‘এবার আমায় দেশদ্রোহী বলবে…’! ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন, ‘আরশোলা’দের পাশে দিলজিত
ছাত্র আন্দোলন ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও লাঠিচার্জের ঘটনার পর এবার মুখ খুললেন গায়ক-অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। তিনি আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি জানিয়েছেন, এই সমর্থনের জেরেও তাঁকে ফের ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’ তকমার মুখে পড়তে হতে পারে।
২০ জুলাই সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজধানী। শিক্ষা সংস্কার ও পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে আয়োজিত এই আন্দোলনে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার পর একাধিক তারকার মতো এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পঞ্জাবি গায়ক ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। তিনি লেখেন, সোমবার যা ঘটেছে তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, ছাত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত নয় এবং প্রশাসনের উচিত তাদের দাবি মন দিয়ে শোনা। তিনি আরও বলেন, মানুষের কণ্ঠস্বরই আসলে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর।
তবে নিজের পোস্টেই দিলজিৎ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই অবস্থান নেওয়ার জন্য তাঁকে আবারও ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’ বলা হতে পারে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কৃষক আন্দোলনের সময়ও তাঁদের সমর্থন করায় তাঁকে প্রবল সমালোচনা, এমনকি কিছু আইনি জটিলতারও মুখোমুখি হতে হয়েছিল। যদিও সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি। তাঁর কথায়, সবকিছুই ঈশ্বর দেখছেন এবং তিনি সকলের মঙ্গল কামনা করেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কয়েক দিন আগেই একটি ইনস্টাগ্রাম লাইভে একই আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলজিৎ মন্তব্য করতে চাননি। তখন তিনি বলেছিলেন, নিজের ‘অরা ট্যুর’-এর ব্যস্ততার কারণে পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, তিনি একজন শিল্পী, কোনও রাজনৈতিক নেতা নন, তাই তাঁকে এই বিতর্কের বাইরে রাখা হোক।
তবে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা ছাত্র আন্দোলনে এর আগেই প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও অভিনেতা প্রকাশ রাজও। ছাত্রদের দাবি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে সওয়াল করেছেন তাঁরাও।
এদিকে দিলজিতের পেশাগত জীবনও সম্প্রতি আলোচনায়। তাঁর অভিনীত ‘সতলুজ’ ছবিটি দীর্ঘ চার বছর সেন্সর বোর্ডের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকার পর চলতি মাসে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পায়। তবে মুক্তির মাত্র দু'দিনের মধ্যেই ছবিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, যা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


