Kaushik Ganguly: ‘উজানের কাছে আমি ৮৫ শতাংশ বন্ধু, বাদবাকি…’! পিতৃত্বের পাঠ পড়ালেন কৌশিক
অভিনেতা এবং পরিচালক হিসেবে তিনি এই মুহূর্তে বিনোদন জগতের বেশ পরিচিত মুখ। সম্প্রতি প্যারেন্টিং নিয়ে কথা বললেন কৌশিক। জানালেন যে, তিনি ও চূর্ণী বারবর চেষ্টা করেছেন, ছেলের খুব ভালো বন্ধু হয়ে ওঠার।
মা-বাবার দেখানো পথে হেঁটেই বিনোন জগতে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ও চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের একমাত্র ছেলে উজান গঙ্গোপাধ্যায়। উদীয়মান অভিনেতা এবং পরিচালক হিসেবে তিনি এই মুহূর্তে বিনোদন জগতের বেশ পরিচিত মুখ। সম্প্রতি প্যারেন্টিং নিয়ে কথা বললেন কৌশিক। জানালেন যে, তিনি ও চূর্ণী বারবর চেষ্টা করেছেন, ছেলের খুব ভালো বন্ধু হয়ে ওঠার।

এফএম গোল্ডের সঙ্গে কথা বলার সময় কৌশিক বললেন, ‘আমি বা চূর্ণি কেউ সেভাবে স্ট্রিক্ট নই। আমরা সেভাবে ওকে বড় করতে পেরেছি, যাতে খুব কঠোর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা না আসে। কারণ ওর প্রতি সেই আস্থাটা তৈরি হয়েছে, যেটা বাবার আমার প্রতি ছিল না। আরেকটা ছিল আমার বাবা আমার বন্ধু ছিলেন না। বাবা ছিলেন। আমার বাবা ছিলেন অর্ধেক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমার কাছে, অর্ধেক আমার অভিভাবক। আর উজানের কাছে আমি ৮৫ শতাংশ বন্ধু এবং বাবা আর বাকিটুকু অভিভাবক। যে পৃথিবীতে বন্ধুর এত অভাব সেখানে ঘরে একটা বন্ধুকে আমি মিস করতে রাজি নই।’
‘এই পৃথিবীতে এমন কোনো কথা নেই যেটা উজান আমার বা ওর মায়ের কাছে লোকাবে। এতটাই সিকিওর। সেটা আমাদের পছন্দ নাও হতে পারে। কিন্তু তবুও ও এটা বলতে দ্বিধা করবে না। যে কারণে ওর মনের মধ্যে মিথ্যে বলা, লোকানো বা অপরাধবোধ, এই তিনটে জিনিস তৈরিই হয়নি। লোকে আশ্চর্য হবেন হয়তো, আমাদের বাড়িতে কাওকে মিথ্যে কথা বলতেই হয় না। আমাদের বাড়ির অলিখিত চুক্তি হল সত্যিটা বলে দাও। এর চেয়ে হিলিং কিচ্ছু নেই। সত্যি কোনো খারাপ কিছু আমি করেছি, বলে ফেললাম। যখনই কথাগুলো মাটিতে পড়ে ক্ষমার জন্ম দেয়। সত্যের সেই ক্ষমতা আছে ক্ষমার জন্ম দেওয়ার, মিথ্যের নেই।’, আরও বলেন পরিচালক।
প্রবাদপ্রতিম গিটারবাদক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে কৌশিক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই তিনি থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন। আর সেই সূত্র ধরেই আলাপ হয় চূর্ণীর সঙ্গে। ১৯৯৩ সালের জানুয়ারি মাসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বাবা-মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে উজান অভিনয়, চিত্রনাট্য তৈরি এবং পরিচালনায় নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। উজান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক হন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। ২০১৮ সালে ‘রসগোল্লা’ সিনেমার মাধ্যমে তাঁর বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ ঘটে। ২০২২ সালে 'লক্ষ্মী ছেলে’ সিনেমাতেও দেখা মিলেছিল উজানের। নেটফ্লিক্সের ‘কুরুক্ষেত্র’ নামক অ্যানিমেশন সিরিজের পরিচালনা করেছেন। ‘কাতুকুতু বুড়ো’ সিনেমার পরিচালনাও করেছেন উজান।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


