শনিবার সাত সকালে পরিচালক সঞ্জয় গুপ্তার মৃত্যুর খবর শুনে শোকের ছায়া ছড়িয়েছে গোটা বলিউড জুড়ে। সঞ্জয় গুপ্তা এমন একজন পরিচালক যিনি একেবারে অন্যধারার ছবির জন্য পরিচিত। শুক্রবার মাত্র ৫৯ বছর বয়সে নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। বন্ধুর মৃত্যুতে ইনস্টাগ্রামে বেশ কিছু ছবি পোস্ট করে আবেগঘন কথা লিখে বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ করেন সঞ্জয় দত্ত।

সঞ্জয় গুপ্তার সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে সঞ্জয় দত্ত লেখেন, ‘গুপ্তা আমার ভাই। আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে তুমি চলে গিয়েছো। আমরা একসঙ্গে কত কিছু ভাগ করে নিয়েছি, কত স্মৃতি আর কত বছরের বন্ধুত্ব। তুমি সবসময় আমার পরিবারের মতো ছিলে যা কোনদিন পাল্টাবে না।’
আরও পড়ুন: সঙ্গীতের সুরে বাঁধা হবে জীবন, পাঁচ নারীর স্বাধীনতার লড়াইয়ের গল্প বলবে ‘পরশমণি’
সঞ্জয় লেখেন, ‘তোমার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো আমি ভীষণভাবে মিস করবো। আমি সম্প্রতি ‘কাঁটে ২’ নিয়ে আলোচনা করছিলাম তোমার সঙ্গে, আমি তোমার স্বপ্নকে সত্যি করবো। তোমার এই স্বপ্নকে সত্যি করার জন্য আমি সবকিছু করব। তোমাকে চিরকাল ভালোবাসি। তোমাকে ছাড়া জীবন আর আগের মতো থাকবে না ভাই। ঈশ্বর তোমার আত্মাকে শান্তি দিক।’
সঞ্জয় গুপ্তা এবং সঞ্জয় দত্তের বন্ধুত্ব
{{/usCountry}}সঞ্জয় গুপ্তা এবং সঞ্জয় দত্তের বন্ধুত্ব
{{/usCountry}}সঞ্জয় গুপ্তার সঙ্গে সঞ্জয় দত্তের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। রাজ সিপ্পির 'থানেদার' (১৯৯০) ছবির সেটে দুজনের মধ্যে প্রথম সখ্যতা গড়ে ওঠে, যেখানে চলচ্চিত্র নির্মাতা সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন এবং অভিনেতা প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। পরবর্তীতে সঞ্জয় দত্ত সঞ্জয় গুপ্তের পরিচালিত প্রথম ছবি 'আতিশ: ফিল দ্য ফায়ার' (১৯৯৪)-এ অভিনয় করেন।
আরও পড়ুন: 'আমি নিজে দেখেছি এতগুলো বছর...', কৌশানির মতে জনপ্রিয়তা ধরে রাখার ওষুধ কী?
এরপর তাঁরা দুজনে মিলে ‘খউফ’, ‘জং’, ‘কাঁটে’, ‘মুসাফির’, ‘প্ল্যান’, ‘জিন্দা’ এবং ‘শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা’-সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেন। তাঁদের পেশাদারী অংশীদারিত্বের মধ্যে ‘দশ কাহানিয়াঁ’ ছবিটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে, শোনা যায় যে ২০০৭ সালে ‘শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা’ ছবির শুটিং চলাকালীন মতবিরোধের কারণে তাদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরে। ২০১৩ সালে ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় গুপ্তা স্বীকার করেছিলেন যে, তারা তিন বছর ধরে কথা বলেননি। অবশেষে ২০১২ সালে অমিতাভ বচ্চনের ৭০তম জন্মদিনের পার্টিতে তারা তাদের বিবাদের অবসান ঘটান।