Taapsee Pannu: ইনস্টাগ্রামে দেখাতে হবে মেদহীন শরীর! নিজের উপরই অত্যাচার করেছেন, হুঁশিয়ারি তাপসীর
Taapsee Pannu: তাঁর অভিনয় দক্ষতা বরবারই প্রশংসা কুড়োয়। কিন্তু শরীর নিয়ে ছুৎমার্গ তাঁর মধ্যেও রয়েছে। মেদহীন পেট হতেই হবে, এই জেদ চেপে বসেছিল তাপসীর। কী ক্ষতি হয় নায়িকার?
Taapsee Pannu: গ্ল্যামার দুনিয়ার নিখুঁত সৌন্দর্য আর ‘ফ্ল্যাট মিডরিফ’ বা মেদহীন পেটের চাবুক ফিগার ধরে রাখতে অভিনেত্রীদের ঠিক কতটা মানসিক ও শারীরিক চাপ নিতে হয়, তা আরও একবার প্রকাশ পেল বলিপাড়ায়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামের স্টোরিতে এসে নিজের জীবনের এক চরম অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন বলিউড অভিনেত্রী তাপসী পান্নু। পর্দায় বা ছবিতে নিখুঁত দেখানোর অন্ধ মোহে তিনি কীভাবে নিজের শরীরের ওপর অত্যাচার চালিয়েছিলেন, সেই অতীত মনে করে আজ নিজেই আফসোস করছেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে আজকের প্রজন্মের তরুণীদের স্রেফ সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘পিকচার-পারফেক্ট’ ছবির ফাঁদে পড়ে এই কৃত্রিম উপায়ে শরীরকে কষ্ট না দেওয়ার জন্য কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

ডায়েট নয়, অতিরিক্ত ওয়ার্কআউটই ডেকে এনেছিল বিপদ!
তাপসী জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত ফিট থাকা সত্ত্বেও পেটের নিচের অংশের জেদি মেদ (Lower belly fat) কেন কিছুতেই কমছিল না, তা নিয়ে ওঁর মনে এক তীব্র অবসেশন তৈরি হয়েছিল। আর সেই ‘ফ্ল্যাট মিডরিফ’ পাওয়ার চক্করে তিনি এতটাই তীব্র শরীরচর্চা শুরু করেন যে নিজের শরীরকে একেবারে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছিলেন।
তাপসী ওঁর পুষ্টিবিদ (Nutritionist) মুনমুন গানেরিওয়ালের দেওয়া পরামর্শের কথা উল্লেখ করে এক চমকপ্রদ তথ্য শেয়ার করেন। তিনি বলেন, আমরা যখন অতিরিক্ত ওয়ার্কআউট করে শরীরকে বেশি পুশ করি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক একটি অ্যালার্ম বাজিয়ে শরীরকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করে। এর ফলে শরীর জল ধরে রাখতে (Water retention) শুরু করে, যা পেটের মেদকে কমানোর বদলে উল্টে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাপসীর স্পষ্ট বার্তা, প্রতিটি নারীর শরীর আলাদা এবং হরমোনের নানা পরিবর্তনের কারণে প্রতিদিন পেট সমান বা একরকম দেখতে লাগা অসম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা, পেটের নিচের ওই সামান্য মেদ বা জল আসলে নারীদের প্রজনন অঙ্গগুলোকে (Reproductive organs) সুরক্ষিত রাখতে প্রাকৃতিকভাবেই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং সুস্থ শরীরের লক্ষণ! নিজের শরীরকে অবর্ণনীয় কষ্ট দেওয়ার পর অনেক দেরিতে এই সত্যিটা অনুধাবন করেছেন বলে জানান তাপসী।
বক্স অফিসে ধাক্কা খেলেও ওটিটিতে নতুন লড়াইয়ের প্রস্তুতি তাপসীর
বলিউডের এই স্পষ্টবক্তা অভিনেত্রীকে অতি সম্প্রতি বড় পর্দায় দেখা গিয়েছে অনুভব সিনহার বহুল চর্চিত কোর্টরুম ড্রামা ‘অসি’ (Assi)-তে। কানাই কুশ্রুতি, রেবতী, মনোজ পাহওয়া, কুমুদ মিশ্র এবং মহম্মদ জিশান আয়ুবের মতো শক্তিশালী তারকাদের মেলবন্ধন থাকা সত্ত্বেও ছবিটি বক্স অফিসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। বিশ্বজুড়ে মাত্র ১৪.৯৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেই থিয়েটারে ওঁর সফর শেষ করতে হয়েছে ছবিটিকে, যদিও সমালোচকদের মহলে ছবিটি বেশ প্রশংসিত হয়েছিল।
তবে বক্স অফিসের সেই ব্যর্থতা ভুলে তাপসী এখন কোমর বাঁধছেন ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্ম কাঁপানোর জন্য। নেটফ্লিক্সে খুব শীঘ্রই মুক্তি পেতে চলেছে ওঁর আগামী ছবি ‘গান্ধারী’ (Gandhari)। দেবাশিস মাখিজা পরিচালিত এবং কণিকা ধিলোঁর লেখা ও প্রযোজিত এই টানটান অ্যাকশন-থ্রিলারে তাপসীকে এক লড়াকু মায়ের চরিত্রে দেখা যাবে, যিনি ওঁর অপহৃত সন্তানের খোঁজে মরিয়া। এই ছবিতে তাপসীর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখা যাবে টলিউডের স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এবং ইশওয়াক সিংকেও। রুপোলি পর্দার এই ওটিটি ধামাকা দেখার পাশাপাশি তাপসীর এই ‘বডি পজিটিভিটি’র বার্তাও এখন নেটপাড়ায় বিপুল প্রশংসা কুড়োচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


