Rahul Arunoday Banerjee: রাহুলের মৃত্যু নিয়ে এখনও চুপ শ্বেতা-সহ ভোলে বাবা টিম, তদন্তভার সিআইডি-র হাতে!
রাহুলের মৃত্যুর পর আড়াই মাস অতিক্রান্ত। এখনও এই মৃত্যু নিয়ে হাজারো প্রশ্ন রাহুলের পরিবার-সহ শুভাকাঙ্খীদের মনে। উত্তর মিলবে? তদন্তভার গেল সিআইডির হাতে।
টলিউডের জনপ্রিয় এবং অত্যন্ত প্রতিভাবান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বিনোদন দুনিয়াকে। গত ২৯ মার্চ দিঘার অদূরে তালসারি (Talsari Beach) সৈকতে শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। তবে এই মৃত্যুকে স্রেফ ‘দুর্ঘটনা’ বলে মানতে নারাজ ছিল তাঁর পরিবার এবং টলিপাড়ার কলাকুশলীরা।

অবশেষে সেই দীর্ঘস্থায়ী দাবির মুখে দাঁড়িয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। ঘটনার আড়াই মাসের মাথায়, গতকাল (১৫ জুন, ২০২৬) এক সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে, অভিনেতা রাহুলের মৃত্যুর তদন্তভার এবার রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ বা সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
‘দুর্ঘটনা নাকি গাফিলতি?’ কেন সিআইডি তদন্ত?
গত ২৯ মার্চ একটি বাংলা মেগা ধারাবাহিক ‘ভোলেনাথ পার করেগা’-র শুটিং করতে ওড়িশার তালসারি সমুদ্র সৈকতে গিয়েছিলেন রাহুল। শুটিং শেষ হওয়ার পর একটি ড্রোন শটের জন্য তিনি সমুদ্রের একটু গভীরে যান এবং হঠাৎ আসা একটি বড় ঢেউয়ের তোড়ে তলিয়ে যান। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রাহুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎকররা। কিন্তু রাহুলকে উদ্ধার করা থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত ঘটনাক্রম নিয়ে পরস্পর বিরোধী মন্তব্য় মিলেছে ভোলে বাবা টিমের তরফে।
পরিবারের সন্দেহ ও এফআইআর: প্রথম থেকেই রাহুলের স্ত্রী, অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং টলিপাড়ার বন্ধুদের অভিযোগ ছিল, শুটিংয়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সুরক্ষাবিধি মানা হয়নি। এমনকি তালসারি কোস্টাল পুলিশ জানিয়েছিল, ওই সমুদ্র সৈকতে শুটিং করার জন্য প্রশাসনের কোনও আগাম অনুমতিই নেওয়া হয়নি।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট: ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, দীর্ঘক্ষণ জলের নিচে আটকে থাকায় শ্বাসরোধ (Asphyxia) হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর ফুসফুস এবং খাদ্যনালীতে প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক বালি ও নোনা জল ঢুকে গিয়েছিল।
পরিবারের দায়ের করা অস্বাভাবিক মৃত্যুর (Unnatural Death) মামলার ভিত্তিতেই এবার সিআইডিকে তদন্তভার নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশকে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘায় একটি প্রশাসনিক সভায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘কিছুদিন আগে এক চলচ্চিত্র তারকা উদয়পুরে (তালসারি সংলগ্ন এলাকা) মারা যান। ওড়িশা সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে তদন্ত শুরু করেছিল। আমাদের রাজ্যের তরফে আমি পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারকে (SP) নির্দেশ দিয়েছি, তিনি যেন অবিলম্বে রাজ্য পুলিশের ডিজিপি-র মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে ফাইল পাঠান, যাতে আমাদের সিআইডি (CID) এই মামলার দায়িত্ব নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করতে পারে’।
. শূন্য টলিপাড়া ও প্রিয়াঙ্কার লড়াই
‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ খ্যাত ৪২ বছর বয়সী এই অভিনেতার অকাল প্রস্থানে টলিপাড়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা আজও পূরণ হয়নি। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ক্ষুরধার বুদ্ধি এবং জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘সহজ কথা’-র জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে আশাবাদী প্রিয়াঙ্কা, তবে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি অভিনেত্রী।
রাহুলের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং একমাত্র সন্তান সহজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে গোটা ইন্ডাস্ট্রি। সিআইডি তদন্তের এই সিদ্ধান্তে কিছুটা হলেও সুবিচারের আলো দেখছেন প্রিয়াঙ্কা। যদিও সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল রাহুলের সঙ্গে? তা নিয়ে এখনও চুপ নায়কের ভোলে বাবা নায়িকা শ্বেতা মিশ্র। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে গায়বে শ্বেতা, ওইদিনের পর প্রকাশ্যে আসেননি তিনি।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


