‘যারা আপনার করুণা ভিক্ষা করতেন, তারাই আজ…’! ফাঁকা মমতার ২১ জুলাই মঞ্চ, কী লিখলেন বাম-মনস্ক শ্রীলেখা

এবার পৃথক পৃথকভাবে ২১ জুলাই সমর্থন করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের তৃণমূল, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। এমনকী, NCPI-তে যোগ দেওয়া ২০ জন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মিলে দিল্লিতে করেছিলেন আয়োজন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কী লিখলেন শ্রীলেখা?

Published on: Jul 22, 2026, 12:35:46 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মঙ্গলবার এক অদ্ভুত ২১ জুলাই-এর সাক্ষী হয়েছে গোটা বাংলা। বারবারই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ২১শে জুলাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত ১৩ জন শহিদদের স্মরণে প্রতি বছর এই কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। যা কংগ্রেসের হাত ঘুরে বিগত বছরকয়েক ধরে ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। তবে এবার পৃথক পৃথকভাবে ২১ জুলাই সমর্থন করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের তৃণমূল, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। এমনকী, NCPI-তে যোগ দেওয়া ২০ জন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মিলে দিল্লিতে করেছিলেন আয়োজন।

মমতাকে বিঁধে কী লিখলেন শ্রীলেখা?
মমতাকে বিঁধে কী লিখলেন শ্রীলেখা?

একসময় তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে থাকত রমরমা। টলিউড তারকারা ঘিরে থাকতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দলে যোগ দেওয়া গায়ক-অভিনেতারা তো থাকতেনই, সঙ্গে নিজেদের অরাজনৈতিক বলা তারকারাও ছুটে চলে যেতেন দিদির ডাকে। তবে এবার মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে কুণাল ঘোষ, মহুয়া মৈত্র, দোলা সেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-রা ছাড়া সেরকম কোনো বড় মুখ ছিল না বললেই চলে।

আর এই নিয়েই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ দেগেছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। আরজি কর আন্দোলনের মতো ইস্যুতে কথা বলার জন্য, তৃণমূল কংগ্রেসের নিশানায় একসময় ছিলেন অভিনেত্রী। অনলাইনে কুৎসা ছড়ানো, হুমকি, তাঁকে নিয়ে নোংরা পোস্টার, নান ঘটনার সাক্ষী তিনি। তবে এবার মমতার অবস্থা দেখে কটাক্ষ ভেসে এল শ্রীলেখার থেকে। সরাসরি মমতাকে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, মানুষ কতটা ‘নির্মম’।

বামমনস্ক শ্রীলেখা তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘মানুষ (এখানে অভিনেতা নেত্রীরা) বেশ নির্মম, বুঝলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আপনি তো সবসময় একটু গ্ল্যামার-ঘেরা রাজনীতি পছন্দ করতেন—ডান-বাম, সামনে-পেছনে, চারপাশে সিরিয়ালের মুখ, সিনেমার মুখ, দু-পাঁচজন পরিচালক—এই সব মিলিয়েই যেন আপনার রাজনৈতিক দুনিয়া রমরমে ছিল। যাঁরা একসময় আপনার নাম ধরে, আপনার ভাইপোর নাম ধরে ঘুরে বেড়াতেন,আপনার করুণা ভিক্ষা করতেন আপনার আশেপাশেই থাকতেন, আজ তাঁদের অনেকেই অন্য শিবিরে চলে গেছেন। ক্ষমতার হাওয়া বদলাতেই আনুগত্যও বদলে গেছে। আপনি এসব হবে জানতেন না দিদি?’

‘এখানেই সবার জন্য একটা শিক্ষা আছে। আজ যারা রামের দুয়ারে, কাল পরিস্থিতি বদলালে তারা আবার অন্য দুয়ারেও যেতে পারে। আজ সেই ২১ জুলাই। ব্যক্তিগতভাবে বললে, আপনার জন্য আমার মনটা....( ফ্যাচফ্যাচ)’, আরও লেখেন শ্রীলেখা।

প্রসঙ্গত, বুধবার কলকাতায় পালিত হয়েছে তিন পক্ষের ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশ। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের রাস্তায় শহিদ দিবস পালন করছেন মমতা-অভিষেক। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শহিদ দিবস পালন করছেন ধর্মতলার মেয়ো রোডে। এবার আসরে ছিল কংগ্রেসও। তারা শহিদ মিনারে আয়োজন করেছিল।

প্রতি বছর ২১ জুলাইয়ের আগের দিন থেকে হাজার হাজার তৃণমূলকর্মী উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কলকাতায় আসা শুরু করতেন। তাঁদের জন্য থাকত ঢালাও আয়োজন। মেনুতে ডিম-ভাত। গোটা শহর তৃণমূলের পতাকা এবং ফেস্টুন দিয়ে মুড়ে ফেলা হত।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More