৭ হাজার থেকে ২ হাজার ‘কাটমানি’ নিত ইন্দ্রনীল সেন! প্রাক্তন মন্ত্রীকে নিয়ে বোমা ঋদ্ধির
‘গ্রিন রুমে চলত সিন্ডিকেটরাজ!’ ঋদ্ধির নিশানায় এবার ইন্দ্রনীল-ঘনিষ্ঠ খোদ সরকারি আমলারাও।
বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ গায়ক-নেতা ইন্দ্রনীল সেনের। সরকারি সঙ্গীত মেলা ও বিভিন্ন সংস্কৃতি উৎসবের গ্রিন রুমে কীভাবে শিল্পীদের সাম্মানিক থেকে একটা বড় অংশ কেটে নেওয়া হতো, তা নিয়ে গায়িকা ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ঋদ্ধির তোপ এবার শুধু ইন্দ্রনীল বা তাঁর পিএ ‘ঝুনু’র ওপর আটকে নেই, এর জল গড়িয়েছে খোদ নবান্নের অন্দরমহল পর্যন্ত। গায়িকার অভিযোগ, এই গোটা কাটমানি চক্রের নেপথ্যে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে ছিলেন বেশ কিছু শীর্ষস্তরের সরকারি আধিকারিক বা আমলারাও!

আমলা-নেতা গোপন আঁতাত! সরকারি টাকার ‘ভাগ-বাঁটোয়ারা’
ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এই কাটমানির টাকা তোলার নেপথ্যে যে শক্ত নেক্সাস বা সিন্ডিকেটটি কাজ করত, সেখানে রাজনীতির লোকেদের সঙ্গে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করতেন কিছু সরকারি আমলা। শিল্পীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা থেকে শুরু করে সেই টাকা আবার ক্যাশে ‘ব্যাক’ নেওয়ার পুরো ব্লু-প্রিন্ট নাকি তৈরি হতো তাঁদেরই নজরদারিতে। ঋদ্ধির কথায়, ‘একজন সরকারি অফিসার যখন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে শিল্পীর টাকা কাটার তদারকি করেন, তখন বুঝতে হবে দুর্নীতি কতটা গভীরে ঢুকেছে।" কোনো সৎ শিল্পী এই ব্যবস্থার প্রতিবাদ করলে আমলারা এক জোট হয়ে আগামী দিনের সরকারি তালিকা থেকে তাঁর নামটাই পুরোপুরি ভ্যানিশ করে দিতেন’।
তোষামোদ আর পুরস্কারের ‘ট্রেড ইউনিয়ন’
অভিযোগের তালিকায় আরেকটি বড় বিষয় হলো পদক ও পুরস্কারের রাজনীতি। ঋদ্ধির ক্ষোভ, যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, বরং কারা ইন্দ্রনীলবাবুর দফতরে বেশি হাজিরা দিচ্ছেন এবং আমলাদের মন জুগিয়ে চলছেন, তাঁদেরই বড় বড় সরকারি খেতাবে ভূষিত করা হচ্ছে। গায়িকা সোচ্চার হয়ে জানান, এর ফলে সত্যিকারের গুণী এবং ক্লাসিক্যাল ঘরানার শিল্পীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন, আর ক্ষমতার অলিন্দে তৈরি হচ্ছে এক চাটুকার বাহিনীর ‘ট্রেড ইউনিয়ন’।
ব্যাকফুটে ইন্দ্রনীল, অস্বস্তিতে শাসকদল
এই একের পর এক নথিসমেত অভিযোগে স্বাভাবিকভাবেই কোণঠাসা রাজ্যের এই প্রাক্তন মন্ত্রী। ঋদ্ধি যখন একে একে প্রবীর মল্লিক ওরফে ঝুনু এবং সরকারি অফিসারদের যোগসূত্র নিয়ে মুখ খুলছেন, তখন ইন্দ্রনীলের সেই চেনা জবাব— “মন্তব্যে আত্মসম্মানে বাধে'', তা আর ধোপে টিকছে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজ্যের সাম্প্রতিক একাধিক কেলেঙ্কারির আবহে টলিপাড়ার এই ‘গ্রিন রুম সিন্ডিকেট’-এর পর্দাফাঁস আগামী দিনে কার কার ঘুম ওড়ায়, এখন সেটাই টলিউডের অন্দরের বড় প্রশ্ন।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


