Acto Murderer: ১২ বছর ধরে পলাতক খুনের আসামি! ভোল বদলে আমির-রণবীরের সাথে অভিনয় করেছিল খুনি, অবশেষে পুলিশের জালে
রণবীর সিং-এর পাশাপাশি অমিতাভ বচ্চন, আমির খান, সানি দেওল ও মোহনলালের মতো মহাতারকাদের ছবিতে অভিনয় করা ৫৩ বছর বয়সী পার্শ্ব অভিনেতার গ্রেফতারির ঘটনায় এবার উঠে এল আসল সত্য। গুজরাতের আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চের জালে ধরা পড়া এই অভিনেতার আসল নাম হেমন্ত। ৯ বছর জেল খেটেছেন, ২০১৪ সাল থেকে ছিলেন পলাতক।
কথায় বলে, আইনের হাত অনেক লম্বা। মেকআপের আড়ালে আসল রূপ লুকিয়ে বা নাম-পরিচয় ভাঁড়িয়েও যে শেষ রক্ষা হয় না, তা আরও একবার প্রমাণ করল আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চ। গত বুধবার আহমেদাবাদের ঘীকান্তা মেট্রো স্টেশনের কাছ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৫৩ বছর বয়সী পার্শ্ব অভিনেতা হেমন্ত ওরফে নগিনদাস পুরুষোত্তমদাস মোদী বৈষ্ণবকে। আমির খান, অমিতাভ বচ্চন, রণবীর সিং, সানি দেওলের মতো বলিউডের প্রথম সারির তারকাদের ছবিতে অভিনয় করা এই ব্যক্তি আসলে এক কুখ্যাত খুনের আসামি, যিনি বিগত ১২ বছর ধরে পুলিশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে নিজের ‘সেফ হাউস’ বানিয়ে রেখেছিলেন।

২০০৫ সালের সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ও প্যারোল ভঙ্গ:
আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চের পুলিশ ইন্সপেক্টর পি এম ধাখরা জানিয়েছেন, ওমপ্রকাশ নামের কোনও ব্যক্তি নয়, আসল অপরাধী হলেন এই হেমন্ত। ২০০৫ সালে আহমেদাবাদের নারোদা এলাকায় একটি নৃশংস খুনের মামলায় আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের (IPC 302) পাশাপাশি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের একাধিক ধারা ছিল। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জেল খাটেন, কিন্তু ওই বছরই প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর আর জেলে ফেরেননি হেমন্ত। গত ১২ বছর ধরে পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছিল এই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামিকে।
বলিউডের ব্লকব্লাস্টার ছবিগুলোই ছিল আত্মগোপনের ঢাল!
প্যারোল ভেঙে পালিয়ে সোজা মুম্বইয়ে ডেরা বাঁধেন হেমন্ত। পুলিশ জানিয়েছে, ফেরার থাকা অবস্থাতেই তিনি হিন্দি, গুজরাতি এবং অন্যান্য ভাষার চলচ্চিত্র, থিয়েটার ও ওয়েব সিরিজে চুটিয়ে কাজ করা শুরু করেন। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও মারাত্মক অ্যাক্টিভ ছিলেন তিনি।
তদন্তে জানা গিয়েছে, হেমন্ত ইতিমধ্যেই বলিউডের একাধিক মেগা বাজেটের ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করে ফেলেছেন। অমিতাভ বচ্চন ও আমির খানের ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’, রণবীর সিংয়ের ‘জয়েশভাই জোরদার’, সারা আলি খান ও আদিত্য রায় কাপুরের আগামী ছবি ‘মেট্রো ইন দিনো’ এবং দক্ষিণী সুপারস্টার মোহনলালের ‘L2 এমপুরান’-এর মতো ছবিতে দেখা গেছে তাঁকে। এমনকি সানি দেওল ও প্রীতি জিন্টার আসন্ন হাইভোল্টেজ ছবি ‘লাহোর ১৯৪৭’-এও অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়াও ছোটপর্দায় ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’ এবং ‘মেরে সাই’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকেও মুখ দেখিয়েছেন এই খুনের আসামি!
গোপন সূত্রে খবর এবং আহমেদাবাদে খেল খতম:
ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বুধবার তাঁরা গোপন সূত্রে খবর পান যে ১২ বছর ধরে ফেরার থাকা হেমন্ত কোনও একটি কাজে আহমেদাবাদে এসেছেন। আর দেরি না করে ঘীকান্তা মেট্রো স্টেশনের কাছে ফাঁদ পাতে পুলিশ এবং তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। হেমন্তকে ইতিমধ্যেই মেহসানা জেলে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তাঁকে তাঁর বাকি জীবনের সাজা খাটতে হবে।
বলিউডের তাবড় তারকাদের পাশে দাঁড়িয়ে যিনি এতদিন ক্যামেরার সামনে অবলীলায় শট দিয়েছেন, পর্দার পেছনের আসল জীবনে তাঁর এমন ভয়ঙ্কর অপরাধের খতিয়ান দেখে স্তম্ভিত টলিপাড়া থেকে মায়ানগরী।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


