টলিপাড়ার এক জনপ্রিয় নায়কের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ আনা হল। অভিনেতা-বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন অভিনেতা তথা রাজনীতিবিদ শাহিদ ইমাম। ইন্ড্রাস্ট্রিতে শাহিদ ‘শুভম’ নামে পরিচিত।
কিছুদিন আগেই মুম্বইতে চেক বাউন্সের অভিযোগে কারাবাস করতে হয়েছিল রাজপাল যাদবকে। আর এবার টলিপাড়ার এক জনপ্রিয় নায়কের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ আনা হল। অভিনেতা-বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন অভিনেতা তথা রাজনীতিবিদ শাহিদ ইমাম। ইন্ড্রাস্ট্রিতে শাহিদ ‘শুভম’ নামে পরিচিত।
শাহিদ জানান সোহম নাকি তাঁর থেকে ৬৮ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। ঋণের সামান্য অংশ ফেরত দেওয়ার পর থেকে আর নিয়ে কোনও কথা বলতে দেখা যায়নি সোহমকে। এমনকী সোহম নাকি শাহিদকে হুমকিও দিচ্ছেন তিনি অভিযোগ করেছেন।
এই প্রসঙ্গে আনন্দবাজার ডট কমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোহম বলেন, ‘হুমকি দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। টাকা ফেরত দেব একাধিক বার জানিয়েছি। নির্বাচনের আগে আমায় কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
সোহম বলেন, ‘আইনি নোটিস পেয়েছি। আমার আইনজীবী বিষয়টি দেখছেন। শাহিদ আইনি পথে হাঁটলে আমিও আইনি পদক্ষেপ করব। তবে উনি কোন কালে যুবনেতা ছিলেন, সেটা জানি না।’
সোহমের সঙ্গে অনেক দিনের পরিচয় দীর্ঘ শাহিদের সেই জায়গা থেকেই তিনি ২০২১ সালে সোহমকে ৬৮ লক্ষ টাকা ধার দেন। নায়ক আরও বলেন, ‘২০২১ সালে ‘পাকা দেখা’ ছবির কারণে ৬৮ লক্ষ ঋণ নিয়েছিলাম শাহিদের থেকে। ওঁর আরও বেশি টাকা দেওয়ার কথা ছিল। পরে সেটা দেননি। তখন অন্যদের থেকে বাকি টাকা জোগাড় করি।’ এর পর নাকি সোহম তাঁকে ২৫ লক্ষ টাকা ফেরতও দিয়ে দেন।
সোহমের কথায়, ‘বাকি ৪৩ লক্ষ টাকাও মিটিয়ে দেব, বার বার বলেছি শাহিদকে। আমার কয়েকটি ছবি আটকে। বাংলা ছবির ব্যবসার অবস্থাও সকলের জানা। ফলে, ছবিমুক্তি না ঘটলে বা হাতে টাকা না এলে কী করে ঋণশোধ করব? শাহিদ আমার অবস্থাটাই বুঝলেন না!’
এসএসসিকাণ্ডে শাহিদ গ্রেফতার করে পুলিশ তারপর ২০২৩ সালে তিনি পান। শাহিদ বলেন, 'অভিনয়ের পাশাপাশি সেই সময় আমি তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা।সংশোধনাগারে থাকার ফলে আমি টাকা ফেরত চাইতে পারিনি। ২০২৩ সালে জামিন পাই। সংশোধনাগার থেকে বেরিয়ে যোগাযোগ করি সোহমের সঙ্গে। ওঁর থেকে টাকা ফেরত চাই।” শাহিদ আরও জানান সত্যি সোহম দুই দফায় মোট ২৫ লক্ষ টাকা তাঁকে পরিশোধ করেছেন। কিন্তু তারপর থেকেই নাকি নায়ক আর এই নিয়ে কোনও কথা বলেননি।