অপর্ণা সেন, শুধুমাত্র একজন দুর্দান্ত অভিনেত্রী একথা বললে ভুল বলা হবে তিনি পরিবর্তনের অন্য নাম। বারবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে নায়িকাকে। এবার দিল্লির রাজপথে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের নিয়ে মুখ খুললেন অপর্ণা সেন।

কী বললেন অপর্ণা?
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন অপর্ণা, যেখানে তিনি তুলে ধরেন দিল্লির রাজপথে হওয়া আন্দোলন, শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহারের কথা। সমাজে হওয়া এই অন্যায়ের প্রতিবাদে কী বলেন অপর্ণা?
আরও পড়ুন: NEET কেলেঙ্কারিতে মুখ খুললেন জিৎ, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে কী বললেন তিনি?
প্রবীণ চলচ্চিত্র নির্মাতা অপর্ণা সেন ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন, ‘আমার নাম অপর্ণা সেন। আমি শুধু বলতে চাই যে গত রাতে আমি আমাদের ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে গণতান্ত্রিক ভিন্নমতের অর্থ শিখেছি। আমি তাদের কাছ থেকে শিখেছি কীভাবে সংবিধানে বিশ্বাস রাখতে হয় এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে হয়। আমি আমাদের অনেকের মতোই এতটাই মনোবলহীন, এতটাই হতাশ, এতটাই ভেঙে পড়েছিলাম যে ভাবছিলাম, কোনও কিছুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কী লাভ। যেটাকে আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার বলে মনে করি, তা চেয়েই বা কী লাভ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ছাত্রছাত্রীরা আমাকে আশার আলো দেখিয়েছে। তারা আমাকে দেখিয়েছে যে এটা করা সম্ভব। তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী ছিল, তারা শান্তিপূর্ণভাবে, অহিংসভাবে, সম্পূর্ণ সংবিধান মেনে প্রতিবাদ করেছে এবং বিশ্বাস করত যে তাদের কথা শোনা হবে। এই বিষয়টি এতটাই হৃদয়স্পর্শী ছিল যে আমি। সারারাত আমি শুধু কেঁদেছি। আমি মনে মনে ভাবছিলাম, এই শিশুরা কত সাহসী, কত দৃঢ়চেতা, কত নির্ভীক! তাদের কাছ থেকে আমরা কত বড় শিক্ষা নিতে পারি। আমি শুধু মনে মনে তাদের জন্য মন থেকে আশীর্বাদ করতে এবং সাবাশ বলতে পারছিলাম। আমরা তোমাদের কাছ থেকে শিখতে পারি, ধন্যবাদ!’
{{/usCountry}}তিনি আরও বলেন, ‘এই ছাত্রছাত্রীরা আমাকে আশার আলো দেখিয়েছে। তারা আমাকে দেখিয়েছে যে এটা করা সম্ভব। তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী ছিল, তারা শান্তিপূর্ণভাবে, অহিংসভাবে, সম্পূর্ণ সংবিধান মেনে প্রতিবাদ করেছে এবং বিশ্বাস করত যে তাদের কথা শোনা হবে। এই বিষয়টি এতটাই হৃদয়স্পর্শী ছিল যে আমি। সারারাত আমি শুধু কেঁদেছি। আমি মনে মনে ভাবছিলাম, এই শিশুরা কত সাহসী, কত দৃঢ়চেতা, কত নির্ভীক! তাদের কাছ থেকে আমরা কত বড় শিক্ষা নিতে পারি। আমি শুধু মনে মনে তাদের জন্য মন থেকে আশীর্বাদ করতে এবং সাবাশ বলতে পারছিলাম। আমরা তোমাদের কাছ থেকে শিখতে পারি, ধন্যবাদ!’
{{/usCountry}}আরও পড়ুন: উল্টো রথের আগেই বড় ধামাকা! ‘উইঙ্কল-টুইঙ্কল’ ছবি মুক্তির তারিখ ঘোষণা সৃজিতের
ক্যাপশনে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘২০ জুলাই ছিল এক অবিস্মরণীয় রাত! যখন আমরা উদাসীন হয়ে পড়েছিলাম, তখন আমাদের সন্তানেরা আমাদের পথ দেখিয়েছে। আজ যেভাবে সেই নিরস্ত্র শিশুদের মারধর করা হয়েছে, তাতে আমি ক্ষুব্ধ! ওদের এত সাহস কী করে হয়! আমাদের জাতির ভবিষ্যৎকে আঘাত করার সাহস ওদের কী করে হয়? এই শিশুদের মধ্যে কেউ কেউ হবে আমাদের ভবিষ্যৎ নেতা, ডাক্তার, বিজ্ঞানী, শিক্ষক এবং শিল্পী! আর আমরা তাদের লালন-পালন করার পরিবর্তে মারধর করি! এটা অগ্রহণযোগ্য! জাতিকে অবশ্যই তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এখনই সময়, নয়তো আর কখনো নয়।’