‘তোমায় কিন্তু লুটে নেবে…’! গৌরীকে দিয়ে ঘর সাজাতে চান মিকা শুনেই টিপ্পনী শাহরুখের

মিকা স্মৃতিচারণ করে জানান, নিজের বাড়ির ইন্টেরিয়র ডিজাইনের জন্য যখন তিনি গৌরী খানের সাহায্য চেয়েছিলেন, তখন শাহরুখ খান তাঁকে কী বলে সাবধান করেছিলেন!

Published on: Jun 14, 2026, 10:54:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক মিকা সিং সম্প্রতি জানিয়েছেন যে বর্তমানে তাঁর মালিকানায় প্রায় ৯৯টি সম্পত্তি রয়েছে। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে মিকা বলেন, জীবনে এত বিপুল সংখ্যক সম্পত্তির মালিক হবেন, এমনটা তিনি কখনও কল্পনাও করেননি। তবে ছোটবেলা থেকেই তাঁর একটাই স্বপ্ন ছিল— একজন সফল গায়ক হওয়া। একইসঙ্গে তিনি স্মৃতিচারণ করে জানান, নিজের বাড়ির ইন্টেরিয়র ডিজাইনের জন্য যখন তিনি গৌরী খানের সাহায্য চেয়েছিলেন, তখন শাহরুখ খান তাঁকে একটি বিশেষ পরামর্শ দিয়েছিলেন।

শাহরুখ খান-মিকা সিং।
শাহরুখ খান-মিকা সিং।

পিঙ্কভিলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিকা বলেন, ‘আমি কখনও ৯৯টি সম্পত্তির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি। কিন্তু একজন গায়ক হওয়ার স্বপ্ন অবশ্যই দেখতাম। আমার প্রথম পারিশ্রমিক ছিল মাত্র ৭৫ টাকা। এত কম টাকা পেয়েও আমি কখনও হতাশ হইনি। ১৩ বছর বয়সে নিজের উপার্জনের সেই টাকা পেয়ে আমি ভীষণ খুশি ছিলাম। তখন আমি বিভিন্ন জাগরণে গান গাইতাম। পরে আমার ভাই দলের মেহেন্দি আমাকে অনেক সাহায্য করেন। তাঁর কাছ থেকেই আমি অনেক কিছু শিখেছি। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম যে নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের জোরে জীবনে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব।’

নিজের সম্পত্তি কেনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে মিকা আন্ধেরিতে থাকা তাঁর ফ্ল্যাটগুলোর একটি মজার গল্পও শোনান। তিনি বলেন, ‘এই ফ্ল্যাটটি নিয়ে একটি মজার ঘটনা আছে। আমি ২০১২ সালে এটি কিনেছিলাম। তার আগে আমি শাস্ত্রী নগরে, আন্ধেরি পশ্চিমে থাকতাম এবং সেখানে বেশ ভালোই ছিলাম। একদিন কেউ আমাকে বলল যে এখানে একটি খুব সুন্দর বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে, একবার দেখে আসা উচিত। এরপর যা হল, আমি সেই একই বিল্ডিংয়ে একের পর এক ছয়টি ফ্ল্যাট কিনে ফেললাম।’

মিকা আরও জানান, তখন পুরো বিল্ডিংটি প্রায় খালিই ছিল। নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হতে দীর্ঘ ছয় বছর সময় লেগেছিল। অবশেষে ২০১৮ সালে তিনি তাঁর ফ্ল্যাটগুলোর দখল পান। আজ এতগুলো সম্পত্তির মালিক হলেও নিজের সাফল্যের পেছনে কঠোর পরিশ্রম, প্রতিভা এবং পরিবারের সমর্থনকেই সবচেয়ে বড় কারণ বলে মনে করেন এই জনপ্রিয় গায়ক।

গৌরী খানকে দিয়ে নিজের ফ্ল্যাটের ইন্টেরিয়র ডিজাইন করানোর অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন মিকা। তিনি জানান, এই বিষয়টি নিয়ে একসময় শাহরুখ খানের সঙ্গে তাঁর মজার কথোপকথন হয়েছিল।

মিকার কথায়, ‘এরপর আমার শাহরুখ খানের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু এবং বড় ভাইয়ের মতো। আমি তাঁকে বলেছিলাম, গৌরী খানকে দিয়ে আমার বাড়ির ইন্টেরিয়র ডিজাইন করাতে চাই। তখন শাহরুখ মজা করে বলেছিলেন, 'তুমকো লুট লেগি (তোমাকে কিন্তু লুটে নেবে)'। কিন্তু আমি নাছোড়বান্দা ছিলাম। শেষ পর্যন্ত গৌরী খানের সঙ্গে আমার দেখা হয়।’

তিনি আরও জানান, কাজ শুরু করার আগে গৌরী তাঁর সামনে একটি বিশেষ শর্ত রেখেছিলেন। মিকার ভাষায়, ‘গৌরীর একটাই শর্ত ছিল— তাঁর করা ডিজাইন বা পছন্দ নিয়ে কখনো প্রশ্ন করা যাবে না। আমি সেই শর্ত মেনে নিয়েছিলাম। এরপর পুরো বাড়ির কাজ শেষ করতে তাঁর প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল।’

মিকা সিং ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়ক, র‌্যাপার, সুরকার এবং লাইভ পারফর্মার হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৭ সালের ১০ জুন অমরিক সিং নামে জন্মগ্রহণ করা মিকা পঞ্জাবি-পপ এবং পার্টি গানের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। তিনি বিখ্যাত গায়ক দলের মেহেন্দির ছোট ভাই এবং গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের পার্টি অ্যান্থেমগুলোর অন্যতম পরিচিত কণ্ঠ।

কেরিয়ারে তিনি একাধিক সুপারহিট গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মৌজা হি মৌজা’, ‘দিল মে বাজি গিটার’, ‘সুভা হোনে না দে’, ‘জুম্মে কি রাত’, ‘আজ কি পার্টি’, ‘গান্ডি বাত’, ‘হির তো বড়ি স্যাড হ্যায়’, ‘ধন্নো’, ‘লং ড্রাইভ’ এবং ‘পার্টি তো বানতি হ্যায়’। নিজের প্রতিভা, পরিশ্রম এবং স্টাইলের মাধ্যমে তিনি বলিউড সঙ্গীত জগতে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছেন।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More