Anushka Sharma: ‘দাম কত?’ পুরুষরা উপহার দিলেই জিনিসের মূল্য খুঁজে বার করতেন অনুষ্কা, কারণ জানলে অবাক হবেন!
পুরুষদের ওপর আর্থিক নির্ভরশীলতায় কোনওদিন বিশ্বাসী নন অনুষ্কা। বিরাটকে বিয়ের পর গোল্ড ডিগার কটাক্ষ শুনেছেন, তবে জানেননি, বিরাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ-এর অনেক আগে নায়িকা জানিয়েছিলেন ডেটিংয়ের সময় সবসময় নিজের বিল নিজে মেটানো বা বিল ভাগ করে দেওয়ায় বিশ্বাসী তিনি।
বলিউড অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা (Anushka Sharma) তাঁর স্পষ্টবাদিতা এবং স্বাধীনচেতা মানসিকতার জন্য সবসময়ই প্রশংসিত। বিরাট কোহলির সঙ্গে বিয়ে করে সুখে সংসার করার অনেক আগে, কর্মজীবনের শুরুর দিকে নিজের ডেটিং লাইফ এবং টাকা-পয়সা নিয়ে এক অদ্ভুত অথচ বাস্তবসম্মত দর্শনের কথা শেয়ার করেছিলেন তিনি।

২০১১ সালে রণবীর সিং-এর সঙ্গে তাঁর ছবি ‘লেডিস ভার্সেস রিকি বহল’ (Ladies vs Ricky Bahl)-এর প্রমোশনের সময়কার একটি পুরনো ভিডিও নতুন করে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে অনুষ্কা স্বীকার করেছেন যে, পুরুষদের থেকে উপহার নিতে তিনি এতটাই অস্বস্তি বোধ করতেন যে, বাধ্য হয়ে একটি ‘নীচু মানসিতার কাজ’ করে বসতেন!
নায়িকা বলেন, ‘আমি চাই না কোনো ছেলে বলুক সে আমার পেছনে টাকা খরচ করেছে’। ভাইরাল হওয়া সেই সাক্ষাৎকারে অনুষ্কাকে বলতে শোনা যায় যে, তিনি সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবসময় আর্থিক স্বাধীনতা বজায় রাখায় বিশ্বাসী। তিনি উপহার দেওয়ার এই পুরো বিষয়টিকে বেশ অদ্ভুত বলে মনে করেন। নিজের সেই ‘চিপ হরকত’-এর খোলসা করে অনুষ্কা বলেন ‘আমার এই গিফটের পুরো ফাণ্ডাটাই খুব বোকাবোকা লাগে। সত্যি বলতে, কোনো ছেলে যখনই আমাকে কোনো উপহার দিত, আমি ভীষণ অস্বস্তিতে পড়ে যেতাম। প্রথমত, আমি গিফট নিতেই চাইতাম না। কিন্তু কোনো কারণে যদি নিতেই হতো, তবে আমি একটা ভারী সস্তা কাজ (Cheap Harkat) করতাম— আমি যেভাবেই হোক ওই উপহারটার আসল দাম খুঁজে বের করার চেষ্টা করতাম। তারপর ওই দামেরই বা তার চেয়েও বেশি দামের কোনো জিনিস সেই মানুষটিকে পাল্টা উপহার হিসেবে ফেরত দিতাম।’
এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে অনুষ্কা আরও যোগ করেন, ‘আমি জীবনে কখনোই চাই না যে কোনো ছেলে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলুক সে আমার পেছনে টাকা খরচ করেছে। এই টাকার ব্যাপারটা আমার মনের মধ্যে খুব গভীরভাবে কাজ করে। ডেটে গেলে আমাকে সবসময় বিল স্প্লিট (সমান ভাগে ভাগ) করতেই হবে। আমি কখনোই কোনো ছেলেকে একতরফা বিল মেটাতে দিতে পারি না। হয় আমি পুরো বিল দেব, না হলে অর্ধেক দেব। এই বিষয়ে আমি একদম পরিষ্কার।’
কেন এমন মনস্তত্ত্ব? চিকিৎসকদের ব্যাখ্যাঅনুষ্কার এই পুরনো ভিডিওটি ভাইরাল হতেই মনস্তাত্ত্বিকরা এর গভীরতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তাঁদের মতে, অনেক স্বনির্ভর মহিলাই উপহার পাওয়ার পর একধরণের 'ঋণগ্রস্ততা' বা মানসিক দুর্বলতায় ভোগেন। কেউ যেন তাঁদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে বা ভবিষ্যতে কেউ যাতে তাঁদের 'গোল্ড ডিগার' বা লোভী বলে অপবাদ দিতে না পারে, সেই আত্মরক্ষা থেকেই অনেকে অবিলম্বে সমমূল্যের ফিরতি উপহার দিয়ে সম্পর্কে সমতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। অনুষ্কার ক্ষেত্রেও তাঁর প্রবল আত্মসম্মানবোধ এবং স্বনির্ভর থাকার জেদ থেকেই এই আচরণের জন্ম হয়েছিল।
২০১৩ সালে একটি শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে ক্রিকেটার বিরাট কোহলির সাথে আলাপ হয় অনুষ্কার এবং ২০১৭ সালে তাঁরা ইতালিতে বিয়ে করেন। আজ দুই সন্তানের মা হয়ে এবং সফলভাবে সংসার সামলানোর পরও অনুষ্কার এই পুরনো ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ চিন্তাভাবনা নেটপাড়ার বহু তরুণীকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


