‘হাসপাতালের মধ্যে ওঁকে খুন না করে দেয়…’! দিল্লি পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে উঠিয়ে নিয়ে যেতেই পোস্ট পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

শনিবার সকালেই দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সোনম ওয়াংচুককে উঠিয়ে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। আপাতত তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে দিল্লির সরকারি সফদরজং হাসপাতালে। যদিও সেখানে বসেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তা নিয়েই পোস্ট করেন পরমা। 

Published on: Jul 19, 2026, 14:30:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আপাতত গোটা দেশ জুড়ে মুখে মুখে একটাই নাম ঘুরছে-- সোনম ওয়াংচুক। যিনি লাদাখের একজন বিখ্যাত প্রকৌশলী, উদ্ভাবক, শিক্ষাবিদ এবং পরিবেশ আন্দোলনকর্মী। আপাতত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে ২১ দিন ধরে অনশন করে চলেছেন। যদিও শনিবার সকালেই দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সোনম ওয়াংচুককে উঠিয়ে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। আপাতত তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে দিল্লির সরকারি সফদরজং হাসপাতালে। যদিও সেখানে বসেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্ট।
সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্ট।

এরই মাঝে পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি পোস্ট ভাইরাল। শনিবার রাতের দিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরমা লিখলেন, ‘আশা করি হাসপাতালের দেওয়ালের মধ্যে সোনম ওয়াংচুক নিরাপদ থাকবেন। আশা করি ওঁরা ওকে খুন করে দেবে না। আপনার সুরক্ষা ও লম্বা জীবনের জন্য প্রার্থনা করছি।’

যদিও দেখা গেল পরমা-র পোস্টে তাঁকেই পালটা কটাক্ষ করেছেন বিজেপি সমর্থকরা। এজন লেখেন, ‘তা হবে না। কারণ তিনি যদি হাসপাতালে বা হাসপাতালের বাইরে মারা যান, যেহেতু তিনি টানা বিশ দিনেরও বেশি সময় ধরে অনশন করছেন, তাহলে তার দায় কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরই বর্তাবে। কোনও সরকারই এমন ঝুঁকি নিতে চাইবে না, কোনও না কোনওভাবে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করবেই। তবে এখনও পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সরকার—কেউই তাঁর শারীরিক অবস্থা বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করেনি।’

আরেকটি কমেন্টে লেখা হয়, ‘ম্যাম, এত বেশি ভাববেন না। একদিন দেখবেন, আপনার শাড়ির ব্যবসাটাও ওরা দখল করে নিয়েছে—এমন অভিযোগও করবেন! চিন্তা করবেন না, ওরা ওঁর সঙ্গে ঠিক সেইভাবেই ব্যবহার করবে, যেভাবে আপনার কিছু ভক্ত আপনার অতিরিক্ত দামের পণ্য কিনে ফেলে।’ তৃতীয়জন লেখেন, ‘না, সরকার তাঁকে মরতে দেবে না। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো চাইছে, তাঁর মৃত্যু হোক।’

পরমা-র পোস্ট।
পরমা-র পোস্ট।

জাতীয় স্তরের পরীক্ষা (NEET-UG)-র প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে যুব সমাজ দ্বারা গঠিত ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র সমর্থনে গত ২৮ জুন থেকে তিনি আমরণ অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। অনশনের ২১তম দিনে (১৮ জুলাই, ২০২৬) দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের ধর্নামঞ্চ সাদা কাপড় দিয়ে ঘিরে ফেলে এবং সোনম ওয়াংচুককে জোর করে তুলে নিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। যদিও ৫৯ বছর বয়সী এই পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ হাসপাতালে গিয়েও অনশন ভাঙতে রাজি হননি এবং কোনো প্রকার স্যালাইন বা ওষুধ নিচ্ছেন না। সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো অভিযোগ করেছেন যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে তথ্য গোপন করছে এবং তাঁকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে। সঙ্গে সোনমকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য দিল্লি হাইকোর্টে জরুরি আবেদন জানিয়েছেন। হাসপাতাল থেকেই সোনম ওয়াংচুক দেশবাসীর উদ্দেশ্যে চিঠি লিখে ২০ জুলাইয়ের সংসদ ভবন অভিযান সফল করার ডাক দিয়েছেন এবং এটিকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More