সম্মতিহীন সেক্সের প্রচার! অবসেশন প্রসঙ্গ টেনে কুরুচিকর কন্ডোমের বিজ্ঞাপন, তোপের মুখে ডিউরেক্স পাকিস্তান

নন-কনসেনসুয়াল সেক্সকে রোম্যান্টিক ভঙ্গিতে পেশ করার চেষ্টা। বিজ্ঞাপনী প্রচার কৌশলের জেরে নিন্দার মুখে ডিউরেক্স পাকিস্তান। কী ঘটেছে?

Published on: Jun 18, 2026, 07:09:40 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

চলতি বছরে যে কয়েকটি ছবি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তার মধ্যে অন্যতম শীর্ষ তালিকায় রয়েছে কারি বার্কার পরিচালিত মনস্তাত্ত্বিক হরর ছবি ‘অবসেশন’ (Obsession)। মাত্র ৭ লক্ষ ৫০ হাজার ডলারের নামমাত্র বাজেটে তৈরি এই ছবিটি বিশ্বজুড়ে ২৫ কোটি ডলারের বেশি ব্যবসা করে বক্স অফিসে ইতিহাস গড়েছে। একাকীত্ব, বিষাক্ত সম্পর্ক, পুরুষের অযাচিত অধিকারবোধ এবং নারীর স্বাধীনতা হরণের মতো মনস্তাত্ত্বিক বিষয়কে পর্দায় নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য ছবিটি সমালোচকদের বিপুল প্রশংসাও কুড়িয়েছে।

সম্মতিহীন সেক্সের প্রচার! কুরুচিকর কন্ডোমের বিজ্ঞাপন,কটাক্ষ ডিউরেক্স পাকিস্তানকে
সম্মতিহীন সেক্সের প্রচার! কুরুচিকর কন্ডোমের বিজ্ঞাপন,কটাক্ষ ডিউরেক্স পাকিস্তানকে

তবে এই সফল ছবির অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটকে বিকৃত উপায়ে ব্যবহার করে একটি বিজ্ঞাপনী প্রচার ফাঁদার অভিযোগে এবার তীব্র জনরোষের মুখে পড়ল বিখ্যাত কন্ডোম ব্র্যান্ড ডিউরেক্স পাকিস্তান (Durex Pakistan)। ছবির মূল সুর এবং যৌন ‘সম্মতি’র মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সস্তা মার্কেটিং করার দায়ে ব্র্যান্ডটির বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন নেটিজেনরা।

‘অবসেশন’-এর প্লট ও বিতর্কিত বিজ্ঞাপনী প্রচার

ছবির গল্প অনুযায়ী, বিয়ার (মাইকেল জনস্টন) নামের এক নিঃসঙ্গ তরুণ তার ছোটবেলার বন্ধু নিকি (ইন্দে নাভারেত্তে)-র ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ‘ওয়ান উইশ উইলো’ নামক একটি অলৌকিক জিনিসের সাহায্য নেয়। তার ইচ্ছা পূরণ হলেও তা এক ভয়ানক ও মানসিক বিকৃতির রূপ নেয়, যেখানে নিকি নিজের ইচ্ছা বা স্বাধীনতার ওপর সমস্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ছবির এই অংশটি মূলত একটি অস্বাস্থ্যকর ও জোরপূর্বক সম্পর্কের ট্রমাকে তুলে ধরে।

অথচ, ডিউরেক্স পাকিস্তান তাদের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই থিমটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং চটকদার রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। বিজ্ঞাপনী পোস্টে দেখা যায়— ছবির সেই অলৌকিক ‘ওয়ান উইশ উইলো’র পাশে রাখা রয়েছে একটি ডিউরেক্স কন্ডোমের প্যাকেট, আর দরজায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন অসহায় নিকি। পোস্টের মূল ট্যাগলাইনে লেখা হয়— ‘তাকে আপনার প্রতি পাগল (Obsessed) করে তুলুন।’ আর ক্যাপশনে লেখা হয়— ‘এটি আপনার ফ্রিকি নিকিকে পাঠিয়ে দিন!’

‘দেখে বমি আসছে!’— তীব্র ক্ষোভ নেটিজেনদের

ছবির মূল নির্যাসকে অগ্রাহ্য করে এবং একপ্রকার জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ককে রোমান্টিক তকমা দিয়ে বিজ্ঞাপনে তুলে ধরায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা। বিজ্ঞাপনটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই কড়া প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। এক ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারী কমেন্ট করেছেন, ‘এটি দেখে আক্ষরিক অর্থেই বমি আসছে।’ অপর একজন লিখেছেন, ‘বিজ্ঞাপনের জন্য এটি অত্যন্ত জঘন্য এবং ভুল একটি রেফারেন্স।’

আন্তর্জাতিক স্তরে ডিউরেক্সকে ট্যাগ করে অন্য এক ব্যবহারকারী তোপ দেগে লিখেছেন, ‘কন্ডোমের পাশে ওই জাদুগাছটি রাখা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আপনারা কেন পরোক্ষে অমতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন বা নন-কনসেনসুয়াল সেক্স-কে প্রোমোট করছেন? আপনারা সত্যিই ভীষণ জঘন্য!’ বিতর্কের মুখে পড়ে বিজ্ঞাপনটি মুছে দেয় পাকিস্তানের ওই ব্র্য়ান্ড।

কাঠগড়ায় বিপণন কৌশল

চলচ্চিত্র বিশ্লেষক এবং সাধারণ দর্শকদের মতে, যেকোনো ট্রেন্ডিং বিষয়কে বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করার একটি সামাজিক সীমা থাকা উচিত। ‘অবসেশন’ ছবিটি যেখানে নারীর অসহায়তা এবং বিষাক্ত পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে একটি জোরালো বার্তা দেয়, সেখানে ডিউরেক্সের মতো একটি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড সেই ট্রমাকেই একটি ‘মার্কেটিং গিমিক’ বা সস্তা চটকদার রসদ হিসেবে ব্যবহার করায় তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More