Sudipa Step Son: ‘আমি তোর মা হতে পারব না…’, সৎ ছেলের জন্মদিন, সুদীপা জানালেন আকাশের সঙ্গে সমীকরণ
অগ্নিদেবের প্রথম পক্ষের ছেলে আকাশ প্রথম দিকে সুদীপাকে ‘বাবার প্রেমিকা’ হিসেবে মেনে নিতে পারেনি। কীভাবে সহজ হল দুজনের সম্পর্ক?
টলিউডের জনপ্রিয় সঞ্চালিকা-অভিনেত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায় এবং পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়ের সুখী গৃহকোণের গল্প সবারই জানা। তবে এই পরিবারের বন্ধনটা আরও বেশি মজবুত করে তুলেছে তাঁদের দুই ছেলে— বড় ছেলে আকাশ এবং ছোট ছেলে আদিদেব। ৮ই জুন অগ্নিদেবের প্রথম পক্ষের ছেলে আকাশ চট্টোপাধ্যায়-এর জন্মদিন। আর এই বিশেষ দিনে সৎ ছেলের উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন এবং ভালোবাসায় মোড়া পোস্ট শেয়ার করলেন সুদীপা।

ক্যাপশনে আকাশকে নিজের 'গাইডবুক' এবং 'অভিভাবক' বলে উল্লেখ করে সুদীপা লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন, টিনটিন (আকাশের ডাকনাম)। সবসময় আমার শক্তি, আমার গাইডবুক এবং অবশ্যই (মাঝে মাঝে) একজন অভিভাবক হিসেবে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আমাদের সবার পক্ষ থেকে অনেক অনেক ভালোবাসা। মা দুর্গা তোমাকে সেরা আশীর্বাদে ভরিয়ে দিন।’ সৎ ছেলের সঙ্গে দারুণ বন্ডিং সুদীপার। সুদীপা-পুত্র আদিদেবের সবচেয়ে কাছের মানুষ আকাশ। কিন্তু সহজ ছিল না সুদীপার পথচলা।
শুরুর দিনগুলো সহজ ছিল না, ‘তোর মায়ের জায়গা আমি নেব না’
আজ মা-ছেলের মধ্যে যতই মধুর সম্পর্ক থাকুক না কেন, শুরুর দিনগুলো কিন্তু বেশ কঠিন ছিল। অগ্নিদেবের প্রথম স্ত্রী দেবযানীর সঙ্গে ডিভোর্সের পর আকাশ বাবার সঙ্গেই থাকত। আকাশ যখন বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা করছে, ঠিক তখনই অগ্নিদেবের জীবনে সুদীপার আগমন ঘটে। স্বাভাবিকভাবেই, একজন সন্তান হিসেবে বাবার জীবনে অন্য কোনো মহিলাকে সহজে মেনে নিতে পারেনি ছোট আকাশ।
এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন সময়ের স্মৃতি হাতড়ে সুদীপা বলেছিলেন, ‘প্রথমে ও যখন হস্টেল থেকে আসত, বাবার জীবনে অন্য মহিলা বা বাবার বান্ধবী হিসেবে আমায় একেবারেই মেনে নিতে পারেনি। একদিন আমিই আকাশকে ডেকে বলি— তোমার মায়ের জায়গা আমি কখনও নেব না। কিন্তু আমরা ভালো বন্ধু তো হতে পারি? সেদিন আমার মুখে এই কথাটা শুনে ও বেশ চমকে গিয়েছিল।’
সুদীপা-অগ্নিদেবের আইনি বিয়ের দিন মায়ের পাশে ছিল আকাশ
সুদীপা জানান, সময়ের সাথে সাথে তাঁদের বন্ধুত্ব গভীর হলেও নিজের মায়ের প্রতি আকাশের আবেগ ছিল দেখার মতো। সুদীপা ও অগ্নিদেবের আইনি বিয়ের দিন আকাশ উপস্থিত থাকেনি। সে সুদীপাকে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, এই বিশেষ দিনটিতে সে তার নিজের মায়ের পাশে থাকতে চায়, যাতে তার মা কোনোভাবে ভুল না বোঝেন বা কষ্ট না পান। ছেলের এই পরিণত মানসিকতার প্রশংসা করে সুদীপা বলেছিলেন, ‘সত্যি বলছি, আকাশের মতো ছেলে হয় না।’
দাদা আকাশের ভক্ত ছোট ভাই আদিদেব!
অগ্নিদেব ও সুদীপার ছোট ছেলে আদিদেবের কাছে তার বড় দাদা আকাশই হলো সব। তাঁদের দুই ভাইয়ের সম্পর্কও দারুণ মিষ্টি। আদিদেব তার দাদা আকাশের কথা ছাড়া আর কোনো কথাই শুনতে চায় না। এমনকি নিজের বাবার চেয়েও বড় দাদার ওপর বেশি ভরসা ছোট আদির।
অতীতের সমস্ত অভিমান আর দূরত্বকে দূরে সরিয়ে দিয়ে আজ আকাশ, আদিদেব, অগ্নিদেব এবং সুদীপাকে নিয়ে গড়ে উঠেছে এক আদর্শ ও সুখী পরিবার। আকাশের জন্মদিনে সুদীপার এই পোস্টটি প্রমাণ করে দিল যে, রক্তের সম্পর্ক না হলেও কেবল ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্মান দিয়ে একটা সুন্দর মাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


