Jasmin Bhasin: 'এখনও বিপদমুক্ত নই', কঠিন অসুখ বাসা বেঁধেছে শরীরে, দুবাই থেকে ফিরলেন জেসমিন
দুবাইয়ে জন্মদিন সেলিব্রেট করতে গিয়ে আচমকাই অসুস্থবোধ করেন জেসমিন। জানা গেল, তিনি টার্মিনাল ইলিআইটিসে আক্রান্ত। কী এই রোগ?
টেলিভিশন দুনিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও মিষ্টি অভিনেত্রী জেসমিন ভাসিন-এর দুবাই সফর এক মারাত্মক রূপ ধারণ করল। বয়ফ্রেন্ড আলি গোনি-র সাথে নিজের জন্মদিন উদযাপন করতে দুবাই উড়ে গিয়েছিলেন ‘বিগ বস ১৪’ খ্যাত এই তারকা। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরদিনই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাঁকে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, জেসমিন এক অত্যন্ত জটিল অন্ত্রের রোগ ‘টার্মিনাল ইলিআইটিস’ (Terminal Ileitis) এবং হাই-রিস্ক ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়েছেন।

দুবাইয়ের হাসপাতালে জন্মদিনের কেক কাটলেও জেসমিনের শারীরিক অবস্থা এখনও বেশ উদ্বেগজনক। দুবাইয়ের চিকিৎসকদের বারণ সত্ত্বেও সম্পূর্ণ নিজের ঝুঁকিতে সোমবারই ভারতে ফিরে এসেছেন অভিনেত্রী। বিমানবন্দর থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অনুরাগীদের নিজের এই ‘হেলথ আপডেট’ দিয়েছেন জেসমিন।
‘ডাক্তাররা ফ্লাই করার অনুমতি দেননি, তাও দেশে ফিরলাম’— জেসমিন ভাসিন
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করা একটি ভিডিও বার্তায় জেসমিন জানিয়েছেন যে ওঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক ছিল যে হাসপাতাল থেকে ওনাকে বিমানযাত্রার ছাড়পত্র (Medical Clearance) দেওয়া হয়নি।
ভিডিওতে হাসপাতালের বেড থেকে ভক্তদের আশ্বস্ত করে জেসমিন বলেন, ‘আপনাদের অনেকেই আমার শরীর নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তা করছেন এবং হেলথ আপডেট চাইছেন। সত্যি বলতে, ওখানকার হাসপাতাল থেকে আমাকে ‘ফিট টু ফ্লাই’ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি, কারণ আমি এখনও পুরোপুরি বিপদমুক্ত (Danger Zone) নই। দুবাইয়ের হাসপাতালের ডাক্তার, স্টাফ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা অসাধারণ ছিল, আমি ওনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু নিজের দেশ, নিজের বাড়ি তো আলাদাই হয়। ইনজেকশন দিয়ে কোনওমতে আমার শরীরটাকে একটু স্থিতিশীল করা হয়েছে, যাতে আমি ট্রাভেল করতে পারি। এখন আমি বিমানবন্দরে আছি, ভারতে পৌঁছেই আমি অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আমার বাকি চিকিৎসা শুরু করব।’
ঠিক কী এই ‘টার্মিনাল ইলিআইটিস’ রোগ?
জেসমিন জানিয়েছেন, দুবাইতে ল্যান্ড করার পরদিনই ওঁর পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয় এবং পরীক্ষা করার পর এই রোগটি ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, ‘টার্মিনাল ইলিআইটিস’ হলো মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রের (Small Intestine) শেষ প্রান্তের একটি অত্যন্ত মারাত্মক ইনফেকশন এবং ইনফ্লামেশন (প্রদাহ)। এর ফলে পেটের ডানদিকের নিচে তীব্র ব্যথা, ডায়রিয়া (কখনও কখনও রক্তপাত) এবং অন্ত্রে ব্লকেজ তৈরি হওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। ক্রনিক আকার ধারণ করলে এই যন্ত্রণা দীর্ঘদিন ধরে রোগীকে ভোগাতে পারে।
হাসপাতালেই কাটল জন্মদিন, পাশে ছিলেন আলি
জেসমিন ও আলির এই জন্মদিনের ট্রিপটি যে এভাবে হাসপাতালের বেডে গিয়ে শেষ হবে, তা কেউই ভাবেননি। আলি গোনি হাসপাতালের বেডেই জেসমিনের জন্য বার্থডে কেকের ব্যবস্থা করেছিলেন। জেসমিন দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছেন,‘আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে আপনাদের এত এত সুন্দর মেসেজ আর শুভেচ্ছার উত্তর দিতে পারিনি। জীবন সত্যিই ভীষণ অনিশ্চিত। আমরা যেভাবে ট্রিপটা প্ল্যান করেছিলাম, সবটা ওলটপালট হয়ে গেল। আলি অলরেডি আমাদের হাসপাতালের সেই কেক কাটার ছবি পোস্ট করেছে। তবে আপনাদের সবার এত প্রার্থনা আর ভালোবাসার জন্য আমি মন থেকে কৃতজ্ঞ।’
সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে রোহিত শেট্টির জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘খাতরোর কি খিলাড়ি ১৫’ (Khatron Ke Khiladi 15)-এর শুটিং শেষ করে ফিরেছিলেন জেসমিন। তার পরেই এই অঘটন। আপাতত মুম্বাইয়ের হাসপাতালে জেসমিনের পরবর্তী চিকিৎসা শুরু হচ্ছে। প্রিয় অভিনেত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করছেন কোটি কোটি ভক্ত।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


