সুকেশ-কাণ্ডে বড় স্বস্তি? সুপ্রিম কোর্টে আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি পেলেন জ্যাকলিন

প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে যুক্ত জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজে মামলায় দিল্লির একটি আদালতের অভিযোগ গঠনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট।

Published on: Jun 25, 2026, 14:40:31 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজকে ঘিরে বহুল আলোচিত ২০০ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা মামলায় নতুন মোড়। অভিযুক্ত প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে যুক্ত এই মামলায় দিল্লির একটি আদালতের অভিযোগ গঠনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, আইনের অধীনে উপলব্ধ অন্য যে কোনও প্রতিকার চাইলে জ্যাকলিন তা গ্রহণ করতে পারবেন।

জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ।
জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ।

সুপ্রিম কোর্টে কী ঘটল?

বৃহস্পতিবার বিচারপতি বি ভি নাগরত্না এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। জ্যাকলিনের পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী মানাইল সিংহল আদালতকে জানান যে অভিনেত্রী তাঁর আবেদনটি প্রত্যাহার করতে চান এবং নিম্ন আদালতে উপলব্ধ আইনি প্রতিকারগুলির পথ অনুসরণ করতে ইচ্ছুক।

এই আবেদন মঞ্জুর করে বেঞ্চ মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়। পাশাপাশি আদালত জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে আইন অনুযায়ী অন্য কোনও প্রতিকার চাইতে জ্যাকলিনের কোনও বাধা নেই।

কেন সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন জ্যাকলিন?

জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ দিল্লির অতিরিক্ত দায়রা বিচারক প্রশান্ত শর্মার ৩০ মে-র আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ওই আদেশে বলা হয়েছিল যে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র জমা দেওয়া নথিপত্রের ভিত্তিতে জ্যাকলিন এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণায় প্রাথমিক মামলা গঠনের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে।

আদালতের মতে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণা প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর ধারা ৩ অনুযায়ী অভিযোগ আনা যেতে পারে, যা ধারা ৪-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ইতিমধ্যেই গঠিত হয়েছে অভিযোগ

গত ৩ জুন সুকেশ চন্দ্রশেখর, জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ এবং মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। এর পরই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

প্রসঙ্গত, এর আগে সুপ্রিম কোর্ট জ্যাকলিনের বিরুদ্ধে চলা আর্থিক প্রতারণা মামলা প্রক্রিয়া বাতিল করার আবেদন খারিজ করেছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও শীর্ষ আদালত তাঁর অনুরূপ একটি আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে তাঁর আপত্তিগুলি বিবেচনার জন্য নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেয়।

কী এই ২০০ কোটি টাকার মামলার পটভূমি?

সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক প্রতারণা, এবং ব্ল্যাকমেলিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তিনি জেলবন্দি অবস্থায় থেকেও নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রতারণা করেন।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে প্রাক্তন ফোর্টিস হেলথকেয়ারের প্রোমোটার শিবিন্দর মোহন সিংয়ের স্ত্রী অদিতি সিংয়ের কাছ থেকে ২১৫ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, শিবিন্দরের জামিনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই অর্থ আদায় করা হয়েছিল।

জ্যাকলিনের বিরুদ্ধে ইডির অভিযোগ কী?

ইডির অভিযোগ অনুযায়ী, জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ দীর্ঘ সময় ধরে সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং তাঁর কাছ থেকে একাধিক মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই উপহারগুলি অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছিল।

ইডি আরও দাবি করেছে, সুকেশের অপরাধমূলক অতীত সম্পর্কে অবগত থাকার পরেও অভিনেত্রী তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন এবং সেই অপরাধলব্ধ অর্থের সুবিধাও নিয়েছিলেন। যদিও জ্যাকলিনের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে তিনি এই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী এবং নিজেও প্রতারণার শিকার।

কীভাবে পাচার করা হয়েছিল টাকা?

তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, সুকেশ চন্দ্রশেখর প্রতারণা, তোলাবাজি, ছদ্মবেশ ধারণ এবং অপরাধমূলক ভয় দেখানোর মাধ্যমে ২০০ কোটিরও বেশি টাকার অবৈধ সম্পদ তৈরি করেছিলেন।

পরবর্তীতে সহযোগীদের সাহায্যে ওই অর্থ বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, হাওয়ালা চ্যানেল, নগদ লেনদেন এবং একাধিক শেল কোম্পানির মাধ্যমে ঘুরিয়ে বৈধ সম্পদ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি ইডির।

আর কাদের নাম রয়েছে এই মামলায়?

জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ ছাড়াও এই মামলায় সুকেশ চন্দ্রশেখরের স্ত্রী লীনা পাওলোস-সহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। ইডি এখনও মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুকেশ-কাণ্ডে জ্যাকলিনের আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি। তবে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত তাঁর পরবর্তী আইনি কৌশলের দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছে আইন মহল।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More