থেকেও মানুষ ভারতে পড়াশোনা করতে আসবে এবং ভারত বিশ্বের অন্যতম শিক্ষা-কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।’
এই লড়াই শিক্ষার্থীদের জন্য, শিক্ষার্থীদের দ্বারাই: আলিয়া ভাট
আলিয়া লেখেন, ‘গত কয়েকদিন আমার হৃদয়কে বারবার ভেঙেছে, আবার সেই হৃদয়কেই নতুন করে আশায় ভরিয়ে তুলেছে। নিজের অধিকারের দাবিতে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি শিক্ষার্থীর পেছনে রয়েছে একটি স্বপ্ন, একটি পরিবারের আশা এবং অসংখ্য ত্যাগ-তিতিক্ষার গল্প। তারা শুধু নিজেদের জন্য লড়ছে না, বরং তাঁদের পাশে থাকা প্রত্যেক মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করছে। একই সঙ্গে আগামী প্রজন্মের জন্যও তারা আরও সুন্দর ও ন্যায্য একটি পথ তৈরি করে দিচ্ছে।’
শিক্ষার্থীদের সাহস ও দৃঢ়তার প্রশংসা করে তিনি আরও লেখেন, ‘ওদের সাহস আমাকে বিনম্র করে দেয়। ওদের অটল মনোভাব আমাদের সবার সামনে একটি আয়না তুলে ধরে, যা প্রশ্ন করে—যারা আগামী দিনের ভারত গড়বে এবং এই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে, আমরা কি সত্যিই তাদের কথা মন দিয়ে শুনছি? এই লড়াই শিক্ষার্থীদের জন্য, শিক্ষার্থীদের দ্বারাই। ভবিষ্যৎ তাঁদেরই। জয় হিন্দ।’
এদিকে বুধবারই রাতের দিকে যন্তর মন্তরে পৌঁছেছিলেন হুমা কুরেশি ও তাঁর ভাই সাকিব সালিম। গত কয়েক দিনে রাজকুমার রাও, প্রকাশ রাজ, নাসিরুদ্দিন শাহ, অনুপম খের, শাবানা আজমি এবং জাভেদ আখতারের মতো একাধিক তারকাও প্রকাশ্যে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানিয়েছেন।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


