'রুনা লায়লাকে দিয়ে দিন-বিনিময়ে ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে যান',গায়িকা বললেন- ‘আমি যাইনি’

ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ— উপমহাদেশের তিন দেশেই সমান জনপ্রিয় রুনা লায়লা। ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’ থেকে শুরু করে ‘দে দে পিয়ার দে’ বা ‘সাধের লাউ’— তাঁর প্রতিটি গানই কালজয়ী।

Published on: Jul 25, 2026, 11:30:40 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

উপমহাদেশের সঙ্গীত জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি রুনা লায়লা (Runa Laila)। তাঁর কণ্ঠের জাদু বাংলা, হিন্দি, উর্দু কিংবা পাঞ্জাবি— সমস্ত ভাষার সীমানা পেরিয়ে কোটি কোটি সঙ্গীতপ্রেমীর হৃদয় জয় করেছে। ৭৪ বছর বয়সেও তাঁর কণ্ঠ ঝড় তোলে তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে। সম্প্রতি রুনা লায়না সঙ্গীতসন্ধ্যায় চেনা মেজাজে পাওয়া গেল শিল্পীকে। স্টেজে আলাপচারিতার মাঝে ফিরে এল ভারতের বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা লেখক খুশবন্ত সিং (Khushwant Singh)-এর একটি বহুল চর্চিত মন্তব্য।

'রুনা লায়লাকে দিয়ে দিন-বিনিময়ে ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে যান',গায়িকা বললেন- ‘আমি যাইনি’
'রুনা লায়লাকে দিয়ে দিন-বিনিময়ে ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে যান',গায়িকা বললেন- ‘আমি যাইনি’

‘রুনা লায়লাকে দিয়ে দাও, বদলে ফারাক্কা নিয়ে যাও’

ইলাস্ট্রেটেড উইকলি অব ইন্ডিয়া’-র নামজাদা সম্পাদক ছিলেন খুশবন্ত সিং। তিনি সাধারণত খুব কম মানুষেরই প্রশংসা করতেন, সমালোচনাই বেশি করতেন। কিন্তু দিল্লিতে রুণা লায়লার একটি কনসার্ট পুরোটা দেখার পর তিনি তাঁর পত্রিকায় বাংলাদেশি গায়িকাকে নিয়ে লম্বা আর্টিকেল লেখেন খুশবন্ত সিং।

কী লিখেছিলেন খুশবন্ত সিং?

দিল্লির সেই কনসার্টে এসে খুশবন্ত সিং গায়িকার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কোনো কথা বলেননি। কিন্তু পরে নিজের পত্রিকায় তিনি লেখেন, ‘ রুনা লায়লার পারফরম্যান্স কেবল কান দিয়ে শোনার নয়, তাঁর উপস্থিতি ও পরিবেশনা দৃশ্যতও এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।’ বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্যে রসিকতা ও গভীর প্রশংসার ছলে খুশবন্ত সিং লিখেছিলেন—'দয়া করে রুনা লায়লাকে আমাদের দিয়ে দিন, আর বিনিময়ে ফারাক্কার সমস্ত জল নিয়ে নিন।'

‘ফারাক্কার বিনিময়ে ভারতে যাইনি, এই দেশেই থাকব’

খুশবন্ত সিং-এর এই প্রসঙ্গের ওপর ভিত্তি করে ভারতে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার প্রস্তাব ও প্রলোভন নিয়ে রুনা লায়লা স্পষ্ট জানান, ‘ফারাক্কার বিনিময়ে হলেও আমাকে ভারত চেয়েছিল, কিন্তু আমি যাইনি। আমি এই দেশেই আছি, আর এইখানেই থাকব।’

সীমান্ত ছাড়ানো সুরের জাদু

ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ— উপমহাদেশের তিন দেশেই সমান জনপ্রিয় রুনা লায়লা। ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’ থেকে শুরু করে ‘দে দে পিয়ার দে’ বা ‘সাধের লাউ’— তাঁর প্রতিটি গানই কালজয়ী। ভারতের সঙ্গীত জগৎ তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান জানালেও এবং বারবার তাঁকে আপন করে নিতে চাইলেও, তিনি সর্বদা নিজ দেশ বাংলাদেশের পরিচয়েই বিশ্বমঞ্চে গান গেয়ে গিয়েছেন।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More