সইফকে অমৃতার সঙ্গে বিয়ে খবর লুকিয়ে রাখতে পরামর্শ দেন এক বর্ষীয়ান অভিনেতা! তারপর কী হল?
১৯৯১ সালে যখন সইফ আলি খান অমৃতা সিংকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন, তখনও তিনি বিনোদন জগতে পা-ই রাখেননি। সেই সময়ে অমৃতা ছিলেন প্রথম সারির অভিনেত্রীদের একজন, আর সইফ তখন সবেমাত্র নিজের কেরিয়ার শুরু করছিলেন।
১৯৯১ সালে যখন সইফ আলি খান অমৃতা সিংকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন, তখনও তিনি বিনোদন জগতে পা-ই রাখেননি। সেই সময়ে অমৃতা ছিলেন প্রথম সারির অভিনেত্রীদের একজন, আর সইফ তখন সবেমাত্র নিজের কেরিয়ার শুরু করছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি তাঁর প্রথম ছবি ‘বেখুদি’-র শ্যুটিং করেছিলেন, কিন্তু ছবির কাজ চলাকালীন মাঝপথেই তাঁকে সেই ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই কঠিন সময়ে একজন প্রবীণ অভিনেতা সইফকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যেন তিনি অমৃতাকে বিয়ের বিষয়টি জনসমক্ষ না আনেন, কারণ সেই সময় অবিবাহিত অভিনেতাদের কদর বেশি ছিল। অভিনেতা সেই পরামর্শ মানতে রাজি হননি।

নিউজ ১৮কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সইফ এই প্রসঙ্গেই কথা বলেন। তিনি বলেন, 'আমার মনে আছে, একজন প্রবীণ অভিনেতা আমাকে বলেছিলেন, আমি যে বিবাহিত, এ কথা যেন কাউকে না বলি। তিনি কেন আমাকে এমনটা বলেছিলেন, তা আমার জানা নেই। আমার ধারণা, তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, বিয়ের খবর প্রকাশ পেলে আমার ভাবমূর্তি ও ফ্যানবেস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে যত পরামর্শ দিয়েছেন, তার মধ্যে এটাই ছিল সবচেয়ে জঘন্য এবং অদ্ভুত পরামর্শ।'
আরও পড়ুন: 'নিজেদের মানুষের কাছে…', কানের রেড কার্পেটে আলিয়াকে দেখে ট্রোল করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ আমিশার!
সাইফ যখন এই পরামর্শে কর্ণপাত করতে রাজি হননি, তখন নব্বইয়ের দশকে এমন অনেক অভিনেতা ছিলেন, যে সত্যিই নিজের বিয়ের খবর গোপন রেখেছিলেন।
এরই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলেন গোবিন্দা। 'জুম'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গোবিন্দর স্ত্রী সুনীতা আহুজা জানিয়েছিলেন যে, তাঁরা শুরুতে নিজেদের বিয়ের খবরটি আড়ালেই রেখেছিলেন, যাতে তারকার মহিলা ফ্যানবেসের উপর এর কোনও নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
তিনি বলেছিলেন, 'বিয়ের পর আমি খুব একটা বাইরে বের হতাম না, কারণ আমাকে বলা হয়েছিল যে, আমাদের বিয়ের খবরটি যদি জানাজানি হয়ে যায়, তবে গোবিন্দা তাঁর মহিলা ফ্যানবেস হারাবেন। কিন্তু যখন আমি অন্তঃসত্ত্বা হলাম, তখন আমি ওঁকে প্রশ্ন করলাম—কেন তিনি আমাকে এভাবে আড়াল করে রাখছেন? তাই, যখন টিনার জন্ম হল—অর্থাৎ বিয়ের ঠিক এক বছর পর—তখনই আমরা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করলাম যে, আমরা বিবাহিত।'
আরও পড়ুন: 'কখনও বাছবিচার করেনি, ও আমার ছোট্ট ভাই…', দেবের সকলের সঙ্গে কাজ করা প্রসঙ্গে রূপা
সইফ ও অমৃতার পরিচয় হয়েছিল 'বেখুদি' সিনেমার সেটে। যদিও পরবর্তীকালে সইফকে সেই সিনেমা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তবুও তিনি ও অমৃতা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং শেষমেশ একে অপরের প্রেমে পড়েছিলেন। এই দম্পতির দাম্পত্য জীবন ১৩ বছর স্থায়ী হয়েছিল এবং তাঁদের সারা আলী খান ও ইব্রাহিম আলী খান নামে দুটি সন্তান রয়েছে। তবে তাঁদের এই বিয়ে শেষ পর্যন্ত সুখের হয়নি এবং ২০০৪ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে সইফ করিনা কাপুরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁদেরও দুই ছেলে রয়েছে।
E-Paper

