Karisma Kapoor: ‘এতদিন কলকাতায় কী করে থাকব?’ এই ভয়েই শুরুতে ব্রাউনের প্রস্তাব ফেরান করিশ্মা!
কারিশ্মা কাপুরকে এই সিরিজে একজন পুলিশ চরিত্রে দেখা যাবে। খুনের কিনারা করতে নেমে কী কী সমস্যার মুখে পড়বেন তিনি, তাই নিয়েই এগোবে গল্প। সিরিজে রয়েছেন সূর্য শর্মা, যিশু সেনগুপ্ত এবং সোনি রাজদানের মতো পোড়খাওয়া অভিনেতারা।
নব্বইয়ের দশকের বলিউডের ‘হার্টথ্রব’ করিশ্মা কাপুরকে ওটিটির ফ্রেমে দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন ওঁর কোটি কোটি অনুরাগী। আগামী ৫ জুন জি৫ (Zee5) ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রিমিয়ার হতে চলেছে নায়িকার বহুল প্রতীক্ষিত ওয়েব সিরিজ ‘ব্রাউন’। এই থ্রিলারের প্রেক্ষাপট কিন্তু আমাদের তিলোত্তমা তিলোত্তমা কলকাতা! আর এই সিরিজের মুক্তি পাওয়ার আগে এক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন স্বয়ং অভিনেত্রী। সংবাদসংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লোলো জানান, এই সিরিজের প্রস্তাব যখন ওঁর কাছে প্রথমবার এসেছিল, তিনি নাকি এক লহমায় তা প্রত্যাখ্যান বা রিজেক্ট করেছিলেন!

কেন ‘না’ বলেছিলেন লোলো? অন্তরালের গল্প ফাঁস
সাক্ষাৎকারে নিজের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে গিয়ে করিশ্মা জানান, এর পেছনে কোনো চিত্রনাট্যের গলদ ছিল না, বরং আসল কারণ ছিল কলকাতার আউটডোর শ্যুটিং! করিশ্মার কথায়, ‘শুরুতে আমি ব্রাউন ছবিতে অভিনয় করতে একদম মানা করে দিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, বাপরে! এতগুলো দিনের জন্য আমি কলকাতায় গিয়ে কীভাবে থাকব? তাই সোজা না বলে দিই।’
তবে প্রথমবার ফিরিয়ে দিলেও সিরিজের পরিচালক অভিনয় দেও-র নাছোড়বান্দা মনোভাব এবং চিত্রনাট্যের অমোঘ টানই করিশ্মাকে ওঁর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে। লোলো বলেন, ‘এরপর আমি অভিনয়ের সাথে দেখা করি। ওঁর মুখে এই চরিত্রটার গভীরতা, ওঁর জীবনের গল্প আর তাঁর খাঁটিত্ব শোনার পর আমি আর না করতে পারিনি।’ খুব অল্প বয়স থেকে বিনোদন দুনিয়ায় দিনরাত এক করে কাজ করা করিশ্মা এখন নিজের একটা আলাদা ছন্দে চলেন। ওঁর স্পষ্ট কথা, ‘এখন আর আমি এত বেশি কাজ করতে পছন্দ করি না। আমি এখন মনের টানে কাজ করি, ভালো লাগলে করব, নাহলে নয়।’
ভাঙা ও মদ্যপ এক মহিলা পুলিশ অফিসারের গল্প, সাথে কলকাতার টানটান থ্রিলার
‘ব্রাউন’ মূলত একটি কড়া ক্রাইম থ্রিলার, যেখানে করিশ্মা অভিনয় করেছেন রীতা ব্রাউন নামের এক পুলিশ অফিসারের চরিত্রে। রীতা একসময় অত্যন্ত সম্মানিত অফিসার হলেও, বর্তমানে তিনি মানসিক ট্রমা, একাকীত্ব এবং চরম মদ্যপানের নেশায় ডুবে রয়েছেন। ছবির ট্রেলারে ইতিমধ্যেই ওঁর এই ভাঙা অথচ ভেতরে শক্ত এক লড়াকু রূপ নজর কেড়েছে সবার।
গল্পে টুইস্ট আসে যখন কলকাতার এক ক্ষমতাশালী ব্যবসায়ীর মেয়ে নৃশংসভাবে খুন হন এবং সেই কেসের তদন্তের স্বার্থে রীতাকে আবার ডিউটিতে ফিরতে হয়। এই রহস্যের জট ছাড়াতে ওঁর সঙ্গী হন ইন্সপেক্টর অর্জুন সিনহা (সূর্য শর্মা), যিনি নিজেও এক ব্যক্তিগত শোক ও অপরাধবোধের সাথে লড়াই করছেন। দুজনে মিলে যখন তদন্তে নামেন, তখন ওনাদের মুখোমুখি হতে হয় এক সাইকো সিরিয়াল কিলারের, যে তথাকথিত নৈতিকতা ও শাস্তির নামে একের পর এক খুন করে চলেছে। পরিচালক অভিনয় দেও-র মতে, এটি স্রেফ কোনো খুনের গল্প নয়, বরং মানুষের মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা ধূসর দিক , ভয় এবং লড়াইয়ের এক মানবিক গল্প, যা দর্শকদের বাধ্য করবে নতুন করে ভাবতে। এখন দেখার, কলকাতার অলিতে-গলিতে শুট করা করিশ্মার এই ‘রীতা ব্রাউন’ অবতার দর্শকদের মনে কতটা জায়গা করে নেয়!
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


