অভিনেতা অভিনেত্রীদের জীবন দেখে অনেকেরই মনে হয় যে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড ভীষণ সুন্দর একটি জগত। কিন্তু একটি চরিত্র সকলের সামনে ফুটিয়ে তোলার জন্য যে কি ভীষণ পরিশ্রম করতে হয় একজন শিল্পীকে, তার হয়ত বিন্দুমাত্র ধারণাও থাকে না দর্শকদের। কখনও ঘন্টার পর ঘন্টা মেকআপ কখনও আবার একটানা ২৪ ঘন্টা শুটিং, চরিত্রের স্বার্থে কখনও ওজন বাড়িয়ে তোলা কখনও কমানো শিল্পীদের কাছে এই সমস্ত ব্যাপার ভীষণ স্বাভাবিক।

এবার তেমনই একটি গল্প সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরলেন অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। ‘জয় বাবা লোকনাথ’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন একটা গোটা দিন কাদা মেখে বসে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। অভিনয় জগতে টিকে থাকতে গেলে যে ঠিক কতটা কষ্ট করতে হয়, সেটাই তিনি তুলে ধরলেন নিজের পোষ্টের মাধ্যমে।
আরও পড়ুন: এবার দেবের মুখোমুখি উত্তম কুমার! ‘দাদাগিরি’তে আসছে নতুন চমক
‘জয় বাবা লোকনাথ’ ধারাবাহিকের একটি দৃশ্যের মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে অভিনেতা লেখেন, ‘অভিনয় জগত সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা যে এটা খুব সহজ একটা জায়গা অর্থ উপার্জন করার জন্য। অনেকেই মজা করে বলেন যে আমাকে একটা চাকরের পাঠ দাও না, যেন চাকরের চরিত্র করা সব থেকে সহজ। এই প্রফেশনে কতটা কষ্ট করতে হয় তার একটা উদাহরণ আজ তুলে ধরছি।’
ভাস্বর লেখেন, 'জয় বাবা লোকনাথ ধারাবাহিকে শুটিং চলাকালীন একদিন একটা সিম ছিল যেখানে এক অন্ধ মহিলা লোকনাথের গায়ে মাটি মাখিয়ে তাঁকে শিব জ্ঞানে পুজো করবেন। শুটিং লোকেশন ছিল নলবনে, সময়টা শীতকাল। সকাল ১১ টা নাগাদ শুটিং শুরু হয়েছিল। আমার সারা গায়ে মাথায় মাটি মাখানো হলো, ওইভাবে সারাদিন বসে ছিলাম রাত ন'টা অবধি। মাঝে লাঞ্চ ব্রেক হয়েছিল কিন্তু আমি খেতেও পারিনি বিশ্রাম নিতেও পারিনি। একটা টুলে সারাদিন বসে ছিলাম। আবার যখন আগের মাটি শুকিয়ে গিয়েছে, নতুন করে মাটি লেপে দেওয়া হয়েছে।'
{{/usCountry}}ভাস্বর লেখেন, 'জয় বাবা লোকনাথ ধারাবাহিকে শুটিং চলাকালীন একদিন একটা সিম ছিল যেখানে এক অন্ধ মহিলা লোকনাথের গায়ে মাটি মাখিয়ে তাঁকে শিব জ্ঞানে পুজো করবেন। শুটিং লোকেশন ছিল নলবনে, সময়টা শীতকাল। সকাল ১১ টা নাগাদ শুটিং শুরু হয়েছিল। আমার সারা গায়ে মাথায় মাটি মাখানো হলো, ওইভাবে সারাদিন বসে ছিলাম রাত ন'টা অবধি। মাঝে লাঞ্চ ব্রেক হয়েছিল কিন্তু আমি খেতেও পারিনি বিশ্রাম নিতেও পারিনি। একটা টুলে সারাদিন বসে ছিলাম। আবার যখন আগের মাটি শুকিয়ে গিয়েছে, নতুন করে মাটি লেপে দেওয়া হয়েছে।'
{{/usCountry}}আরও পড়ুন: শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে উজ্জয়নীতে সস্ত্রীক জিৎ, ছবির সাফল্য কামনায় দিলেন পুজো
এটা তো ভীষণ সামান্য একটা উদাহরণ দিয়েছেন অভিনেতা। অনেক সময় শুটিং চলাকালীন আঘাত লেগে দিনের পর দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয় শিল্পীকে, কিন্তু এই অভিনয় জগতকে যারা ভালবাসে তাদের কাছে এই সমস্ত ব্যাপার ভীষণ তুচ্ছ। তবে সবশেষে একটা কথাই বলতেই হয়, বাইরে থেকে যতই চাকচিক্য থাকুক না কেন, যতই অর্থ উপার্জনের হাতছানি থাকুক না কেন, একজন শিল্পীকে একটি চরিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য যে পরিশ্রম করতে হয় তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।