‘কোন যৌন উসকানি ছাড়াও…’! গদর নিয়ে বিস্ফোরক আমিশা, ধুরন্ধর-অ্য়ানিমেলকে খোঁচা?
আমিশা প্যাটেলের মতে, ‘গদর’ আজও দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় কারণ ছবিটিকে সফল করতে আইটেম গান, কম্পিউটার গ্রাফিক্স বা অতিরিক্ত যৌন আবেদন প্রদর্শনের মতো কোনও কৌশল ব্যবহার করা হয়নি।
হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে ‘গদর: এক প্রেম কথা’ লেখা থাকবে সোনালি অক্ষরে। মুক্তির ২৫ বছর পরও ছবিটি নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা কমেনি। এই বিশেষ উপলক্ষে ছবির প্রধান অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেল তাঁর জনপ্রিয় চরিত্র ‘সাকিনা’, ছবির নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং ‘গদর’-এর অসাধারণ সাফল্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমিশা জানান, গত আড়াই দশকে অসংখ্য বড় বাজেটের ছবি এসেছে এবং গিয়েছে, কিন্তু দর্শকসংখ্যা ও আবেগের দিক থেকে ‘গদর’-এর সমকক্ষ খুব কম ছবিই হতে পেরেছে। তাঁর মতে, এই ছবির সাফল্যের পেছনে ছিল শুধুমাত্র শক্তিশালী গল্প, আন্তরিক অভিনয় এবং দর্শকদের সঙ্গে আবেগের সংযোগ।
অভিনেত্রীর কথায়, ‘গদর কোনও ধরনের শর্টকাট বা প্রচারমূলক কৌশলের উপর নির্ভর করে সফল হয়নি। ছবিতে কোনও আইটেম গান ছিল না, অতিরিক্ত গ্ল্যামার বা ওভার-সেক্সুয়ালাইজেশনও ছিল না। তবুও এটি মানুষের হৃদয় জয় করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘গদর এমন একটি ছবি, যা কোনও বিশেষ কৌশল ছাড়াই সফল হয়েছিল। সেখানে না ছিল আইটেম নম্বর, না ছিল কম্পিউটার গ্রাফিক্সের চমক। তারা সিং ছবির দ্বিতীয়ার্ধের বেশিরভাগ সময় একই পোশাকে ছিল। আর সাকিনার মাথা থেকে পা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ঢাকা থাকত। আমরা শুধু গল্পটাকে বিশ্বাস করেছি এবং মনপ্রাণ ঢেলে কাজ করেছি।’
আমিশা এ-ও স্মরণ করেন যে ‘সাকিনা’ চরিত্রটি পাওয়ার পথ মোটেই সহজ ছিল না। তিনি জানান, এই চরিত্রের জন্য প্রায় ৫০০ অভিনেত্রী অডিশন দিয়েছিলেন। কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি চরিত্রটির জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
অভিনেত্রী বলেন, ‘সিলেক্ট হওয়ার পর আমি অনেক গবেষণা করেছিলাম। উর্দু উচ্চারণ নিয়ে আলাদা করে কাজ করেছি। সেই সময়ের মানুষের শরীরী ভাষা, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রা বোঝার চেষ্টা করেছি। আমরা মসজিদে গিয়েছি, নামাজের প্রক্রিয়া দেখেছি। ব্রিটিশ শাসনকাল এবং দেশভাগের সময়কার ইতিহাস নিয়েও পড়াশোনা করেছি।’
তিনি আরও জানান, পরিচালক অনিল শর্মা তাঁকে সাকিনা চরিত্রটিকে গভীরভাবে বুঝতে এবং পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর মতে, চরিত্রটির আবেগ, সারল্য এবং মানসিক অবস্থাকে বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করার জন্য পরিচালকের নির্দেশনা ছিল অত্যন্ত সহায়ক।
সাক্ষাৎকারে আমিশা ভক্তদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি হৃদয়ের গভীর থেকে দর্শকদের ধন্যবাদ জানাই। এত বছর পরও মানুষ গদরকে যে ভালোবাসা দেয়, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। কোনও নতুন ছবি আসুক বা যাক, গদরের বক্স অফিস রেকর্ড এখনও মানুষের আলোচনায় থাকে।’
অভিনেত্রী জানান, সম্প্রতি যখন তিনি জানতে পারেন যে ‘গদর’ এবং ‘গদর ২’-এর সম্মিলিত দর্শকসংখ্যা বহু আধুনিক ফ্র্যাঞ্চাইজিকেও ছাড়িয়ে গেছে, তখন তিনি নিজেও বিস্মিত হয়েছিলেন।
তাঁর মতে, ‘গদর’-এর সাফল্যের আসল ভিত্তি ছিল তারা সিং এবং সাকিনার প্রেমের গল্প। এই সম্পর্কই ছবির প্রাণশক্তি হয়ে উঠেছিল। আমিশা বলেন, ‘তারা প্লাস সাকিনা মানেই গদর। এই দুই চরিত্রের মধ্যে যেকোনও একটিকে সরিয়ে দিলে গদর আর গদর থাকবে না। ছবির আবেগ এবং আত্মা এই সম্পর্কের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে।’
সানি দেওলের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, সানি সবসময়ই অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং সহায়ক সহ-অভিনেতা ছিলেন। নতুন অভিনেত্রী হিসেবে তিনি যে সমর্থন পেয়েছিলেন, তা আজও ভোলেননি।
আমিশার কথায়, ‘সানিজির মধ্যে অসাধারণ ধৈর্য রয়েছে। তিনি খুবই সাপোর্টিভ ছিলেন। অনেক সময় অনিল শর্মাজি কোনও দৃশ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকলে সানিজি বলতেন, তিনি আমার সঙ্গে দৃশ্যটি রিহার্স করিয়ে নেবেন। তিনি খুব শান্তভাবে সবকিছু বুঝিয়ে দিতেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কখনও তাঁকে রাগ করতে দেখিনি, কখনও ধৈর্য হারাতেও দেখিনি। তিনি বুঝতেন যে আমি ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন এবং সাকিনার মতো একটি জটিল চরিত্রে অভিনয় করা সহজ নয়। তাই সবসময় আমাকে উৎসাহ দিতেন এবং সাহায্য করতেন।’
‘গদর’-এর ২৫ বছর পূর্তিতে আমিশা প্যাটেলের এই স্মৃতিচারণ আবারও মনে করিয়ে দিল, কেন তারা সিং ও সাকিনার প্রেমকাহিনি আজও ভারতীয় সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। সময় বদলেছে, সিনেমার ধরন বদলেছে, কিন্তু ‘গদর’-এর আবেগ এবং জনপ্রিয়তা এখনও অমলিন।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


