‘চুড়ি পরা হাজার হাত ক্ষমতার হাতে হাতকড়া পরাবে!’ রিয়া আহিরকে কুর্নিশ ঋদ্ধির

প্রতিবাদের আরেক নাম রিয়া আহির! পুলিশ ভ্যান একা হাতে রুখে দেওয়া স তরুণী রিয়া আহিরের প্রশংসায় ঋদ্ধি। জানালেন, 'চুড়ি পরে বসে থাক’ অসুখে যারা আক্রান্ত তাদের সকলকে জবাব দিচ্ছে ভারতবর্ষের নতুন প্রজন্ম l

Published on: Jul 24, 2026, 10:00:47 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড নিয়ে প্রতিবাদরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশন, জলকামান ও টিয়ার গ্যাস প্রয়োগের ঘটনায় অনেক আগেই গর্জে উঠেছেন অভিনেতা ঋদ্ধি সেন (Riddhi Sen)। সমাজে ঘটে চলা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতা। আসলে প্রতিবাদ তাঁর শিরায়-শিরায়। এবার ঋদ্ধির কলমে উঠে এল ‘বীরাঙ্গনা’ রিয়া আহিরের প্রশ্ন।

‘চুড়ি পরা হাজার হাত ক্ষমতার হাতে হাতকড়া পরাবে!’ রিয়া আহিরকে কুর্নিশ ঋদ্ধির
‘চুড়ি পরা হাজার হাত ক্ষমতার হাতে হাতকড়া পরাবে!’ রিয়া আহিরকে কুর্নিশ ঋদ্ধির

কলকাতা শহর যখন আর জি কর হাসপাতালের নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারে উত্তাল হয়েছিল, তখন প্রতিবাদের ভাষাতেও প্রকাশ পেয়েছিল পিতৃতান্ত্রিক ধারণা। সেইসময় বিজেপির ছাত্র মিছিলে পুলিশের জলকামানের সামনে দাঁড়িয়ে এক প্রবীণ বিক্ষোভকারীকে নিজের হাতের কব্জি ঘুরিয়ে পুলিশকে কটাক্ষ করেছিলেন— যার মূল বক্তব্য ছিল, পুলিশের কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে ‘হাতে চুড়ি পরে বসে থাকা’ উচিত।

প্রতিবাদের নামে নারী জাতিকে বা চুড়ি পরাকে ‘দুর্বলতার প্রতীক’ হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রাচীন ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক মানসিকতার বিরুদ্ধে এবার সপাটে জবাব দিলেন টলিউড অভিনেতা ঋদ্ধি সেন (Riddhi Sen)।

রিয়া আহিরের দৃষ্টান্ত ও ঋদ্ধির তোপ

সামাজিক মাধ্যমে নিজের পোস্টে ঋদ্ধি সেন তুলে এনেছেন মুম্বাইয়ের এক প্রতিবাদী যুবতী রিয়া আহির (Riya Ahir)-এর নাম। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মুম্বাই পুলিশের ভ্যান আটকে একা বীরদর্পণে দাঁড়িয়ে থাকা রিয়ার ছবি এখন দেশজুড়ে নারীশক্তির প্রতিবাদের প্রতীক।

সেই ছবি ও ঘটনা উল্লেখ করে ঋদ্ধি লেখেন, ‘ধর্ষণ বিরোধী প্রতিবাদে পুলিশকে ধিক্কার জানানোর জন্য যারা ‘হাতে চুড়ি পরে বসে থাকার’ ভাবনায় বিশ্বাসী, তাদের সকলকে উত্তর দিলেন মুম্বাই পুলিশ ভ্যান আটকে দাঁড়িয়ে থাকা রিয়া আহির। ‘চুড়ি পরে বসে থাক’ নামক এই লিঙ্গবৈষম্যমূলক অসুখে যারা আক্রান্ত, তাদের সকলকে জবাব দিচ্ছে ভারতবর্ষের নতুন প্রজন্ম।’

‘চুড়ি পরা হাজার হাত ক্ষমতার হাতে হাতকড়া পরাবে’

ঋদ্ধি সেন তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে দেন যে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা যুগ যুগ ধরে নারীদের ভূষণ বা চুড়ি পরাকে ‘অক্ষমতা’ বা ‘দুর্বলতা’র সমার্থক করে তুলেছে। কিন্তু আজকের তরুণ প্রজন্ম ও নারীরা প্রমাণ করছেন যে চুড়ি কোনো নিষ্ক্রিয়তার চিহ্ন নয়, বরং তা প্রতিরোধের এক মহাজাগরণ।

ভবিষ্যতের বার্তা দিয়ে অভিনেতা লেখেন, ‘চুড়ি পরা হাজার হাত ক্ষমতার হাতে হাতকড়া পরাবে শিগগিরই।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া ও সমর্থন

ঋদ্ধি সেনের এই পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।বিনোদন জগতের সহশিল্পী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকেরা ঋদ্ধির এই চিন্তাধারাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

প্রবীণ প্রজন্মের রাজনৈতিক বিক্ষোভকারীদের ‘চুড়ি’ সম্পর্কিত মানসিকতাকে পিছিয়ে পরা বলে চিহ্নিত করে, রিয়া আহিরের মতো নবীনদের অকুতোভয় লড়াইকেই আসল আন্দোলন বলে মনে করছেন তরুণ সমাজ।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More