Kriti-Mini: ২ ঘণ্টা কাজের জন্য ১০ হাজার দাবি পরিচারিকার, কটাক্ষ কীর্তির, পালটা বিঁধলেন মিনি

মুম্বইয়ের অভিজাত এলাকায় পরিচারিকাদের বেতন কত? সেই নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন কীর্তি কুলহারি। দু-ঘণ্টা কাজের জন্য মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন, বাড়িবাড়ি বলে মনে করেন অভিনেত্রী। 

Published on: May 30, 2026, 08:00:29 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কাজের মাসিদের বেতন কত হওয়া উচিত? এই একটা প্রশ্ন ঘিরেই এবার কার্যত আড়াআড়ি বিভক্ত বলিপাড়া। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী কীর্তি কুলহারি দাবি করেন, তাঁর বাড়িতে দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা কাজ করার জন্য পরিচারিকা মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন দাবি করেন, যা তাঁর মতে অত্যন্ত বেশি। কীর্তির এই মন্তব্য নেটপাড়ায় আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মাঝেই এবার কীর্তিকে একহাত নিলেন বলিউডের জনপ্রিয় সঞ্চালক তথা অভিনেতা কবির খানের স্ত্রী মিনি মাথুর। কীর্তির এই মানসিকতাকে তীব্র কটাক্ষ করে সোশ্যালে এক লম্বা পোস্ট শেয়ার করেছেন মিনি।

২ ঘণ্টা কাজের জন্য ১০ হাজার দাবি পরিচারিকার, কটাক্ষ কীর্তির, পালটা বিঁধলেন মিনি
২ ঘণ্টা কাজের জন্য ১০ হাজার দাবি পরিচারিকার, কটাক্ষ কীর্তির, পালটা বিঁধলেন মিনি

কীর্তির ঠিক কী দাবি ছিল?

একটি পডকাস্টে এসে পিঙ্ক সিটি খ্যাত অভিনেত্রী কীর্তি কুলহারি নিজের বাড়ির পরিচারিকার প্রসঙ্গ তোলেন। কীর্তি জানান, তাঁর পরিচারিকা দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা কাজ করেন। তার জন্য তাঁকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়। কীর্তির দাবি, বর্তমান বাজারে পরিচারিকাদের এই ডিমান্ড বা পারিশ্রমিক আকাশছোঁয়া এবং অনেক সময় তা কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বেশি মনে হয়। কীর্তির এই হিসাব এবং আক্ষেপের ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে ট্রোল করতে শুরু করেন। তাঁদের বক্তব্য, মুম্বইয়ের মতো ব্যয়বহুল শহরে ১০ হাজার টাকায় সংসার চালানো কতটা কঠিন, তা একজন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকা তারকার পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।

কড়া জবাব মিনির, মনে করালেন শ্রমের মর্যাদা

কীর্তির এই মন্তব্য একদমই মেনে নিতে পারেননি মিনি মাথুর। তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে কীর্তির নাম না করে অথচ অত্যন্ত সপাট ভাষায় এই মানসিকতার সমালোচনা করেন। মিনি লেখেন, আমাদের বাড়িতে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা আমাদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার মেরুদণ্ড। তাঁরা দৈনিক যে পরিশ্রম করেন, তার কোনো নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক বা ঘড়ির কাঁটা দিয়ে বিচার করা যায় না। দুই ঘণ্টার কাজ হলেও, সেই সময়ে তাঁরা যে শ্রম দিচ্ছেন, তা অত্যন্ত মূল্যবান।

মিনির মতে, পরিচারিকাদের বেতনকে দয়া বা অতিরিক্ত টাকা মনে করাটা এক ধরণের মানসিক দৈন্যতা। মুম্বইয়ের মতো শহরে তাঁদেরও পরিবার আছে এবং তাঁদেরও বাঁচার অধিকার আছে।

বলিপাড়ায় গৃহশ্রমিকদের বেতন বিতর্ক

অভিনেতা বা সেলিব্রিটিদের বিপুল আয়ের তুলনায় তাঁদের বাড়ির কর্মীদের পারিশ্রমিক নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়। এর আগেও বহু তারকা পরিচারিকাদের ছুটি বা বেতন নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন। তবে কীর্তি কুলহারির মতো একজন প্রথম সারির অভিনেত্রীর মুখে এমন হিসাব-নিকাশ শুনে অনেকেই অবাক হয়েছেন। অন্যদিকে, মিনি মাথুরের এই মানবিক ও যুক্তিপূর্ণ অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ নেটিজেনরা। টিনসেল টাউনের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, পর্দার ভেতরে বা বাইরে সামাজিক সচেতনতার বার্তা দেওয়া তারকারা বাস্তব জীবনে কতটা সংবেদনশীল, কীর্তি ও মিনির এই দ্বন্দ্ব যেন আরও একবার সেই প্রশ্নটাই তুলে দিল।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More