Compass Actor: দর্শকের থেকে শুনলেন অকথ্য় ভাষায় গালিগালাজ! জীবনের ‘সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি', বলছেন কম্পাস অভিনেতা
স্টার জলসার কম্পাসে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে দাগ কেটেছেন সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার দর্শকদের গালিগালাজও মাথা পেতে নিলেন অভিনেতা।
ছোটপর্দায় কোনও অভিনেতা যখন খল চরিত্রে অভিনয় করেন, তখন দর্শকের ক্ষোভ বা ঘৃণা কুড়ানোই তাঁর সবচেয়ে বড় সার্থকতা। কিন্তু মাঝেমধ্যে সেই ক্ষোভ পর্দার গণ্ডি ছাড়িয়ে বাস্তবে রূপ নেয় চরম ব্যক্তিগত আক্রমণ ও গালিগালাজে। এবার ঠিক তেমনই এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন স্টার জলসার (Star Jalsha) জনপ্রিয় মেগা ধারাবাহিক ‘কম্পাস’ (Compass)-এর খলনায়ক তথা বর্ষীয়ান অভিনেতা সোহন বন্দ্যোপাধ্যায় (Sohan Bandyopadhyay)।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক নেটিজেনের ‘অত্যন্ত অপমানকর’ ও কুরুচিকর মন্তব্যের মুখে পড়েও রেগে যাননি সোহন। বরং একজন প্রকৃত শিল্পীর মতো অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়, শালীনতা বজায় রেখে সেই ট্রোল বা অপমানের এক যোগ্য ও মোক্ষম জবাব দিয়েছেন তিনি।
‘কম্পাস’-এর ৩০০ পর্বের আনন্দপোস্টে বিষাদ
‘কম্পাস’ ধারাবাহিকটি সফলভাবে ৩০০ পর্ব পার করেছে সম্প্রতি। এই মাইলফলক উদযাপন করতেফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পোস্টেরই কমেন্ট সেকশনে বিপ্লব নামক এক ব্যক্তি অভিনেতাকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত নোংরা ও অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেন।
‘ভাষা ব্যবহারে প্রবৃত্ত করতে পেরেছি, অভিনেতার পরিশ্রম সার্থক!’
সাধারণত এই ধরণের নোংরা ট্রোলিং দেখে অনেকেই আইনি পদক্ষেপ নেন বা ক্ষোভ প্রকাশ করেন, কিন্তু সোহন বন্দ্যোপাধ্যায় একেই তাঁর অভিনয় জীবনের ‘সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি’ হিসেবে দেখছেন। নিজের ফেসবুক ওয়ালে সেই ট্রোলাকারীকে ট্যাগ করে তিনি লিখেছেন, 'টেলিভিশনে অভিনয় করে এক অসাধারণ প্রাপ্তি হল আজ এই ফেসবুকে। 'কম্পাস' সিরিয়ালের ৩০০ পর্ব উপলক্ষ্যে আজ সকালে একটা পোস্ট করেছিলাম। সেখানে একটি 'অত্যন্ত অপমানকর' মন্তব্য দেখে আমার দলের একজন অভিনেত্রী এই মাত্র জানালো আমায়। তারপর আমি নিজে দেখলাম মন্তব্যটি।
বিশ্বাস করুন, কী যে আনন্দ পেলাম মন্তব্যটি পড়ে, তা কহতব্য নয়। আমি এই ভদ্রলোককে চিনি না। তবে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর মনে এতটা ঘৃণার উদ্রেক করতে পেরে, খুব আনন্দ হচ্ছে। একটি খল চরিত্রায়ন যদি কারোর মনে এতটা ঘৃণার জন্ম দিতে পারে এবং তাঁকে এরূপ ভাষা ব্যবহারে প্রবৃত্ত করে- তাহলে তো অভিনেতার পরিশ্রম সার্থক।'
‘বিপ্লববাবু, আপনার এই অপমান মাথা পেতে নিচ্ছি’
প্রতিবাদের ভাষা যে কতটা মার্জিত অথচ তীক্ষ্ণ হতে পারে, তা প্রমাণ করে সোহন ওই নেটিজেনকে উদ্দেশ্য করে শেষে যোগ করেন— ‘বিপ্লববাবু, আমি আপনার এই অপমান মাথা পেতে নিচ্ছি। ভালো থাকবেন।’
সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পরিণত জবাব দেখে নেটপাড়ার সিংহভাগ মানুষ তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। সহকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ অনুরাগীরাও স্পষ্ট জানিয়েছেন, পর্দায় তাঁর খল অভিনয় এতটাই জীবন্ত যে মানুষ বাস্তব আর অভিনয়ের তফাত ভুলে গেছে। আর এটাই একজন সুঅভিনেতার আসল পরিচয়।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


