Sonam-Aamir: সোনমকে নিয়ে ‘মিথ্যে’ বলছেন আমির? অভিনেতার দাবি চিনতেনই না সোনম ওয়াংচুককে, তবে ২০০৮-এর ভিডিয়ো বলছে অন্য কথা
গত ২০ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। এরই মধ্যে আমির খানের একটি মন্তব্য ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি দাবি করেন, ‘থ্রি ইডিয়টস’-এ তাঁর চরিত্র সোনম ওয়াংচুককে অনুপ্রাণিত নয়। সেই দাবির মাঝেই সামনে এসেছে একটি পুরনো ভিডিয়ো, যেখানে সোনম বলছেন, ২০০৮ সালে তাঁর সঙ্গে আমিরের সাক্ষাৎ হয়।
টানা ২০ দিন ধরে যন্তর মন্তরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখন উদ্বিগ্ন অনুরাগী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল। বলিউডের একাধিক তারকাও তাঁর সমর্থনে সরব হয়ে কেন্দ্রের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে আমির খানের একটি মন্তব্য ভাইরাল হয়েছে। সেই বক্তব্যে আমির বলেন, ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবিতে তাঁর চরিত্র সোনম ওয়াংচুককে অনুপ্রাণিত করে তৈরি হয়নি। এমনকী ছবির সময় তিনি সোনম ওয়াংচুককে চিনতেনও না বলে দাবি করেন।

তবে আমিরের এই মন্তব্যের মাঝেই সোনম ওয়াংচুকের একটি পুরনো ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিয়োতে সোনম নিজেই জানাচ্ছেন, ২০০৮ সালেই তাঁর সঙ্গে আমির খানের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল। উল্লেখ্য, ‘থ্রি ইডিয়টস’ মুক্তি পায় ২০০৯ সালে।
২০০৮ সালেই আমির খানের সঙ্গে দেখা হয়েছিল সোনমের
ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে সোনম ওয়াংচুক দর্শকদের জানান, ২০০৮ সালে মুম্বইয়ের একটি অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে আমির খানের দেখা হয়েছিল। সেই সাক্ষাৎকারের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি আমিরকে প্রশ্ন করেছিলেন, সিয়াচেন সীমান্তের উত্তেজনা নিয়ে তিনি কোনও চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারবেন কি না।
সোনম বলেন, ‘আমি ওঁকে বলেছিলাম, এমন একটি বিষয় নিয়ে কি ছবি করা যায় না, যেখানে দেখানো হবে যে দুই দেশ বরফের একটি অংশের জন্য লড়াই করছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৭ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। আমরা কি এমন গল্প দেখাতে পারি না, যেখানে দুই দেশের সাধারণ মানুষ এই সমস্যার সমাধান করছে এবং সেই অর্থ শিক্ষার উন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে?’
সোনমের বক্তব্য শুনে হাততালি দিয়েছিলেন আমির
ভিডিয়োতে সোনম আরও জানান, আমির খান তাঁর ভাবনা মন দিয়ে শুনেছিলেন এবং তাঁর প্রেজেন্টেশনও দেখেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানের কিছু ঝলকও ভিডিয়োতে দেখানো হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, সোনম ওয়াংচুক একটি পুরস্কার গ্রহণ করছেন এবং দর্শকাসনে বসে আমির খান তাঁর জন্য হাততালি দিচ্ছেন।
সোনম জানান, ওই অনুষ্ঠানের পর তিনি ইউরোপে চলে যান। তবে ২০০৯ সালে আবারও আমির খান তাঁর জীবনে ফিরে আসেন, যখন তাঁর বন্ধুদের কাছ থেকে বার্তা আসে যে তাঁর জীবনকে কেন্দ্র করে একটি অসাধারণ সিনেমা তৈরি হয়েছে। তাঁকে আরও জানানো হয়, ছবিতে তাঁর স্কুলও দেখানো হয়েছে। সোনমের কথায়, এই খবর শুনে তিনি সম্পূর্ণ অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি প্রথমে বুঝতেই পারেননি, কোন ছবির কথা বলা হচ্ছে।
শুটিংয়ের জন্য সোনমের স্কুলে গিয়েছিল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর টিম
ভিডিয়োতে সোনম আরও জানান, যখন সবাই তাঁকে বলতে শুরু করেন যে ছবিতে তাঁর স্কুল দেখানো হয়েছে, তখন তিনি নিজেই নিজের স্কুলে ফোন করে জানতে চান, সেখানে কোনও সিনেমার শুটিং করতে কেউ এসেছিল কি না।
স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানান, একটি ফিল্মের টিম সেখানে এসেছিল ঠিকই, কিন্তু তারা কী প্রজেক্টের শুটিং করছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পাশাপাশি তারা শুটিংয়ের জন্য প্রচুর প্লাস্টিক সামগ্রী নিয়ে এসেছিল। পরিবেশের কথা বিবেচনা করে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের সেখানে শুটিং করার অনুমতি দেয়নি। এরপর ছবির সেই অংশটি কাছাকাছি অন্য একটি স্কুলে গিয়ে শুট করা হয় বলে ভিডিয়োতে জানান সোনম ওয়াংচুক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কী বলছেন নেটিজেনরা?
সোনম ওয়াংচুকের এই ভিডিয়োটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। ভিডিয়োটি ঘিরে নেটিজেনরাও নানা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
একজন লিখেছেন, ‘সেই সময় আমির সম্ভবত ‘গজনি’-র শুটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। মজার বিষয় হলো, তিনি নাকি এই সাক্ষাতের কথা পুরোপুরি ভুলে গিয়েছেন।’
অন্য এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘সোনম কখনও বলেননি যে ‘থ্রি ইডিয়টস’ তাঁর জীবন অবলম্বনে তৈরি। আমার প্রশ্ন একটাই—আমির কেন বললেন তিনি সোনম ওয়াংচুককে চিনতেনই না?’
আরও একজন লেখেন, ‘এত বছর ধরে মানুষ ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সঙ্গে সোনম ওয়াংচুকের নাম জুড়ে দেখেছে। যদি বিষয়টি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে আমির এতদিন সেই ভুল ধারণা ভাঙলেন না কেন? এখন হঠাৎ কেন এই ব্যাখ্যা?’
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


