কেতন আগরওয়াল মামলায় মুখ খুললেন কঙ্গনা; ‘সন্তানের কাজের জন্য সবসময় বাবা-মাকে…’

পুনের ২৬ বছরের কেতন আগরওয়ালের রহস্যমৃত্যুর তদন্তে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর মোড়। বাগদত্তা সিয়া গোয়েল ও তাঁর কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগের মাঝেই মুখ খুললেন কঙ্গনা রানাওয়াত। অভিনেত্রীর দাবি, সন্তানের কাজের জন্য সবসময় বাবা-মাকে দায়ী করা ঠিক নয়।

Published on: Jun 26, 2026, 15:31:57 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পুনের ২৬ বছরের কেতন আগরওয়ালের রহস্যমৃত্যুর তদন্তে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর মোড়। বাগদত্তা সিয়া গোয়েল ও তাঁর কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগের মাঝেই প্রতিক্রিয়া দিলেন অভিনেত্রী, বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে একজন মানুষের আচরণ গঠনে পরিবার নয়, সোশ্যাল মিডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামাজিক পরিমণ্ডলের প্রভাবও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কেতন আগরওয়াল মামলায় কঙ্গনা রানাওয়াতের প্রতিক্রিয়া।
কেতন আগরওয়াল মামলায় কঙ্গনা রানাওয়াতের প্রতিক্রিয়া।

২৬ বছরের পুনের বাসিন্দা কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু ঘিরে তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিং করার সময় কেতন পড়ে গিয়ে মারা গিয়েছেন বলে প্রথমে মনে করা হলেও, তদন্তে এখন উঠে এসেছে সম্ভাব্য হত্যার অভিযোগ। এই ঘটনায় কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর কথিত প্রেমিক চেতন চৌধুরীর বিরুদ্ধে খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু'জনই বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

এই ঘটনাকে ঘিরে এবার মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী ও সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি লেখেন, বর্তমান সময়ে সন্তানদের কাজের জন্য সবসময় বাবা-মাকে দোষ দেওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং একজন মানুষ কার সঙ্গে মেলামেশা করছেন, সেগুলিও তাঁর চিন্তাভাবনা ও আচরণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সিয়া গোয়েলের বাবার একটি বিবৃতি শেয়ার করে কঙ্গনা লেখেন, ‘আজকাল শুধু পরিবার, বাড়ি বা বাবা-মাকে দেখে কোনও সন্তানের সংস্কার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হল, কে তাদের প্রোগ্রামিং করছে? তারা কাদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে? সোশ্যাল মিডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা বাস্তব জীবনে কী তাদের প্রভাবিত করছে? বাবা-মাকে দোষ দেওয়া যায় না, কারণ আজ মানুষ একাধিক সমান্তরাল জীবন যাপন করছে। মানুষ এখন নিজের প্রকৃত সত্তার চেয়ে বাইরের ভাবমূর্তি তৈরি করতেই বেশি মনোযোগী। তাই সন্তানদের কাজের জন্য পরিবারকে বিচার করা ঠিক নয়।’

কঙ্গনা রানাওয়াতের ইনস্টাগ্রাম স্টোরি।
কঙ্গনা রানাওয়াতের ইনস্টাগ্রাম স্টোরি।

এদিকে, চলমান তদন্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন সিয়া গোয়েলের বাবা-মাও। সিয়ার মা জানান, কেতনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করার আগে তাঁরা বহুবার মেয়ের মতামত জানতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'আমরা অন্তত দশবার সিয়াকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, সে কেতনকে পছন্দ করে কি না এবং এই বিয়েতে তার সম্মতি আছে কি না। প্রতিবারই সে 'হ্যাঁ' বলেছিল।'

তবে একই সঙ্গে সিয়ার বাবা-মা জানিয়েছেন, তদন্তে যদি সিয়া দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে আইনের বিচারে কোনও ধরনের বিলম্ব হওয়া উচিত নয়। তাঁদের কথায়, অপরাধ প্রমাণিত হলে অন্য অভিযুক্তদের মতো সিয়ারও একই শাস্তি হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, প্রথমে এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে। কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু এখন সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে পুলিশ।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More