৬ বছর পার! সুশান্তের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্বেতা লিখলেন, ‘আজ যখন ভাইয়ের কথা ভাবি…’
Sushant Singh Rajput Death Anniversary: প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রয়াত বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর বোন শ্বেতা সিং কীর্তি একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন। সেই পোস্টে শ্বেতা সুশান্তের নীতি, মূল্যবোধ এবং জীবনের আদর্শগুলো তাঁর অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।
বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত চলে যাওয়ার আজ ছয় বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২০ সালের ১৪ জুন তাঁর মৃত্যুর খবর গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। শুধু তাঁর পরিবার বা সহকর্মীরাই নন, কোটি কোটি অনুরাগীর কাছেও এটি ছিল এক গভীর আঘাত। এত বছর পরেও সুশান্তের স্মৃতি এবং তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ আজও মানুষের মনে সমানভাবে জীবন্ত।

রবিবার তাঁর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সুশান্তের দিদি শ্বেতা সিং কীর্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি সুশান্তের কিছু পুরনো স্মরণীয় ছবি এবং কিছু এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করেন। সেই ছবিগুলোর সঙ্গে ভাইকে স্মরণ করে নিজের মনের কথা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি জানান, কীভাবে আজও সুশান্ত অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন।
পোস্টে শ্বেতা লিখেছেন, ‘ছয় বছর কেটে গিয়েছে, কিন্তু কিছু আত্মা সময়ের সঙ্গে আরও বড় হয়ে ওঠে। আজ যখন আমি ভাইয়ের কথা ভাবি, তখন আমি ভাবি না সে কীভাবে চলে গেল, বরং ভাবি সে কীভাবে বেঁচেছিল।’
তিনি আরও লেখেন, সুশান্তের শিশুসুলভ কৌতূহল তাঁকে সবসময় মুগ্ধ করত। জীবন, নক্ষত্র, মহাবিশ্ব এবং মানব মস্তিষ্কের রহস্য সম্পর্কে জানার জন্য তাঁর অদম্য আগ্রহ ছিল। শ্বেতার কথায়, ‘আমি ওর সেই কৌতূহলের কথা ভাবি, যা কখনও শেষ হয়নি। আমি সেই মানুষটার কথা ভাবি, যে জীবনের প্রতিটি দিককে জানতে ও বুঝতে চাইত। আমি সেই হৃদয়ের কথা ভাবি, যে প্রতিটি মানুষের সঙ্গে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে ব্যবহার করত, সে যেই হোক না কেন।’
ভাইয়ের কাছ থেকে শেখা মূল্যবোধের কথা স্মরণ করে শ্বেতা বলেন, সুশান্ত তাঁকে শিখিয়েছিলেন যে সহমর্মিতা ও মানবিকতা ছাড়া সাফল্যের কোনও মূল্য নেই। তিনি লিখেছেন, ‘আমি এমন একজন মানুষের কথা ভাবি, যিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে দয়া ও সহানুভূতি ছাড়া সাফল্যের কোনও অর্থ নেই।’
নিজের পোস্টে ভালোবাসা এবং মানবিক মূল্যবোধ নিয়েও কথা বলেছেন শ্বেতা। তিনি লিখেছেন, ‘সময়ের সঙ্গে আমি একটি খুব সুন্দর বিষয় বুঝতে পেরেছি— ভালোবাসা সময়ের নিয়ম মেনে চলে না। শরীর হয়তো আমাদের চোখের আড়ালে চলে যেতে পারে, কিন্তু একটি সুন্দর আত্মার প্রভাব অসংখ্য মানুষের জীবনে থেকে যায়।’
তিনি আরও বলেন, যখনই কেউ রাগের পরিবর্তে দয়াকে বেছে নেয়, অজ্ঞতার পরিবর্তে জ্ঞানকে গ্রহণ করে, হতাশার বদলে আশাকে বেছে নেয় এবং বিদ্বেষ বা সংকীর্ণতার পরিবর্তে ভালোবাসাকে প্রাধান্য দেয়, তখন সুশান্তের আদর্শের একটি অংশ জীবন্ত হয়ে ওঠে। শ্বেতার মতে, এই ছোট ছোট কাজগুলোর মধ্যেই তাঁর ভাইয়ের চিন্তাধারা এবং উত্তরাধিকার বেঁচে থাকে।
পোস্টের শেষাংশে শ্বেতা লিখেছেন, সুশান্তকে সত্যিকারের শ্রদ্ধা জানানোর সবচেয়ে বড় উপায় হলো হতাশ না হওয়া এবং তাঁর জীবনের মূল্যবোধগুলোকে নিজের জীবনে ধারণ করা। তিনি লিখেছেন, ‘কৌতূহলী হন, দয়ালু হন, শেখা কখনও বন্ধ করবেন না, নির্ভয়ে স্বপ্ন দেখুন এবং পৃথিবীকে কখনও আপনার হৃদয়কে কঠোর করে তুলতে দেবেন না।’
এরপর তিনি লেখেন, ‘জীবনকে মাপা উচিত নয় এটি কীভাবে শেষ হয়েছে তা দিয়ে, বরং এটি কতগুলো হৃদয়কে জাগিয়ে তুলেছে এবং কত মানুষের জীবনকে স্পর্শ করেছে তা দিয়ে। আর সেই মানদণ্ডে বিচার করলে ভাই আজও বেঁচে আছে। তুমি আজও কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছ। সবসময় অনেক ভালোবাসা। তুমি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।’
শ্বেতা সিং কীর্তির এই আবেগঘন পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর মুহূর্তের মধ্যেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। সুশান্ত সিং রাজপুতের অসংখ্য অনুরাগী পোস্টটিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রিয় অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর স্মৃতিচারণ করেন। অনেকেই মন্তব্য করেন, সুশান্ত হয়তো আজ শারীরিকভাবে আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু তাঁর চিন্তাভাবনা, তাঁর হাসি এবং তাঁর স্বপ্ন আজও লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। ছয় বছর পরেও সুশান্ত সিং রাজপুত তাঁর অনুরাগীদের হৃদয়ে একই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং আবেগ নিয়ে বেঁচে আছেন। আর সেটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


