Lagaan: ‘লগান আমাকে বরবাদ করেছে!’ আমির খানের ব্লকবাস্টার ছবি নিয়ে বিস্ফোরক ‘বাঘা’ আমিন হাজী
আমির খানের 'লাগান' ছবিতে অভিনয়ই কাল হয়েছে তাঁর অভিনয় কেরিয়ারে। লাগানের পর হাজি আমিনের জীবনে নেমে এসেছিল অদ্ভূত বিপর্যয়। খোলসা করলেন নিজেই।
বলিউডের ইতিহাসে ‘লগান’ (Lagaan) এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া অস্কার মনোনীত আমির খানের এই ছবি দেখতে দেখতে ২৫ বছর পূর্ণ করে ফেলল। রূপোলি পর্দার সেই ‘ভুবন’ এবং তাঁর ক্রিকেট টিমের লড়াই আজও দর্শকদের মনে টাটকা। ২৫ বছর পূর্তির এই উদযাপনের মাঝেই এক বিস্ফোরক ও চমকপ্রদ মন্তব্য করে বসলেন ছবিতে ‘বাঘা’ চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা আমিন হাজী।

পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমিন অকপটে জানান, ‘লগান’ ছবিটির তুমুল সাফল্য একদিক থেকে তাঁর অভিনয় কেরিয়ারকে পুরোপুরি বরবাদ করে দিয়েছিল। তবে এর পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক কারণ।
কেন লগানকে ‘কাল’ মনে করলেন আমিন?
সাক্ষাৎকারে নিজের তৎকালীন মানসিক অবস্থা বোঝাতে মির্জা গালিবের বিখ্যাত শায়রি আওড়ান আমিন হাজী— ‘হাজারো খোয়াইশেঁ অ্যায়সি কি হর খোয়াইশ পে দম নিকলে, বহুত নিকলে মেরে আরমান লেকিন ফির ভি কম নিকলে।’
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে আমিন বলেন, ‘সত্যি বলতে, ‘লগান’ আমাকে বরবাদ করে দিয়েছিল। লগান ব্লকবাস্টার হওয়ার পর আমার কাছে অভিনয়ের প্রচুর অফার আসছিল। কিন্তু সমস্যা হলো, যে চিত্রনাট্য বা চরিত্রগুলো আমার কাছে আসছিল, সেগুলোর একটাও ‘লগান’-এর ধারেকাছে পৌঁছাতে পারছিল না। লগান আমাকে এমন এক উচ্চতায় বসিয়ে দিয়েছিল যে সাধারণ কোনও চরিত্র আর আমার করতে ইচ্ছে করছিল না।’
আমিন আরও যোগ করেন, ‘আমি যে সম্মান ‘লগান’ থেকে কামিয়েছিলাম, তা সস্তা কাজ করে হারাতে চাইনি। তাছাড়া আমি নিজেকে খুব বড় মাপের অভিনেতাও মনে করতাম না। লগান-এ আমার ভালো পারফরম্যান্সের পুরো কৃতিত্ব চিত্রনাট্য, পরিচালক আশুতোষ গোয়াড়িকর এবং আমির খানের।’
ঘরবন্দি দশা এবং আশুতোষের সেই একটি প্রশ্ন
চাকচিক্যময় ছবির অফার ফিরিয়ে দিয়ে দিনের পর দিন ঘরে বসেছিলেন আমিন। কাজ না করায় তাঁর স্ত্রীও তাঁর ওপর বিরক্ত হচ্ছিলেন। সেই কঠিন সময়ে তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন ‘লগান’-এর পরিচালক আশুতোষ গোয়াড়িকর।
আশুতোষ তাঁকে ডেকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কি আমার সাথে পরবর্তী ছবি ‘দেশ’ (পরবর্তীতে নাম হয় স্বদেশ) লিখবে?’ আমিন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, বলিউডের তাবড় লেখকরা যেখানে তাঁর সাথে কাজ করতে মুখিয়ে, সেখানে তিনি আমিনকে কেন বেছে নিচ্ছেন? আশুতোষ জানিয়েছিলেন, আমিনের চিন্তাভাবনা অত্যন্ত সৎ এবং তিনি একজন দারুণ ‘বাউন্সিঁ বোর্ড'।
আমির খানের সাহায্য ও রাইটার হিসেবে নতুন জীবন
আমিনের এই লেখক হয়ে ওঠার জার্নিতে বড় ভূমিকা ছিল স্বয়ং আমির খানেরও। আমির খান প্রোডাকশন্স যখন ‘স্বদেশ’ ছবির কাজ শুরু করে, তখন আমির নিজে আমিনের নাম কো-রাইটার হিসেবে অনুমোদন করেন এবং তাঁকে পারিশ্রমিক দেন। আমির ঠাট্টা করে বলেছিলেন, ‘আমিনের স্ত্রীকে বলো আমি ওর সাহায্য করছি, এবার যেন ও রাগ কমিয়ে দেয়।’
এর পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি আমিনকে। অভিনয় জগত থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি বলিউডের একজন সফল লেখক হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তিনি বিক্রম ভাটের জনপ্রিয় হরর ছবি ‘হন্টেড থ্রিডি’ (Haunted 3D) এবং ‘ডেঞ্জারাস ইশক’ (Dangerous Ishq)-এর চিত্রনাট্য লেখেন। ২০২১ সালে পরিচালক হিসেবে তিনি তাঁর প্রথম ছবি ‘কোই জানে না’ (Koi Jaane Na) তৈরি করেন, যেখানে আমির খান একটি স্পেশাল ড্যান্স নম্বরে (‘হার ফান মওলা’) পারফর্ম করেছিলেন।
‘লগান আমার কাছে ইউনিভার্সিটি’
কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এই ছবিকে নিজের শিক্ষাগুরু মনে করেন আমিন। আবেগঘন গলায় তিনি বলেন: 'আমি আজ যে একজন লেখক বা পরিচালক হতে পেরেছি, তা শুধুমাত্র লগান এবং আশুতোষের জন্য। লগান আমার কাছে কোনও সাধারণ সিনেমা ছিল না, ওটা ছিল একটা আস্ত ইউনিভার্সিটি। ওখানেই আমি সিনেমার আসল ব্যাকরণ এবং খুঁটিনাটি শিখেছি।'
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


