২০২৬ জুড়ে ঘটনার ঘনঘটা টলিপাড়া জুড়ে। একাধিক নক্ষত্রপতন থেকে শুরু করে অসুস্থতা, বহু তারকার পর্দা থেকে সরে দাঁড়ানো। এবার পর্দা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন অভিনেত্রী গুলশনারা খাতুন।

ছোট পর্দা থেকে সিরিজ, ছবি সব ক্ষেত্রেই নানা কাজের মাধ্যমে ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী। কিন্তু এবার তিনি পর্দা থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত?
আনন্দবাজার ডট কমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গুলশনারা এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘পেশাদার হিসাবে বলছি, আমার কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তে অবনমন দেখছি। তা কাজের পরিবেশ হোক কিংবা আদর্শ। মনে হয়েছে, এই পেশায় থাকতে হলে যা যা যোগ্যতা লাগে, সেটা আমার নেই। আমি শুধু অভিনয়টুকু করার চেষ্টা করি।’
আসলে অনেক দিন থেকেই মনে মনে এক প্রকার সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অভিনেত্রী। ২০১৮ থেকে ক্যামেরার সামনে কাজ শুরু করেছিলেন গুলশনারা। তারপর নানা ছবি, সিরিজ ও মেগায় নজর কেড়েছেন। বিভিন্ন চরিত্রে তিনি নিজেকে মেলে ধরেছেন। কিন্তু তারপরও কাজের জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই, অনিশ্চয়তা। ফলে সবটা মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত অভিনেত্রীর।
আরও পড়ুন: ‘রাঙামতি তীরন্দাজ’-এ ফের নতুন এন্ট্রি! সোমু বিপরীতে কোন নায়ককে দেখা যাবে?
{{/usCountry}}আরও পড়ুন: ‘রাঙামতি তীরন্দাজ’-এ ফের নতুন এন্ট্রি! সোমু বিপরীতে কোন নায়ককে দেখা যাবে?
{{/usCountry}}অভিনেত্রীকে শেষ 'কনে দেখা আলো' মেগায় দেখা গিয়েছিল। ডিসেম্বরে শেষ কাজ করেছেন। বিনোদন জগতে কাজের অনিশ্চতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা তো দিনমজুর। আমি তো জানি না আমার ১০০ দিনের কাজটাও আছে কিনা। হয়তো জানি একটি সংশ্লিষ্ট ধারাবাহিকে ১০ দিনের কাজ রয়েছে।'
আর সেই কারণেই একজন অভিনেত্রীকে একাধিক কাজ করতে হয়। তাঁর কথায়, 'যেহেতু আমি ঠিকে শ্রমিক, তাই আরও তিন-চারটে জায়গা কাজ করাটাই স্বাভাবিক। সংসার চালাতে হবে তো। মাচার অনুষ্ঠান করার পারদর্শিতা নেই আমার। না আছে জিম, বিউটি পার্লার বা অন্য কিছু। তাই তিন চার জায়গায় আমাকে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন দেখছি যে, কয়েক মাস টানা কাজ থাকছে না, আবার অবসাদ গ্রাস করছে। দাদা-দিদিদের তুষ্ট করতে পারছি না।’ শেষে গুলশনারা বলেন, ‘বয়সও হচ্ছে, আর ইচ্ছা নেই। এটা একটা অসম লড়াই।’ তিনি জানিয়েছেন মঞ্চে ছাড়া আরও কোনও মাধ্যমেই অভিনয় করবেন না তিনি।